রাজ্যের পর্যটন শিল্প আগামী দিনে বিকল্প অর্থনীতির বুনিয়াদ হবে : পর্যটনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, এপ্রিল ২, : রাজ্যের পর্যটন শিল্প আগামী দিনে বিকল্প অর্থনীতির বুনিয়াদ হবে। এই শিল্পের মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বিকাশ ঘটবে। কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারের অর্থানুকুল্যে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আগামী ২ বছরের মধ্যে রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে একটি উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ১
এপ্রিল বিধানসভায় বিধায়ক রঞ্জিত দাস আনিত একটি বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী একথা বলেন। বেসরকারি প্রস্তাবটি ছিল — রাজ্যের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শনকারী পর্যটকদের সার্বিক সুবিধার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে এসব কেন্দ্রকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষনীয় করে গড়ে তুলতে এই সভা ত্রিপুরা সরকারকে অনুরোধ জানাচ্ছে'। প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বিধায়ক রঞ্জিত দাস পর্যটন শিল্পকে বেকারদের কর্মসংস্থানের জন্য আরও বেশি করে ব্যবহার করার উপর এবং পর্যটনস্থলগুলির সৌন্দর্য রক্ষায় আরও বেশি যত্নশীল হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।
বেসরকারি প্রস্তাবের উপর আলোচনায় পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বলেন, বিগত সরকারের নেতিবাচক ভূমিকায় রাজ্যে পর্যটন শিল্পে আশানুরূপ বিকাশ ঘটেনি। সেই সময় পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নতির জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের প্রায় ২২ কোটি ৯১ লক্ষ টাকা ফেরত গিয়েছিল। বর্তমানে রাজ্যের পর্যটন বাজেট প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ভারতবর্ষকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে পর্যটন শিল্পকে অবশ্যই গুরুত্ব দিতে হবে। বক্তব্য রাখতে গিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, প্রসাদ স্কিমে ত্রিপুরেশ্বরী মায়ের মন্দিরে উন্নয়নের কাজ আগামী কিছু দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে। চৌত্তাখলাস্থিত ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যানের উন্নয়নে ৪.৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে ১১টি বিভিন্ন পরিষেবার পরিকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদে লাইট এন্ড সাউন্ড শো চালু রয়েছে। তাছাড়া আগরতলা জগন্নাথ দিঘীতে ভারতবর্ষের দীর্ঘতম লেজার শো চালু করা হয়েছে। ওয়াটার ট্যুরিজমকে আরও প্রাধান্য দেওয়ার জন্য ৫০টি শব্দবিহীন বোট ক্রয় করা হবে। ইতিমধ্যেই পর্যটকদের সুবিধার্থে ৬৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২টি অত্যধুনিক আরমানিয়া বাস ক্রয় করা হয়েছে। অচিরেই রাজ্যে হোমস্টেকে আরও জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে রাজ্য সরকার একটি পলিসি আনবে। যদিও বর্তমানে রাজ্যে ৪০-৫০টি হোমস্টে রয়েছে। পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী আরও জানান, ২০১৩-২০১৮ এই সময়কালে রাজ্যে দেশী বিদেশী পর্যটকের সংখ্যা ছিল ২০ লক্ষের উপর। এই সময় আয় হয়েছিল ১৯ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা। ২০১৮ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ লক্ষের উপর। এই সময়ে আয় হয়েছে ৩১ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। পর্যটনমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বের দরবারে পৌছে দিতে বিভিন্ন উপায়ে প্রচার ও প্রসারের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আলোচনার পর বিধানসভায় বেসরকারি প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
আরও পড়ুন...