পাহাড় লাইনের বিকল্প রেলপথের দাবি জোরদার হচ্ছে

পান্নালাল রায়

July 26, 2025

বরাক উপত্যকা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্ষায় সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় সংকট বাড়ছে পণ্য ও যাত্রী পরিবহণে।বদরপুর-লামডিং পাহাড় লাইনের বিকল্প রেলপথ নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জোরদার হচ্ছে। বর্তমান সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নের পাশাপাশি বহু কথিত এবং বহু চর্চিত মহাসড়কের নির্মাণ কাজও দ্রুত শেষ করে তা চালু করার দাবি উঠছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষায় পর এই অঞ্চলে ব্রডগেজ লাইনে যখন প্রথম ট্রেন আসে তখন মানুষের চোখেমুখে যুগপৎ যে আশা ও আনন্দের ছবি দেখা গিয়েছিল তা যে বর্ষার মরশুমে শেষপর্যন্ত উদ্বেগ আর শঙ্কায় পরিণত হবে তা কে ভেবেছিল তখন!প্রথম প্রথম বর্ষায় নতুন ব্রডগেজ রেলপথে দুর্ভোগ মেনে নিলেও এখন স্পষ্টই ধারণা হচ্ছে বর্ষা মরশুমে বদরপুর-লামডিং রেলপথ প্রায় অনিশ্চিত।এই রেলপথ চালু হয়েছে এক দশক।নতুন ট্র্যাক,মাটি বসা-এ রকম সমস্যা এতদিনে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা।কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে প্রতি বর্ষা মরশুমে পাহাড়ে ধস নেমে এই রেলপথ বন্ধ হয়ে পড়ছে।রেলওয়ে বিভাগ থেকে অবশ্য দ্রুত ধস সরিয়ে ও অন্যান্য মেরামতি করে রেলপথ সচল করতে যথাসাধ্য উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।কিন্তু বর্ষায় ক'দিন পর পরই এ রকম ঘটছে।ধস নেমে রেলপথ বন্ধ হওয়ার ফলে একের পর এক ট্রেন যেমন বাতিল হচ্ছে,তেমনই কোনও স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের যাত্রীরাও হঠাৎ আটকে পড়ায় চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।ঘন্টার পর ঘন্টা কোথাও আটকে থাকছে ট্রেন।খাদ্য সহ জল-বিদ্যুতের অভাব, টয়লেটে দুরবস্হা- সব মিলিয়ে যাত্রীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ! কখনও বা স্হানীয় রেল কর্তৃপক্ষের উপর যাত্রীদের ক্ষোভ ঝরে পড়ছে।কার্যত পাহাড় লাইনে ভ্রমণ বর্ষায় যেন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।এ বছরও পাহাড় লাইনের রেল যাত্রীদের এ ধরণের বিরূপ অভিজ্ঞতার ব্যতিক্রম হয়নি।বরং এবার যেন তুলনায় দুর্ভোগ কিছুটা বেশিই মনে হচ্ছে।একবার ধস নেমে রেলপথ বন্ধ হচ্ছে, সেই ধস সরিয়ে ট্রেন চালুর কয়েক ঘন্টা পরেই আবার ধস! আবার গাড়ি আটকে পড়ছে।যাত্রীদের দুরবস্হার শেষ নেই। ২০২২ সালেও ভয়াবহ ধসের কবলে পড়েছিল পাহাড় লাইন। বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল হাফলং স্টেশন সহ রেলপথের বেশ কিছু এলাকা।এ বছরের চলতি জুলাই মাসেই বার কয়েক ধস নেমে বন্ধ হয়েছে এই রেলপথ।সার্বিক উদ্যোগ নিয়ে রেলওয়ে বিভাগ ধস সরিয়ে ও মেরামতি করে ট্রেন চলাচল চালু করলেও তা বর্ষায় স্হায়ী হবে এমন নিশ্চয়তা নেই।

