নতুন ত্রিপুরা রাজ্যের সব জাতি -জনজাতি গোষ্ঠীকে নিয়েই গড়ে তুলতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জানুয়ারি ১১, : সংস্কৃতি আমাদের অলংকার। সংস্কৃতিকে নিয়ে আমাদের বাঁচতে হবে। সংস্কৃতিকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। ১০ জানুয়ারি উত্তর ত্রিপুরা জেলার দামছড়ার নরেন্দ্রনগরস্থিত পাইথো মাঠে অনুষ্ঠিত হালাম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান এবং ঐতিহ্যবাহী 'চড়েই খাম্বার উৎসবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা:) মানিক সাহা। ইয়ং চড়াই অ্যাসোসিয়েশন এর উদ্যেগে আয়োজিত এই উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আক্ট ইস্ট পলিসি নিয়ে কাজ করার ফলে উত্তর পূর্বাঞ্চল এগিয়ে গেছে। এই অঞ্চলে শান্তির পরিবেশ ফিরে এসেছে। আমরা সবাই মানুষ। আমাদের এর চেয়ে বড় পরিচয় আর কিছু নেই। সবাইকে নিয়েই আমাদের একতা গড়ে তুলতে হবে। নতুন ত্রিপুরা রাজ্যের সব জাতি -জনজাতি গোষ্ঠীকে নিয়েই গড়ে ভুলতে হবে। বর্তমান সরকার ত্রিপুরার সবগুলি জনজাতি গোষ্ঠীকে মর্যাদা দিচ্ছে। পদ্মশ্রী পুরস্কারের মধ্যদিয়ে তাদের মেধার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনজাতিদের উন্নয়নে কেন্দ্র এবং রাজ্যের বর্তমান সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাজ্যে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পর জনজাতি গোষ্ঠীর সমাজপতিদের সাম্মানিক ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু হয়। প্রথমে প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা করে সান্মানিক ভাতা দেওয়ার পর এই পরিমান বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। কেন্দ্রের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা যাতে সবার কাছে গিয়ে পৌঁছায় সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে ৭০০-র মত বিভিন্ন জনজাতি গোষ্ঠী রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তাদের প্রত্যেকের উন্নয়নে কোন না কোন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, রাজ্য বাজেটের একটি বিরাট অংশ জনজাতিদের উন্নয়নের জন্য ব্যয় হচ্ছে। স্বচ্ছতার মাধ্যমে সমস্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে শান্তির বাতাবরণ রয়েছে বলেই নিতি আয়োগ ত্রিপুরার ভূয়সী প্রশংসা করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মানুষকে অন্ধকারের দিক থেকে আলোর দিকে নিয়ে যায়। জনজাতিদের উন্নয়ন না হলে ত্রিপুরা এগিয়ে যেতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই দৃষ্টি ভঙ্গি বারবার ব্যক্ত করেছেন। আগে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে উগ্রপন্থী সমস্যা বড় আকারে ছিল। এখন সেই সমস্যা দূর করে উত্তর পূর্বাঞ্চল সমান ভাবে দেশের অন্য অঞ্চলের রাজ্যগুলির সঙ্গে এগিয়ে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গঠন করার ডাক দিয়েছেন। রাজ্য এই সময়ের মধ্যে বিকশিত ত্রিপুরা গড়ে তোলার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়, উত্তর ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, বিধায়ক যাদব লাল দেবনাথ, সমাজসেবী পূর্ণ মানিক চড়াই, সমাজসেবী কাজল কুমার দাস, সমাজসেবী বিবেকানন্দ দাশ প্রমূখ।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.