মন্দির, মসজিদ, চার্চ ও গুরুদোয়ারার সিম্ফনি ভারতবর্ষ।

-পুরুষোত্তম রায় বর্মন

"The Week" সর্বভারতীয় সাপ্তাহিক পত্রিকা। The Week এর সাম্প্রতিকতম সংখ্যার প্রচ্ছদ নিবন্ধের শিরোনাম Devoted, Not Divided : Tales of interfaith worship from across India. প্রচ্ছদ নিবন্ধের ছবিটিও অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও সময়োপযোগী। গণেশ মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে দুজন পূনার্থী। একজন ধর্ম পরিচয়ে মুসলমান । আরেকজন ধর্মপরিচয় হিন্দু। The Week কে অসংখ্য ধন্যবাদ। যখন চারিদিকে পরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও ঘৃণার চাষ চলছে । যখন ভারতবর্ষের চিরাচরিত ঐতিহ্যকে ধ্বংস করার জন্য উন্মত্ত প্রচেষ্টায় ভারত আত্মা প্রতিদিন জীর্ণ ও রক্তাক্ত হচ্ছে তখন এই ধরনের প্রচ্ছদ নিবন্ধ আমাদেরকে সুস্থিতির দিকে নিয়ে যায়। প্রকৃত ভারতের ছবিটা আবারো তুলে ধরে আমাদের সবার সামনে। এদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায় মিলিতভাবে কয়েক হাজার হাজার বছর ধরে বাস করছে। হিন্দু মুসলমানরা এদেশে ১০০০ বছরের বেশি ধরে পাশাপাশি রয়েছে। মূল সুর সমন্বয়, মূলসুর ঐক্য, মূলসুর আদান-প্রদান, মূলসুর ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, মূলসুর সহমর্মিতা। খ্রিস্টধর্ম এ দেশে এসেছে প্রায় দুই হাজার বছর। মধ্যপ্রাচ্যে খ্রিস্টান ধর্মের প্রবর্তনের কিছু পরেই এ ধর্ম এই দেশে এসেছে। বৌদ্ধ ধর্ম ও জৈন ধর্মের উদ্ভব হয়েছে এ দেশের মাটিতে। এদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বাইরে। যারা ধর্মে বিশ্বাস করে তাদের কাছে মন্দির, মসজিদ , গির্জা ,গুদোয়ারা পবিত্র স্থান। হিন্দুরা শুধু মন্দিরে যায় তা নয় , মুসলমানরাও মন্দিরে আছে। মসজিদে শুধু মুসলমানরা নামাজ পড়ে তা নয় , হিন্দুরাও মসজিদে গিয়ে চাদর চড়ায়। গির্জায় খ্রিস্টানরা শুধু প্রার্থনা করেনা , অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষ যায় শান্তির খোঁজে ও নিরাময়ের স্পর্শে। গুরুদোয়ারায় শুধু শিখরাই গ্রন্থ সাহিব পাঠ ও কীর্তন শুনে না, অন্যধর্মের লোকেরাও গুরুদোয়ারায় যায় শান্তির খোঁজে। The Week প্রচ্ছদ নিবন্ধের দুই একটি স্তবক অত্যন্ত প্রনিধানযোগ্য,

The story of religiosity in India is not just the story of conflict, demolition or massacre. It is also the story of interfaith prayer, embracing another religion, custom and rituals without shedding ones own. Even as the dogmatic take extreme position and incite tolerance, common people across the country live in harmony and brotherhood in peaceful oneness....

this is but natural in a country that has seen Darashikoh translating the Upanishads into persian and in modern times an ordinary muslim of Chattisgarh, Razzak Khan Tikari, performing the last rites of his hindu friend Santosh Singh in 2015 and Chief Justice of India Uday Umesh Lalit doing humble service at the Baba ki Dargha in Nagpur.