এটা ঘটনা যে,সাম্প্রতিক কালে উত্তর পূর্বাঞ্চলে রেল সম্প্রসারণে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে। ২০১৫ সালে লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনে ব্রডগেজ চালুর পাশাপাশি কয়েক বছরের মধ্যে মণিপুর ও মিজোরামে রেল সংযোগ হয়েছে।২০১৬ সালে আগরতলায় ব্রডগেজ রেলপথ চালু হয়েছে। বর্তমানে মিজোরাম রাজধানী আইজলে পৌঁছে যাচ্ছে রেল। ব্রডগেজ চালু হবার পর এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আবার বর্ষায় যে এই রেল যোগাযোগ মুখ থুবড়ে পড়ছে এটাও ঘটনা! ব্রডগেজ চালুর পর শিলচর ও আগরতলার সঙ্গে অনেক দূরপাল্লার ট্রেন চালু হয়েছ।কলকাতা,দিল্লি সহ দেশের বড় বড় শহরের সঙ্গে রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে।এখান থেকে ট্রেনে চড়ে দেশের দূরদূরান্তে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে।কিন্তু বর্ষায় এই ট্রেন যাত্রা অনিশ্চিত। সঙ্গী দুর্ভোগ আর শঙ্কা।নিয়মিত এই অঞ্চলে নতুন নতুন দূরপাল্লার ট্রেন চালুর দাবি যেমন উঠছে, তেমনই এ বিষয়ে বেশ কিছু দাবি পূরণও হচ্ছে।চালু হচ্ছে নতুন নতুন দূরপাল্লার ট্রেন। কিন্তু এই রেল যোগাযোগ যদি সব আবহাওয়ায় উপযোগী না হয়,যদি বর্ষায় এই যোগাযোগ থমকে যায় তবে আর শেষপর্যন্ত কতটা লাভ হল? এই দৃষ্টিকোণ থেকেই আজ দ্রুত পাহাড় লাইনের বিকল্প রেলপথের দাবি উঠছে।

এ অঞ্চলে রেলপথ সম্প্রসারণে এসে যায় চা শিল্পের প্রসঙ্গ। মূলত বৃটিশ মালিকানাধীন চা শিল্পের প্রয়োজনেই ১৮৯১ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের মাধ্যমে এই অঞ্চলে রেল সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছিল।প্রথমে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৫০ কি.মি ট্র্যাক চালু হয়েছিল ১৮৯৫ সালে।তারপর ১৮৯৬ সাল থেকে ১৮৯৮ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা-আখাউড়া-কুলাউড়া-বদরপুর সেকশন চালু হয়।বদরপুরে প্রথম রেল স্টেশন হয় ১৮৯৮ সালে।শুধু আসামই নয়,দেশের মধ্যেই একটি পুরনো রেলস্টেশন বদরপুর।১৯০৩ সালে বদরপুর থেকে লামডিং পৌঁছে রেল। প্রায় কাছাকাছি সময়েই আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে অসমের বিভিন্ন এলাকায় রেলপথ নির্মাণের কাজ করে। বদরপুর-লামডিং রেলপথ অর্থাৎ পাহাড় লাইন চালু হবার ফলে শতবর্ষ আগেই এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছিল বলা যায়। এই অঞ্চলের চা শিল্পের সম্প্রসারণেও তা এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল সেদিন।পরিবহনের সুযোগ বাড়ায় সুযোগ বাড়ে বাজারের। পত্তন হতে থাকে নতুন নতুন চা বাগান।

