ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিকীকরণের মাধ্যমেই স্মার্ট সিটি গড়ে তুলতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, আগষ্ট ৩০, : রাজ্যের ঐতিহ্যকে রক্ষা করার আগ্রহ থাকতে হবে। ইতিহাস জানতে হবে। ইতিহাস জেনে ঐতিহ্যকে রক্ষা করতে হবে। ইতিহাস কোনও দিন মুছে ফেলা যায় না। ২৯ আগস্ট আগরতলা পুরনিগমের ২০ নং ওয়ার্ডের থানা রোড সংলগ্ন পাড়াসুন্দরী মন্দিরের নবনির্মিত মন্দির গৃহের উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, নাস্তিকরা একটা সময় রাজ্যে সনাতনী ধর্মীয় ঐতিহ্যকে অবহেলা করেছিলো। বর্তমান সরকার বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থান, ধর্মীয় স্থানগুলিকে রক্ষা করার দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছে। সেই কাজের দৃষ্টান্ত হলো আগরতলা পশ্চিম থানা সংলগ্ন পাড়াসুন্দরী কালীমন্দির।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করার দায়িত্ব না নিলে অনেক ইতিহাসের চিহ্ন মুছে যেতে পারে। যেমন এই পাড়াসুন্দরী মন্দির এবং আগরতলা শহরের জিরো পয়েন্ট। অতীতে সরকারি অবহেলার কারণে এগুলি হারিয়ে যাচ্ছিলো। বর্তমান রাজ্য সরকার এসব স্থানগুলি আবার উদ্ধার করছে এবং পুন:স্থাপন করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভগবানকে বিশ্বাস করলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে, তবেই ভালো ফল পাওয়া যায়। ভগবানের সৃষ্টির কারণেই আমরা মানুষ রূপে জন্ম নিতে পেরেছি। মা বাবাকে শ্রদ্ধা করে কাজ করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। ভগবানের মতো মা বাবাকেও শ্রদ্ধার সঙ্গে সব সময় স্মরণে রাখতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরই ধর্মীয় স্থানগুলি রক্ষায় গুরুত্ব দিয়েছেন। মনে রাখতে হবে সনাতনী ধর্ম আছে বলে ভারতীয় সভ্যতা এখনও মুছে যায়নি। মুখ্যমন্ত্রী আগরতলা শহরের ইতিহাস আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এক সময় আজকের যে পাড়াসুন্দরী মন্দির সেখানে একটি শ্মশানঘাট ছিলো। রাজ আমল থেকে এই মন্দিরের ইতিহাস জড়িত। সেই ঈশানচন্দ্র মাণিক্যের আমল থেকে। নাস্তিকদের কারণে রাজন্য আমলের অনেক ইতিহাস অবহেলিত হয়েছে। বর্তমান সরকার সেইগুলি পুনরুদ্ধার ও প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করছে। ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি আগরতলা শহরকে স্মার্ট সিটি বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্য সরকার কাজ করে চলেছে। এক্ষেত্রে নাগরিকদেরও একটা বড় ভূমিকা রয়ে গেছে। শহরের ড্রেনে আবর্জনা ফেলা, ড্রেনের উপর ফুটপাত দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা বা বিভিন্ন সরকারি জায়গা দখল করে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্মার্ট সিটির মধ্যে শুধু দালান বাড়ি বানালেই হবে না শহরের ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিকীকরণের মাধ্যমেই স্মার্ট সিটি গড়ে তুলতে হবে। সরকারি ব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিতে হবে নাগরিকদের। সরকারের পাশাপাশি যদি শহরের নাগরিকরা এগিয়ে আসেন তাহলে সত্যিকারেই আগরতলা হবে সুন্দর পরিকল্পনা মাফিক এক স্মার্ট সিটি। বর্তমানে রাজ্যের বাইরে অন্যান্য রাজ্যের মানুষেরাও ত্রিপুরার আগরতলা সহ বিভিন্ন স্থানের উন্নয়ন সম্পর্কে রাজ্যে এসে প্রশংসা করে যাচ্ছেন। শহরকে সুন্দর রাখতে হলে সরকারকে ও প্রশাসনের কাজের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। মানসিকভাবে উন্নত হতে হলে আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষ ঘটাতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে ভারত যেমন প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় যে কোনও দেশকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। আর্থিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধ করে বিশ্বের উচ্চস্থানে নিয়ে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যকে গ্রামীণ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে বিকশিত ত্রিপুরা গড়ার প্রয়াস নিয়েছে। ২০১৮ সালের পর থেকে ত্রিপুরা জি.ডি.পি.-র হারের ক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে আসামের পরই দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজ্যে বিগত কয়েক বছরে গ্রামীণ এলাকায় ১ লক্ষ ৮ হাজার লাখপতি দিদি তৈরি হয়েছে। সরকারের মূলমন্ত্র সবকা সাথ সবকা বিকাশ। সরকার সে পথেই উন্নয়নের দিশায় চলছে।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি আগরতলা পুরনিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার বলেন, আগরতলা মানুষের চাহিদা অনুসারে আগরতলা পুরনিগম কাজ করছে। পানীয়জলের ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ধরনের উন্নয়নে কাজ করছে। বিগত কয়েক বছরে যেখানে জলের পাইপলাইন নেই সেখানে জলের পাইপলাইন পাতা হয়েছে। পুরনিগম বা সরকার সম্পদ সৃষ্টি করছে। কিন্তু তা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নাগরিকদের নিতে হবে। মানুষের সহযোগিতার মধ্য দিয়েই কাজের মধ্য দিয়ে আগরতলা শহরকে স্মার্ট সিটি বানানো হবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের ২০ নং ওয়ার্ডের কর্পোরেটর তথা পুরনিগমের সেন্ট্রাল জোনের চেয়ারপার্সন রত্না দত্ত। উপস্থিত ছিলেন পাড়াসুন্দরী কালী মন্দিরের মহারাজ বা পুরোহিত সমাধি বন্ধু ব্রহ্মচারী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আগরতলা পুরনিগমের সি.ই.ও. দিলীপ কুমার চাকমা। পাড়াসুন্দরী মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করতে আগরতলা পুরনিগম থেকে ব্যয় হয়েছে ১৭ লক্ষ টাকা। মন্দিরে মুখ্যমন্ত্রী পূজা অর্চনাও করেন।
আরও পড়ুন...