শবরীমালা কেরালা , আয়াপ্পার মন্দির। মন্দিরে যারা যায় তারা সবাই মুসলিম যোদ্ধা বাবরের স্মৃতিতে নির্মিত মসজিদে শ্রদ্ধা জানাতে ভুল করে না। স্বর্ণমন্দির অমৃতসর, শিখদের পবিত্রতম স্থান, সেখানে প্রতিদিন হাজার হাজার পূন্যার্থী যান যাদের মধ্যে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষরা থাকেন বিরাট সংখ্যায়। দিল্লির লোটাস টেম্পল বাহাই সম্প্রদায়ের ধর্মস্থান। দিল্লিতে যারা যান তাদের গন্তব্যের অন্যতম ঠিকানা বাহাই মন্দির। এমন অসংখ্য হাজার হাজার উদাহরণ ছড়িয়ে আছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। The Week এ এদের মধ্যে কতগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে ।

মহারাষ্ট্রের কোলাপুর জেলার মধ্যে অন্তর্গত পুরুনাদ শহর । ত্রিশ হাজার মানুষের বাস। এখানকার বারাইবদর দরগা প্রতিবছর সেজে ওঠে গণেশ চতুর্থী উদযাপনে। হিন্দু মুসলমানরা একসাথে দশ দিনব্যাপী গণেশ চতুর্থী উৎসবে শামিল হন। দরগার মধ্যে গণেশের মূর্তি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। ১৯৮৩ সনে গণেশ চতুর্থী ও মহরম একই দিনে পড়ে। সেই দিন দরগায় গণেশের মূর্তি স্থাপন করা হয়। তারপর থেকে প্রতিবছর দরগার মধ্যে আয়োজিত হয় গণেশ চতুর্থী। গণেশ চতুর্থী পালনের বৈশিষ্ট্য হল একজন মুসলিম প্রথম গণেশের পূজা আরতী করেন। আবার মহরমের সময় একজন লিঙ্গায়েত যুবক মহরমের মিছিলের সামনে থাকেন। হিন্দু মুসলমান মিলিতভাবে গণেশ চতুর্থীর উৎসবের জন্য মোদক প্রস্তুত করেন । একইভাবে মহরমের জন্য উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ মিলিতভাবে তৈরি করেন চৌঙ্গা , যা এক ধরনের মিষ্টি চাপাটি।

বসন্ত সালুখা একজন লিঙ্গায়েত যুবক। গত ৮ বছর ধরে মহররমের মিছিলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন । তিনি কি বলেছেন আমরা দেখে নেব,

When I am carrying the Pir both hindus and muslims take my blessings. I visit the darga every morning to pray. Like I would visit the datta mandir, hari mandir Or bishnu mandir. Muslims celebrate ganesh utshav every year. That is the uniqueness of our town.

সাকলিন জমাদার ফুল ব্যবসায়ী । প্রতিবছর গণেশ মণ্ডপ সাজানোর দায়িত্ব সামলান ।

ভূপাল থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে টিকম্বরের কাছে মেমন গ্রাম। ৮০ বছর ধরে গ্রামের কাছে এক খন্ড জমিতে দাঁড়িয়ে আছে কৃষ্ণ মন্দির। সম্প্রতি টিপু খান ও ফরিদ খান দুজন মিলে এই কৃষ্ণ মন্দির সহ ১.৫ একর জমি কিনেছেন। জমি কেনার পর তারা দুজন ঠিক করেছেন , মন্দির ও তৎ সংলগ্ন ১০০০০ স্কয়ার ফিট জমি তারা দান করবেন মন্দির সংস্কার করে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য। এজন্য তারা জেলা প্রশাসনকে দানপত্র করে দিয়েছেন। এরপর স্থানীয় হিন্দুরা ২৫ লক্ষ টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছেন মন্দিরটি সংস্কার করার জন্য। এই তহবিলে টিপু খান এবং ফরিদ খান তিন লক্ষ টাকার নগদ দান করেছেন। জমির মূল্য ধরে ধরলে তাদের দানের পরিমাণ দাড়ায় এক কোটি টাকা।

আজমীর শরীফ দরগা। সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতীর কবর রয়েছে আজমীর শরীফ দরগায়। খাজা মইনুদ্দিন চিশতির জন্ম পারস্যে। ইরাক সিরিয়া ইরান আফগানিস্তান হয়ে আজমীরে আসেন ১১৯০ সনে। প্রতিষ্ঠা করেন আজমীর শরীফ দরগা। মারা যান ১২৩৬ সনে। ছড়িয়ে পড়ে চিশতির সিলসিলা ভারতজুড়ে। সুফি দরবেশরা ইসলাম ও হিন্দু ধর্মের মধ্যে এক অপূর্ব সমন্বয় তৈরি করেছিলেন। দুই ধর্মের পারস্পরিক আদান-প্রদানের মধ্য দিয়ে। দুই ধর্মেরই সহজিয়া মরমিয়া ব্যাখ্যা দিয়ে। তারা এদেশের কৃষ্টি সংস্কৃতি অনেক কিছুই আন্তরিকভাবে গ্রহণ করেছিলেন। আজমীর শরীফ দরগাকে পৃথিবীর অন্যতম পবিত্র স্থান বলে মনে করে ধর্মবিশ্বাসীরা। দরগায় চাদর চড়ান এসে পূর্ণাথীরা। সব ধর্মের লোকরাই আসেন।

