ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, এপ্রিল ৪, : ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেতে রাজ্য সরকারের নিরন্তর প্রয়াস জারি রয়েছে। রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের জন্য অত্যাধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এবারের রাজ্য বাজেটেও ক্রীড়াক্ষেত্রের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ আগরতলার বাধারঘাটস্থিত দশরথ দেব স্টেট স্পোর্টস কমপ্লেক্সে নবনির্মিত সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠ, সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, সিন্থেটিক হকি মাঠের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। উল্লেখ্য, রাজ্যের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব প্রয়াত দেবভক্তি জমাতিয়ার নামে সিন্থেটিক অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক, প্রয়াত স্বদেশ প্রিয় নন্দীর নামে সিন্থেটিক হকি মাঠ এবং প্রয়াত প্রতুল ভট্টাচার্য্যের নামে সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠকে উৎসর্গ করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের প্রতিভার বিকাশে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাযুক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিতে রাজ্য সরকার বদ্ধপরিকর। এজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে রাজ্যের সর্বত্র ক্রীড়া পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, অদম্য জেদ, ইচ্ছাশক্তি ও চেষ্টা থাকলে যেকোনও ক্ষেত্রে সাফল্য অবশ্যম্ভাবী। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে আমাদের রাজ্যের গর্ব পদ্মশ্রী অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার। তিনি বলেন, যুব সমাজকে নেশার আসক্তি থেকে দূরে রেখে সুস্থ সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে খেলাধুলা হচ্ছে অন্যতম মাধ্যম। কারণ সুস্থ মনই সুস্থ দেহ গঠনে সহায়ক।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রাক্তন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব যারা খেলাধুলার জগতে রাজ্যের সুনাম অর্জন করেছেন তাদের অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের যথাযথ সম্মানে রাজ্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। বিভিন্ন ক্রীড়া পরিকাঠামোসমূহ তাদের নামে উৎসর্গ করা হচ্ছে। রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব যথাক্রমে প্রয়াত দেবভক্তি জমাতিয়া, প্রয়াত স্বদেশ প্রিয় নন্দী এবং প্রয়াত প্রতুল ভট্টাচার্য্যের অবদানকে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্ৰী বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাদের অবদান অক্ষয় হয়ে থাকবে এবং ক্রীড়ামোদি মানুষের কাছে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াবিদদের সুবিধার্থে আগরতলার ভোলাগিরিতে উন্নত ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। এছাড়া মুখ্যমন্ত্রী খেলাধুলার ক্ষেত্রে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং রাজ্যের বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিদের সান্নিধ্যের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, রাজ্যের ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে অনেকগুলি সিন্থেটিক টার্ফ ফুটবল মাঠ সহ টেনিস কোর্ট, ফ্লাড লাইট, সুইমিং পুল, বাস্কেট বল কোর্ট, ইন্ডোর হল তৈরি করা হয়েছে। এরফলে রাজ্যের ছেলেমেয়েরা জাতীয়স্তরের খেলাধুলায় সাফল্য লাভ করছে। এবারের রাজ্য বাজেটেও রাজ্যে নতুন নতুন ক্রীড়া পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার শুধু ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নই নয়, রাজ্যের প্রাক্তন খেলোয়াড়দের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক মীনা রাণী সরকার, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের অধিকর্তা সত্যব্রত নাথ, পদ্মশ্রী অলিম্পিয়ান জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ যথাক্রমে প্রয়াত দেবভক্তি জমাতিয়া, প্রয়াত স্বদেশ প্ৰিয় নন্দী এবং প্রয়াত প্রতুল ভট্টাচার্য্যের পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। সংবর্ধনাস্বরূপ মুখ্যমন্ত্রী তাদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের খেলোয়াড়দের স্বার্থে দপ্তরের স্বাস্থ্য বীমার সূচনা করেন এবং কয়েকজন খেলোয়াড়ের হাতে বীমার কাগজপত্র তুলে দেন৷
আরও পড়ুন...