এবার আসা যাক ব্রডগেজ রেলপথের কথায়। এই মিটারগেজ রেলপথ ব্রডগেজে রূপান্তরিত হতে হতে কেটে যায় শতাধিক বছর। উন্নয়নের অন্যান্য অনেক কিছুর মতো আমাদের উত্তর পূর্বাঞ্চলেও ব্রডগেজ এসেছে দেশের অন্যান্য অংশের পরে।প্রথমে ব্রডগেজ পৌঁছল নিউ বঙ্গাইগাঁও।গুয়াহাটি থেকে ট্রেন এসে থামত সেখানে।তারপর ব্রডগেজ লাইনের ট্রেনে ট্রানশিপমেন্ট।ট্রেনে উঠতে কত দৌড়ঝাঁপ। বিড়ম্বনার একশেষ আর কি! তারপর ব্রডগেজ পৌঁছে গেল গৌহাটি।গৌহাটি থেকে লামডিং। সমস্যার যে সুরাহা হয়ে গেল এমনটা কিন্তু নয়।এবার লামডিং গিয়ে ওঠো অন্য ট্রেনে।ঝামেলা তো সেই রয়েই গেল!তারপর একদিন শুরু হল পাহাড় লাইন,অর্থাৎ লামডিং-বদরপুর লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ।গভীর আগ্রহের সঙ্গে চলতে থাকল এই অঞ্চলের মানুষের অপেক্ষা।কিন্তু মাস যায়, বছর যায়,কাজ যেন আর এগোয় না! এ অঞ্চলের বিভিন্ন সংগঠন, নেতা-মন্ত্রীদের পক্ষে রেল মন্ত্রকের কাছে আবেদন নিবেদন চলতে থাকে।ব্রডগেজের কাজ দ্রুত শেষ করার দাবি উঠতে থাকে।কিন্তু সব ক্ষেত্রেই যেন আঠারো মাসে বছর! কখনও প্রাকৃতিক প্রতিকূল পরিস্থিতি,কখনও সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা,আবার কখনও আর্থিক অসঙ্গতি এই কাজের অন্তরায় বলে শোনা যায়। কখনও আবার ব্রডগেজের কাজে ট্রান্সপোর্ট লবির প্রচ্ছন্ন বিরোধিতার কথাও শোনা যায়।যাইহোক,২০১৪ সালের পর অবশ্য এই ব্রডগেজের কাজ নিঃসন্দেহে এক ভিন্ন মাত্রা পায়। ২০১৫ সালে চালু হয়ে যায় ব্রডগেজ।প্রথম যেদিন পরীক্ষামূলক ভাবে শিলচরে ব্রডগেজ লাইনে রেল ইঞ্জিন এসেছিল সাধারণ মানুষের সেদিনের উন্মাদনা ভোলার নয়।কিশোর থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ,লোকে লোকারণ্য ছিল রেল স্টেশন।আগরতলাতেও একই চিত্র পরিলক্ষিত হয়েছিল এর কয়েক বছর আগে ২০০৮ সালে যখন প্রথম মিটারগেজ লাইনে রেল পৌঁছে। লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের বছর খানেক পর ২০১৬ সালে আগরতলায় ব্রডগেজ পৌঁছে যায়।তারপর আগরতলা থেকে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত অংশ সাব্রুম পর্যন্ত দ্রুত রেল সম্প্রসারণের কাজ চলতে থাকে।আগরতলায় ব্রডগেজ পৌঁছার কয়েক বছরের মধ্যে সাব্রুম পর্যন্ত ব্রডগেজ পৌঁছে যায়।বলা যায়,দীর্ঘ অপেক্ষা করলেও কিন্তু শেষপর্যন্ত যথেষ্ট দ্রুততার সঙ্গেই ত্রিপুরায় রেল সম্প্রসারণের কাজটি হয়।স্বাধীনতার ১৬ বছর পর বরাক উপত্যকার কলকলিঘাট থেকে ১৯৬৪ সালে ত্রিপুরার ধর্মনগরে প্রথম মিটারগেজ রেল পৌঁছেছিল।তারপর ১৯৯০ সালে ধর্মনগর থেকে কুমারঘাট এবং ২০০৮ সালে রাজধানী আগরতলায় রেলের হুইসেল শোনা যায়।এর আট বছর পর আগরতলায় ব্রডগেজ এবং তার কয়েক বছরের মধ্যেই সাব্রুমে রেলের হুঁইসেল বেজে যায়। বর্তমানে পাহাড় লাইন সহ বরাক,ত্রিপুরার এই রেলপথ বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর অপেক্ষায় রয়েছে।সব মিলিয়ে বলা যায়,রেল এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যেন এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনে দিয়েছে সাম্প্রতিককালে।তবে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে,বর্ষাকালে সেই যোগাযোগ প্রচণ্ড ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। কিন্তু কেন এমনটা হচ্ছে? এ থেকে পরিত্রাণের উপায়ই বা কি?

