রাজ্য সরকার ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের সামগ্রিক বিকাশে সর্বদা যত্নশীল : মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদন
আগরতলা, ২৫ , : ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষার উন্নয়ন ও বিকাশে বর্তমান সরকার সচেষ্ট এবং যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল। রাজ্য সরকার ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষাভাষী সম্প্রদায়ের সামগ্রিক বিকাশে সর্বদা যত্নশীল। ২৪ মার্চ বিধানসভার দ্বিতীয়ার্ধে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের উপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। আলোচনার পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের প্রস্তাব আজ বিধানসভায় ধ্বনিভোটে গৃহীত হয়। বিরোধীদের আনা ছাঁটাই প্রস্তাবগুলি বাতিল হয়ে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বিরোধীদের আনা ছাঁটাই প্রস্তাবগুলির বিরোধিতা করে বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষার উন্নয়নে দপ্তরকে ২ কোটি ১৬ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ককবরক ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষার ছাত্রছাত্রীগণ যাতে নিজেদের মাতৃভাষায় পড়াশুনা করতে পারে, ভাষার বিকাশ এবং এসকল ভাষার পুস্তক প্রকাশের জন্য অর্থবরাদ্দ অত্যন্ত জরুরি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার স্থায়ী পদে লোক নিয়োগে সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীনে ২৫টি সাধারণ ডিগ্রি কলেজ, ৫টি প্রফেশনাল ডিগ্রি কলেজ, ৬টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, ১টি ডিগ্রি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং ৩টি এনসিসি ইউনিট রয়েছে। এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে অর্থ দপ্তরের অনুমোদনক্রমে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ৪৭৩ জন আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সাফাইকর্মী, নিরাপত্তারক্ষী, পাচক ইত্যাদি বিভিন্ন স্তরের কর্মী হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন। তাছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের অধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ৪১ জন গ্রুপ-সি এবং ১৩৭ জন এমটিএস (গ্রুপ-ডি) পদে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজ্যের বিভিন্ন কলেজে ১০১ জন সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ২০১টি পদে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। ২০০টি সহকারী অধ্যাপকের পদের জন্য অর্থ দপ্তর থেকে অনুমোদন পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৩টি সাধারণ সরকারি মহাবিদ্যালয়ের স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে ত্রিপুরা লোকসেবা আয়োগের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এসকল কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থ বরাদ্দ অত্যন্ত জরুরি।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের অতিরিক্ত ব্যয় বরাদ্দের দাবির উপর বিরোধীদের আনা ছাঁটাই প্রস্তাবগুলির বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, রাজ্যের বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। এই সরকার জবাবদিহির সরকার। খুব সুশৃঙ্খলভাবে অর্থ দপ্তর কাজ করে চলেছে।
ছাঁটাই প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় এবং বিধায়ক শৈলেন্দ্র চন্দ্ৰ নাথ।
আরও পড়ুন...