Hare to Whatsapp
তপশিলী জাতিভুক্ত জনগণের আর্থিক মনোন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে : মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, এপ্রিল ৩০, : কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে তপশিলী জাতিভুক্ত জনগণের আর্থিক মনোন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে। এক্ষেত্রে তপশিলী জাতি কল্যাণ দপ্তরকে বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে পরিকল্পনা রূপায়ণে উদ্যোগী হতে হবে। ২৯ এপ্রিল সচিবালয়ের ২ নং সভাকক্ষে তপশিলী জাতি কল্যাণ দপ্তরের পর্যলোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। সভায় তপশিলী জাতি কল্যাণ দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের পর্যলোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী (ডা.) সাহা বলেন, তপশিলী জাতিভুক্ত দিব্যাঙ্গজনদের চিহ্নিত করে তাদের সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা প্রদানে দপ্তরকে আরও আন্তরিক হতে হবে। প্রি-মেট্রিক ও পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও ছাত্রছাত্রী যাতে বঞ্চিত না হয় সে বিষয়েও দপ্তরকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে। সভায় তপশিলী জাতি অংশের মানুষ বেশি বসবাস করেন এমন ৩২টি আদর্শ গ্রামে এখন পর্যন্ত কি কি কর্মসূচি রূপায়ণ করা হয়েছে সে বিষয়েও বিস্তারিত খোঁজখরব নেন মুখ্যমন্ত্রী।
সভায় তপশিলী জাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব অভিষেক চন্দ্রা জানান, রাজ্যে বর্তমানে তপশিলী জাতিভুক্ত লোকসংখ্যা রয়েছেন ৬ লক্ষ ৫৪ হাজার ৯১৮ জন। যা রাজ্যের মোট জনসংখ্যার ১৭.৮ শতাংশ। রাজ্যে তপশিলী জাতি অধ্যুষিত বসতি রয়েছে ৪০৪টি। রাজ্য সরকার ৩২টি এসসি অধ্যুষিত গ্রামকে আদর্শ গ্রাম হিসেবে ঘোষণা করেছে। সেই গ্রামগুলিতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি রূপায়ণ করা হচ্ছে। সচিব জানান, তপশিলী জাতি কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ এই পাঁচটি অর্থবর্ষে ৩৯ হাজার ৪৫৫ জন তপশিলী জাতিভুক্ত ছাত্রছাত্রীকে প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপ (নবম ও দশম শ্রেণী) প্রদান করা হয়েছে। তাতে মোট ব্যয় হয়েছে ১১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। এছাড়াও রাজ্য প্রকল্পে ঐ পাঁচ অর্থবর্ষে প্রি-মেট্রিক স্কলারশিপ (ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী) প্রদান করা হয়েছে ৯২ হাজার ৬৩৭ জন ছাত্রছাত্রীকে।
সচিব জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ এই পাঁচ অর্থবর্ষে ৮৫ হাজার ৩০৫ জন ছাত্রছাত্রীকে পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ২২ হাজার ৯০০ জনকে পোস্ট মেট্রিক স্কলারশিপ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দপ্তর।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী অনুসূচিত জাতি অভ্যুদয় যোজনায় (পিএম-অজয়) ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের ১৬১টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এই প্রকল্পে গত পাঁচ বছরে ৫০ হাজার ৯৯৫ জন সুবিধাভোগীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও 2023-24 অর্থবর্ষে ২৩ হাজার ৩০০ জনের রোজগার সৃষ্টির লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সচিব জানান, দপ্তরের মাধ্যমে গত পাঁচ বছরে ৪৬৮৭ জনকে বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি অর্থবর্ষে ২০৯২ জনকে দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাবু জগজীবনরাম ছাত্রাবাস যোজনায় 2023-2৪ অর্থবর্ষে ৩টি ছাত্রাবাস নির্মাণেরও লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে দপ্তর।
সচিব জানান, রাজ্য সরকারের প্রকল্পে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ৩০ হাজার ৮৩৭ জন ছাত্রছাত্রীকে ড. বি আর আম্বেদকর মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে। এরমধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে মেরিট অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে ৯৩৩২ জনকে। তিনি জানান, গত বছর ১০২৬ জন ছাত্রছাত্রীকে বোর্ডিং হাউস স্টাইপেন্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও গত পাঁচ বছরে ৯৩৫২ জন সুবিধাভোগীকে মুখ্যমন্ত্রী স্বনির্ভর পরিবার যোজনায় বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। সচিব জানান, তপশিলী জাতিভুক্ত ৬৪৫৯ জন সুবিধাভোগীকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ২০১৮-১৯ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট নিগমগুলি থেকে মোট ৫৬ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে।
পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও তপশিলী জাতি কল্যাণমন্ত্রী সুধাংশু দাস, মুখ্যসচিব জে কে সিনহা, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব ড. প্রদীপ চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন এবং আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।