শুধুমাত্র বরাক উপত্যকা নয়, ত্রিপুরা,মিজোরাম, মণিপুর অর্থাৎ উত্তর পূর্বাঞ্চলের এক বিস্তীর্ণ অঞ্চল এই লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনের উপর নির্ভরশীল।পাহাড় লাইনের মিটারগেজ রেলপথটি হয়েছিল শতাধিক বছর আগে।মাত্র দশ বছর আগে তা ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়।আর এই ব্রডগেজ রূপান্তরের জন্য দু'দশক সময় ব্যয় করতে হয়।তারপরও বর্ষায় এই লাইনে বারবার ধস কেন?এই ভূপ্রকৃতি যে পাল্টে গেছে বিষয়টি এমন নয়।সাম্প্রতিক কালে অপরিমিত বর্ষণ হচ্ছে বিষয়টি তাও নয়।তা হলে কি ব্রডগেজ রূপান্তরের কাজটি এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতি অনুসরণ করে হয়নি? যতদূর জানা যায়, এই ব্রডগেজ রেলপথের প্রায় অর্ধেক অংশ সেই পুরনো মিটারগেজের পথ ধরেই হয়েছে।১৬৯ কি.মি দৈর্ঘ্যের লামডিং-বদরপুর পাহাড় লাইনের বর্তমান ব্রডগেজ রেলপথে ২১টি টানেল রয়েছে।সবচেয়ে বড় টানেলটির দৈর্ঘ্য ৩.২৩৫ কি.মি।রয়েছে বহুসংখ্যক বৃহৎ ও ছোট মাপের সেতু।উল্লেখ করা যায় যে,আগে মিটারগেজ রেলপথে টানেলের সংখ্যা ছিল ৩৭।পাহাড় লাইনের এই রেলপথে ভ্রমণ বরাবরই রোমাঞ্চকর। দীর্ঘদিন আগে ব্রিটিশ যুগে নির্মিত এই মিটারগেজ রেলপথ কারিগরী বিস্ময় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। সময়ের প্রয়োজনে সুদীর্ঘকাল পর তা ব্রডগেজে রূপান্তরিত হয়।এই অঞ্চলের যোগাযোগে উন্মোচিত হয় এক নবদিগন্ত। কিন্তু বর্ষার ঘন ঘন ধস বিপর্যয় আবার সংকট ডেকে আনছে।মিটারগেজের সময়ও কিন্তু ধস নেমে রেলপথ বন্ধ হয়ে পড়ত।তবে বর্তমানের তুলনায় মনে হচ্ছে বিপর্যয়ের হারটা তখন কিছুটা কম ছিল। মিটারগেজের সময়ের তুলনায় বর্তমানে প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে,ব্রডগেজ রূপান্তরের কাজে সেই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে।কিন্তু তারপরও এত ধস বিপর্যয় কেন?

ব্রডগেজ চালুর পর গত এক দশকে প্রায় প্রতি বর্ষায় ধস নামা থেকে এখন স্পষ্টই ধারণা হচ্ছে পাহাড় লাইনে এই বিপর্যয় চলতেই থাকবে।তাই দ্রুত বিকল্প চাই।এ ব্যাপারে কিছুটা আশার খবর হল লঙ্কা-চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথের ডিপিআর ইতিমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে।বরাইল পাহাড়কে এড়িয়ে প্রস্তাবিত এই বিকল্প রেলপথটি বর্ষায় মুশকিল আসান হবে আমাদের।এই প্রকল্পটি রূপায়নে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।এনএফ রেলের জিএম চেতন শ্রীবাস্তব আসামের রাজ্যসভার সাংসদ কণাদ পুরকায়স্হকে এই বিকল্প রেলপথের ডিপিআর তৈরির কথা জানিয়েছেন। এ নিয়ে সাংসদ পুরকায়স্হ দিল্লিতে রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণোর সঙ্গেও কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে আগামী ছয় মাসের মধ্যে একটি আশার খবর মিলবে বলে রেলমন্ত্রীও তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন।এই সব সংবাদ নিঃসন্দেহে আশা ব্যঞ্জক।কিন্তু এ বিষয়ে সরকারি স্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও ঘোষণা কবে নাগাদ হবে? তারপর বাজেট বরাদ্দ,কাজ শুরু এবং কবে নাগাদ তা শেষ হবে?পাহাড় লাইনের মিটারগেজ লাইন ব্রডগেজে রূপান্তরের কাজ শেষ হতেই লাগল দুই দশক।এবার প্রায় সম দূরত্বের, ১৬০ কি.মি নতুন বিকল্প লঙ্কা-চন্দ্রনাথপুর রেলপথ স্হাপনে কতদিন লাগবে? বর্ষায় অনিশ্চিত রেল যোগাযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যত দ্রুত সম্ভব এই বিকল্প রেলপথ নির্মাণের দাবি জোরদার হচ্ছে।উল্লেখ করা যায় যে,বর্ষায় মেঘালয় হয়ে গুয়াহাটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।সড়ক যোগাযোগও রেলপথের মতই প্রচণ্ড ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে।যদিও প্রায় নিয়মিত এই সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ চলছে,তবু,সড়কটি আরও উন্নয়নের দাবি রাখে।সেই সঙ্গে বহু চর্চিত মহাসড়কের কাজ শেষ করে তা দ্রুত চালু করা প্রয়োজন।তবে আশার কথা হল আগামী বছরেই এই সড়কটি চালু হবে এমন খবর মিলছে। বর্ষা মরশুমেও এই সড়কে যান চলাচল যাতে ব্যাহত না হয় তা সুনিশ্চিত করতে হবে।এই সড়কটি চালু হলে বরাক উপত্যকার পাশাপাশি ত্রিপুরা,মিজোরাম, মণিপুরও উপকৃত হবে।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.