ভারত সহ মধ্য এশিয়ায় ইসলামের প্রসারে সুফি সন্তরা বিশেষ করে চিশতী সিলসিলার সন্তরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। এ প্রসঙ্গে Original and Evaluation of Chisti Darga in South Asia পুস্তকে বলা হয়েছে, "the success of a silsilah largely depends on the Sekhs ability to adjust and adopt in the mental emotional milieu of the people of a particular region. The reason behind the chisti success in the country was the same. They understood the Indian condition and religious aspirations of the people. They adopted many hindu custom and Buddhist practices like bowing before the Sekhs, presenting water to the visitors, circulating zanbil (a basket of a plamb leaves to collect food), shaving the head of entrance to the mystoc cicle, audition partion (sana) and the chillah -i- makus ( pratice believed to have been adopted from the sadhus)".

অন্ধপ্রদেশের কদাপ্পায় ৮০০ বছরের পুরনো লক্ষ্মী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দির। প্রতিবছর তেলেগু নববর্ষের প্রথম দিন হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে দলে দলে পূর্ণাথী আসেন। মন্দিরের আশেপাশে যে সমস্ত মুসলিমরা থাকেন তারা তেলুগু নববর্ষের প্রথম দিন মন্দিরের প্রসাদ মুখে তুলেই অন্য কিছু খান। তারা মন্দিরে আসেন , নারকেল ভাঙেন, মন্দিরে জল নিয়ে যান এবং দানপত্রে দান করেন মুক্ত হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশের লখনউর চারবাক রেলস্টেশনের মাঝে পীর বাবার মাজার। হাজার বছর বয়সী মাজার। মাজারের দর্শনার্থীদের অধিকাংশই হিন্দু। এখানে বিশ্বাসীরা আসেন সরল বিশ্বাসে, অটল ভক্তি নিয়ে। বিশ্বাসীরা শুধু মুসলিম ধর্মাবলম্বীরাই নয় হিন্দুরাও দলে দলে আসেন। মাজারের ইমাম মোঃ আফসার রাজা জানালেন পূর্ণার্থীদের অধিকাংশই অমুসলিম। রাজা নিজেও সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ হিন্দু তীর্থস্থান ঘুরে এসেছেন। চারবাক স্টেশনের চারপাশ গভীর জঙ্গলাকীর্ণ ছিল। ব্রিটিশরা জঙ্গল পরিষ্কার করে রেলপথ স্থাপন করেন। তখনোই মাজারটি আবিষ্কৃত হয়।

মুম্বাইয়ের হাজিআলি দরগা সমুদ্র তীরে অবস্থিত। মুম্বাইয়ের অন্যতম বিশেষ দ্রষ্টব্য। The Week পত্রিকায় দরগা সম্পর্কিত ফিচারে উল্লেখ করা হয়েছে মীনাক্ষী সজদেব ও তার বোন রেনুকা অরোরার কথা। তারা নিয়মিত হাজিআলি দরগায় আসেন এক দুর্নিবার টানে। তারা জানান , তারা মন্দিরেও যান। তাদের কাছে ভগবান সর্বত্রই আছেন। তারা এখানে শান্তি খুঁজে পান।

আরেক জন হাজী আলী দরগায় প্রায় নিয়মিতই আসেন, চারুলতা খুরানা। বয়স ৩৫। কাকভোরে আসা পছন্দ করেন। ব্রাহ্মণ পরিবারের মেয়ে। বাড়ি থানেতে। পেশা ফ্যাশন ডিজাইনার । তিনি জানালেন, যখনই আসেন চাদর চড়ান, মোমবাতি জ্বালান ও অন্যান্য নিয়ম-কানুন নিষ্ঠাভরে পালন করেন আর সব ইচ্ছে পূরণের আর্জি জানান । তার কথায় সর্বশক্তিমান হিন্দু না মুসলমান এ নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। আমি এখানে শান্তি খুজে পাই। সর্বশক্তিমান আমার কথা শুনেন । এটাই বড় কথা।

