পিএম ডিভাইন প্রকল্পে ২৭.৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্য সরকার একটি সমন্বিত আগর উড ক্লাস্টার গড়ে তুলছে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জানুয়ারি ৯, : পিএম ডিভাইন প্রকল্পে ২৭.৪২ কোটি টাকা ব্যয়ে রাজ্য সরকার একটি সমন্বিত আগর উড ক্লাস্টার গড়ে তুলছে। এর মধ্যে থাকবে নার্সারি, প্ল্যান্টেশন, ডিস্টিলেশনের সুবিধা এবং এই শিল্পে দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। এই ক্লাস্টারটি তৈরী হলে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষ উপকৃত হবেন। বিশেষভাবে উপকৃত হবেন রাজ্যের নারী ও যুব সমাজ। ৮ জানুয়ারি প্রজ্ঞাভবনে দুদিনব্যাপী পঞ্চম আন্তর্জাতিক আগর উড কনক্লেভ ও ক্রেতা বিক্রেতা বৈঠকের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা নামটির সঙ্গে আগর গাছ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এক সময়ে এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে আগর গাছ ছিল। ত্রিপুরা রাজ পরিবার এই গাছগুলির নাম অনুসারে আগরতলার নামকরণ করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিভিন্ন সময়ে সাক্ষাত করতে গেলে তিনি রাজ্যের আগর গাছ চাষ সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। প্রধানমন্ত্রী উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে অষ্টলক্ষ্মী নাম দিয়েছেন। সারা দেশে আগর গাছের প্রায় ৯৬ শতাংশ উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলিতে রয়েছে। ত্রিপুরা ইতিমধ্যেই ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম আগর গাছ উৎপাদক রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। রাজ্যে বর্তমানে প্রায় দেড় কোটি আগর গাছ রয়েছে। তিনি বলেন, ধর্মনগরের কদমতলায় আগর গাছের বাজার তৈরী করার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সেখানে ক্রেতা ও বিক্রেতাগণ আগর গাছ বেচা কেনা করতে পারবেন। উত্তরপূর্ব কাউন্সিলের ১৫ কোটি টাকায় আগর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও গবেষণা কেন্দ্র অদূর ভবিষ্যতে গবেষণা ও বাণিজ্যের মিলনস্থল হয়ে উঠবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রপ্তানীকারকদের জন্য একটি সিঙ্গেল উইন্ডো অনলাইন প্লাটফর্ম গড়ে তুলতে রাজ্য সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাজ করছে। এই কনক্লেভে আসা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রতিনিধিদের মুখ্যমন্ত্রী স্বাগত জানান। তিনি আগর চাষিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, রাজ্য সরকার সবসময়ই তাদের পাশে রয়েছে। রাজ্যে শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসারে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা রূপায়ণ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন সবার জন্য সমৃদ্ধি পরিকল্পনা রূপায়ণের ক্ষেত্রে আগর গাছের চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ত্রিপুরা আগর উড দেশের আগর বাণিজ্যের এক সময় নেতৃত্ব দেবে। রাজ্যের অন্যতম সম্পদ হল আগর। আগর হল রাজ্যের একটা রাজকীয় প্রতীক। মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন রাজ্য ও দেশের বাইরে থেকে আসা প্রতিনিধিদের রাজ্যের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে রাজ্যের বিভিন্ন স্থান পরিভ্রমণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা বলেন, ত্রিপুরার আবহাওয়া আগর চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত। রাজ্যের মানুষদের আগর চাষে আরও উৎসাহিত করতে হবে। আগর চাষে বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। রাজ্যে আগর শিল্প স্থাপনে সরকার সব ধরণের সহযোগিতা করবে। বনমন্ত্রী রাজ্যের কাচামালকে ব্যবহার করে আগরভিত্তিক বিভিন্ন উৎপাদনের উপর জোর দিতে বলেন এবং রাজ্যের বাইরের আগর ব্যবসায়ীদের এক্ষেত্রে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।

সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ভাষণ দেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের ফরেন ট্রেড বিভাগের ডিজি শ্রীভরানি, পিএম ডিভাইন এবং নেরামেক-র যুগ্ম সচিব অংশুমান দে, পিসিসিএফ আর কে শ্যামল, ভারত সরকারের পরিবেশ ও বন দপ্তরের বিশেষ সচিব সুশীল কুমার আশস্তী। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স-র রিজিওন্যাল ডিরেক্টর ঈশান্তর শোভাপন্ডিত। মুখ্যমন্ত্রী, বনমন্ত্রী সহ অন্যান্য অতিথিরা প্রজ্ঞাভবনের বাইরে আগর থেকে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের স্টল ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.