Hare to Whatsapp
জীবনের সর্বোচ্চ মহোৎসব হচ্ছে রক্তদান : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, মার্চ ২৭, : জীবনের সর্বোচ্চ মহোৎসব হচ্ছে রক্তদান। একজন রক্তাদাতা রক্তদানের মাধ্যমে শুধু একজন মুমূর্ষু মানুষের জীবনই বাঁচাতে পারেন না, রক্ত পৃথকীকরণের মাধ্যমে আরও তিন চারজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারেন। বিধানসভা নির্বাচনের কারণে রক্তের ঘাটতি দেখা দিলেও বর্তমানে স্বেচ্ছা রক্তদানের ক্ষেত্রে জনজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। ২৬ মার্চ আগরতলা শহরে ৫টি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা উপরোক্ত কথাগুলি বলেন। প্রতিটি রক্তদান শিবিরেই মুখ্যমন্ত্রী রক্তদাতাদের সাথে মিলিত হয়ে তাদের উৎসাহিত করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্তের কোনও ধর্ম নেই, জাত নেই, লিঙ্গ নেই। রক্তদান আমাদের মনে করিয়ে দেয় আমরা সবাই এক। তিনি বলেন, আমরা মানুষের জন্য যদি কিছু করতে পারি তবেই জীবন স্বার্থক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজকে মন-কি-বাত অনুষ্ঠানে অঙ্গদানের যে আহ্বান জানিয়েছেন সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়েও আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রতিটি রক্তদান শিবিরে জনগণের স্বেচ্ছা রক্তদানের জন্য রক্তাদাতাদের মুখ্যমন্ত্রী অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রক্ত ছাড়া জীবনের কোনও অস্তিত্বই নেই। ভগবানেরই এই আশ্বর্য সৃষ্টি হচ্ছে মানুষ। কিন্তু নাস্তিকেরা ঈশ্বরকে বিশ্বাস করেন না। তারা মুখোশ পড়ে ঈশ্বরের নামে বিজ্ঞানের কথা বলেন। রক্তদানের পাশাপাশি এ রাজ্যকে নেশামুক্ত রাজ্য গড়ে তোলারও আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে টিআরটিসি কমপ্লেক্সে বিলোনীয়া টুগেদারনেস আয়োজিত রক্তদান শিবিরে অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, টিআরটিসির চেয়ারম্যান অভিজিৎ দেব, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এস সি দাস প্রমুখ।
এরপর মুখ্যমন্ত্রী আইএমএ হাউসে রোটারেক্ট ক্লাব আয়োজিত রক্তদান শিবিরে অংশ নেন। তিনি রক্তদাতাদের সাথে মিলিত হয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসাহ দান করেন। সংক্ষিপ্ত ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী রোটারি ক্লাবের কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর রক্তদানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে রক্তদান শিবির আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি রক্তদানের সার্থকতা এবং মানবিক ধর্ম পালনের কথা তুলে ধরেন। এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সম্পাদক স্বামী শুভকরানন্দজী। উপস্থিত ছিলেন রোটারেক্ট ক্লাবের সভাপতি ডা. শুভঙ্কর পাল, আইএমএ'র সভাপতি ডা. দামোদর চ্যাটার্জি এবং ডা. অচিন্ত্য ভট্টাচার্য। তৃতীয় রক্তদান শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয় উজ্জয়ন্ত মার্কেটে, লায়ন্স ক্লাব আগরতলা শাখার উদ্যোগে। এই শিবিরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি জয়ন্ত মজুমদার, অ্যাডমিনিস্টেটর ডা. এস কে ধর প্রমুখ।
অপর রক্তদান শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয় নেতাজী সুভাষ বিদ্যানিকেতন প্রাঙ্গণে৷ ৮ নং বড়দোয়ালী মন্ডল আয়োজিত মেগা স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রক্তদাতা রক্তদান করেন। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা, পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ নিগমের কর্পোরেটরগণ এই শিবির উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীকে স্মারক তুলে দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী মন-কি-বাত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। আলোচনাকালে রক্তদানের জনজোয়ারকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে উপস্থিত সকলের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ার কাজে সকলকে আত্মনিয়োগ করার আবেদন জানিয়েছেন। তবেই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত শ্রেষ্ঠ ভারত গড়ে তোলা সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
শহরের ৫ম রক্তদান শিবিরটি অনুষ্ঠিত হয় ৭ রামনগর মন্ডলের উদ্যোগে এবং বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের বাসভবনে। এই মেগা স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরে প্রায় দেড় শতাধিক স্বেচ্ছা রক্তদাতা রক্তদান করেন। এই উপলক্ষে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা, মেয়র দীপক মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজসেবী রাজীব ভট্ট াচার্য প্রমুখ৷ উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তী, সুরজিৎ দত্ত এবং নিগমের কর্পোরেটরগণ। প্রতিটি স্বেচ্ছা রক্তদান শিবিরকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়েছে।