গরিব অংশের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে প্রাণীসম্পদ বিকাশ, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তর কাজ করছে : মৎস্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, নভেম্বর ২৮, : গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে তপশিলি জাতি কল্যাণ, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে চলেছে। এই তিন দপ্তর দিনরাত কাজ করে চলেছে গরিব অংশের মানুষ, যারা গ্রামে বসবাস করে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে। ফটিকরায়ের নজরুল কলাকেন্দ্রে এই দপ্তরগুলির যৌথ উদ্যোগে ঊনকোটি জেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের মধ্যে সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে ২৭ নভেম্বর একথা বলেন তপশিলি জাতি কল্যাণ, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মৎস্য ও প্রাণীপালনের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার মানুষের রোজগারকে বৃদ্ধি করতে জোর দিয়েছেন। ঊনকোটি জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মৎস্য ও প্রাণীপালনে যুক্ত চাষিরা ও তপশিলি জাতি কল্য্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে সুবিধাভোগী সহ এস.সি. হোস্টেলের ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমারঘাট পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সুমতি দাস।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, মাংস উৎপাদনে আমরা চাহিদার চাইতে উদ্বৃত্ত উৎপাদন করছি। কিন্তু ডিম, দুধ ও মাছ উৎপাদনে আমাদের এখানে কিছু ঘাটতি রয়েছে। ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রাণীপালক সম্মাননিধির মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ থেকে প্রাণীপালকদের বছরে ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্পে চলতি অর্থবর্ষে ৫ হাজার প্রাণীপালককে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তেমনি গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগী ইত্যাদি গৃহপালিত পশুপাখির দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হলে দপ্তর থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি মৎস্যচাষিদের বিভিন্ন প্রকল্পে মাছের পোনা, খাদ্য, মাছচাষের সরঞ্জাম ও বিজ্ঞান সম্মত মাছচাষের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। মৎস্যচাষিদের জন্যও মৎস্য সহায়তা যোজনায় বছরে ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্যমন্ত্রী সুধাংশু দাস আরও বলেন, তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে ও তপশিলিভুক্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপে ষষ্ঠ থেকে দশম এবং পোস্ট-মেট্রিক স্কলারশিপে দ্বাদশ থেকে মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে পেশাদারি কোর্সে পড়ার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করে সুবিধা নিতে তপশিলিভুক্ত ছাত্রছাত্রীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সচিব দীপা ডি. নায়ার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মৎস্য দপ্তরের উপঅধিকর্তা তাবেন্দ্র দেববর্মা। উপস্থিত ছিলেন ঊনকোটি জিলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সন্তোষ ধর, কুমারঘাট বি.এ.সি.-র চেয়ারম্যান তপনজয় রিয়াং, প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা ড. নীরজ কে চঞ্চল, মৎস্য দপ্তরের অধিকর্তা সন্তোষ দাস, জেলাশাসক ড. তমাল মজুমদার প্রমুখ। অতিথিগণ সুবিধাভোগীদের হাতে মাছ ধরার জাল, আইস বক্স, কে.সি.সি. ঋণের অনুমোদনপত্র, পুকুর সংস্কারের আর্থিক সহায়তা, হাঁসের ছানা, প্রাণীপালক সম্মাননিধির আর্থিক সহায়তা, কাফ গ্রোথ মিলের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান সহ জেলার ৪টি বিদ্যালয়ের এস.সি. বালক ও বালিকা হোস্টেলে ক্রীড়া সামগ্রী প্রদান করেন।
আরও পড়ুন...