আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতির পাঠ দানে পিলাক মুখ্য ভূমিকা নেবে : রাজ্যপাল
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, জানুয়ারি ৮, : ৭ জানুয়ারি পশ্চিম পিলাক দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু তিনদিনব্যাপী পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধকের ভাষণে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু বলেন, পিলাক শুধু একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নয়, পিলাক হলো হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের মিলনস্থল। আগামী প্রজন্মকে ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতির পাঠ দানে পিলাক মুখ্য ভূমিকা নেবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম সংস্কৃতি বিনিময়ের কেন্দ্র এই পিলাক। পিলাক মেলা প্রত্ন ও পর্যটনের ঐতিহ্য বহন করে। রাজ্যপাল বলেন, বিদেশ থেকেও এখানে অনেক পর্যটক আসেন। এতে করে গ্রামের মানুষের আর্থিক উন্নতি হবে। হস্তকারু শিল্প সামগ্রীর উৎপাদন বাড়ানোর পরামর্শ দেন রাজ্যপাল। রাজ্যপাল আরও বলেন, দোকান খোলা আর বেচা কেনার জন্য মেলা নয়, মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করা, পরিবেশ বান্ধব করা, খেলাধুলায় উৎসাহ দান, সর্বোপরি মানুষকে স্বরোজগারি করে তোলা এবং রাজ্যের উন্নয়ন তথ্য তুলে ধরা মেলার অন্যতম উদ্দেশ্য। রাজ্যপালকে পিলাক স্মারক ও সূর্যমূর্তি দিয়ে স্বাগত জানান সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
সম্মানিত অতিথির ভাষণে সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসব সারা রাজ্যবাসীর গর্বের উৎসব। জাতি ও জনজাতির সাংস্কৃতিক মিলনস্থল এই উৎসব। রাজ্যের শিল্পীদের সঙ্গে বহির্রাজ্যের শিল্পীরাও এই উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। এতে সংস্কৃতির বিকাশ হয়। পিলাক হলো সংস্কৃতি ও পর্যটনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঠিকানা তাই রাজ্য সরকার ও ভারত সরকারের আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় পিলাক পর্যটন কেন্দ্রকে আকর্ষণীয় করে তোলা হবে। সেই সঙ্গে পিলাক পর্যটন আবাসকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক মাইলায়ু মগ, দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি দীপক দত্ত। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক মহ: সাজ্জাদ পি। সভাপতিত্ব করেন জোলাইবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবী দীপায়ন চৌধুরী ও বিশিষ্ট সমাজসেবী শম্ভু মানিক প্রমুখ। পিলাক প্রত্ন ও পর্যটন উৎসবে ২০টি সরকারি দপ্তর উন্নয়ন তথ্য তুলে ধরে প্রদর্শনী মন্ডপ খুলেছে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর ও জোলাইবাড়ি ব্লক ও জেলা কমিটির উদ্যোগে তিনদিনব্যাপী উৎসবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন...