প্রকৃতি এবং মানুষ এক হয়ে এখানে জীবিকার এক সহজ পথ খুঁজে পাবেন : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলা, জানুয়ারি ৬, : রাজ্যের বর্তমান সরকার উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনও ধরণের রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেয়না। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থানের ব্যবস্থা সবার জন্যই সমানভাবে করা হচ্ছে। কে কোন রাজনীতি করেন তা দেখে এই সমস্ত সুযোগ সুবিধা ঠিক হয়না। ৫ জানুয়ারি জিরানীয়ার শচীন্দ্রনগরে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের স্বদেশ দর্শন ২.০ এর আওতায় নির্মাণ প্রকল্প ‘ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী গ্রাম ও সংগীত অভিজ্ঞতার উন্নয়ন'-র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এবং কোলকাতার নিকো পার্কের আদলে বিনোদন পার্ক স্থাপনের ভূমি পূজন ও শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, আজ যে দুটি প্রকল্পের শিলান্যাস হয়েছে এগুলি ত্রিপুরার পর্যটনক্ষেত্রের উন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে এগুলি হবে দৃষ্টান্তমূলক প্রকল্প। এগুলির মাধ্যমে বিশ্বের মানচিত্রে ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পের পরিচিতি আরও ব্যাপকতা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাজ্যের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময়ই ইতিবাচক মনোভাব নিচ্ছেন বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন প্রধানমন্ত্রী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে রাখায় রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রাম ও সংগীত অভিজ্ঞতার উন্নয়ন প্রকল্পটি কার্যকর হলে এই স্থানে আগামী দিনে স্থানীয় তাঁতশিল্পীগণ তাদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের প্রচার ও সংরক্ষণের সুযোগ পাবেন। বিদেশী পর্যটকদের সংস্পর্শে এসে তাদের শিল্পের বিকাশ হবে অতুলনীয়। এছাড়াও পর্যটকদের জন্য ত্রিপুরার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এক বিশেষ সুযোগ সৃষ্টি হবে। এই স্থানটিতে থাকবে ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প প্রদর্শনীর লাইভ শো, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্থানীয় খাবার ও ঐতিহ্যবাহী নানা পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রয় কেন্দ্র। তিনি বলেন, এতে যে শুধুমাত্র রাজ্যের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন হবে তাই নয়, স্থানীয় এলাকার মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে। প্রকৃতি এবং মানুষ এক হয়ে এখানে জীবিকার এক সহজ পথ খুঁজে পাবেন। সেইসাথে শুধুমাত্র সর্বভারতীয় নয় পৃথিবীর মানচিত্রে স্থান করে নেবে শচীন্দ্রনগর। এতে করে রাজ্যের জনগণের সঙ্গে সর্বভারতীয় ও বহিঃবিশ্বের পর্যটকদের সম্পর্ক যেমন সুদৃঢ় হবে তেমনি ত্রিপুরার অর্থনৈতিক বুনিয়াদও শক্তিশালী হবে।

অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, এই দুটি প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০৬ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ৩৫ একর জমিতে এই দুটি প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল ত্রিপুরাকে উত্তরপূর্ব ভারতের মধ্যে শিল্প ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ত্রিপুরার ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে রাজধানী ও এর আশপাশ এলাকাকে একটি হেরিটেজ হাব হিসেবে উন্নীত করা হবে। তিনি বলেন, রাজ্যে অনেক জনজাতি গোষ্ঠীর বসবাস তাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব সাংস্কৃতিক রীতি ও প্রথা রয়েছে। এই সমস্ত রীতি ও প্রথা এই হাবে তুলে ধরা হবে। তিনি এই কর্মসূচি বাস্তবায়ণে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পর্যটন দপ্তরের সচিব ইউ কে চাকমা। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন দপ্তরের অধিকর্তা প্রশান্ত বাদল নেগি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জিরানীয়া পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান প্রীতম দেবনাথ, অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিত শীল, জিরানীয়া বিএসি'র চেয়ারম্যান শোভামনি দেববর্মা, জিরানীয়া নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারপার্সন রতন কুমার দাস, বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌরাঙ্গ ভৌমিক, রঞ্জিত রায় চৌধুরী প্রমুখ।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.