ভালাঙ্কানি চার্চ। চেন্নাই থেকে ৩০০ কিলোমিটার দূরে। চার্চের রেক্টরের কথা অনুযায়ী সব ধর্মের সব অংশের মানুষ নিয়মিত আমাদের চার্চে আসেন, প্রার্থনা করেন । এটা শান্তির স্থল। চার্চটি গথিত স্থাপত্যের একটি নিদর্শন। এই চার্চে ক্যাথলিক বিশ্বাস আর হিন্দু রীতি প্রথা একত্রে মিশে গেছে। এখানে বিশ্বাসীরা এসে মস্তক মুন্ডন করে, কানের পর্দা ছিদ্র করে, হাটেন হাঁটুর উপর ভর করে, মেঝেতে গড়াগড়ি দেয়, এমনকি মঙ্গলসূত্রও বাধে, মোমবাতি জ্বালায়। চার্চের রেক্টর এর কথায়

People here follow more of the indian style or the hindu tradition for prayers and offers.



লখনৌ থেকে ৪২ কিলোমিটার দূরে হাজী ওয়ারিশ আলী সাহেব দরগা যা দেওয়া শরীফ নামে বহুল পরিচিত। এই দরগার স্থাপত্যের বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে। দরজার গম্বুজের কোন ছায়া পড়ে না। কোন দিকেই কোন ছায়া পড়ে না। হাজী ওয়ারিশ আলী সাহ ছিলেন একজন সুফি। তিনি সুফি ও বেদান্তের সংমিশ্রনে বিশ্বাস করতেন। বিশ্ব ভ্রাতৃত্ববোধের কথা বলতেন। দরগায় সব ধর্মের মানুষরাই আসেন। এদের মধ্যে একজন অনুজ কুমার মৌর্য দরগায় নিয়মিত আসেন।

কেরালার কাসারগড় জেলার কুমারা মঙ্গলা মন্দির , কর্ণাটক সীমানার কাছেই। কিন্তু কর্নাটকের উগ্র ধর্মীয় বিদ্বেষের গরম হাওয়া এখনো কাসারগড়কে বিষাক্ত করে তুলতে পারিনি। কুমারা মঙ্গলা মন্দিরে হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে আছেন পূজা দিতে। রাজমোহন উন্নীথান কাসারগড় থেকে নির্বাচিত লোকসভার সংসদ। তিনি জানালেন কাসারগড়ে এমন অনেক মন্দির আছে যেখানে সব ধরনের লোকরাই যায়। তিনি আরো জানালেন কেরালায় এমন অনেক মন্দির মসজিদ আছে যেখানে সব ধর্মের লোকরাই দর্শনে যান।

ফতেগর শাহী পাঞ্জাবের পবিত্র নগরী। এখানে আহমেদ ফারুক শিরিনদির দরগা। দরজার নাম রোজা শরীফ। দরগায় রয়েছেন গুরু গ্রন্থ সাহিব। শিরিনদির একজন সুন্নী সাধক। ১৬০০ শতকে এখানে থাকতেন। পাতিওয়ালার মহারাজা ভূপেন্দর সিং ৩৫০ একর জমি দিয়েছিল দরগাকে।

প্রতিবছর বিভিন্ন ধর্মের হাজার হাজার লোক উল্লালের জুম্মা মসজিদে আসেন সৈয়দ মাদানীর মাজারে প্রার্থনা করার জন্য। ম্যাঙ্গালোরে অবস্থিত এই মাজার । ৫০০ বছর আগে সৈয়দ মাদারী ব্যাঙ্গালোরে এসেছিলেন। একটি ট্রাস্ট জুমা মসজিদ পরিচালনা করে। প্রতিদিন মসজিদ থেকে পাঁচ হাজার লোককে বিনামূল্যে নিরামিষ ভোজন সরবরাহ করা হয়। ম্যাঙ্গালুরের উল্লাল এখনো সাম্প্রদায়িক বিষমুক্ত। স্থানীয় বিধায়ক ই টি খাদির জানালেন এই জুমা মসজিদের জন্যই ম্যাঙ্গালুরের মধ্যে উল্লাল একটি আদর্শ শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে। এখানে হিন্দু মুসলমানরা পরস্পরের প্রতি নির্ভরশীল।

The Week এ কয়েকটি মাত্র মন্দির মসজিদে কথা বলা হয়েছে। সারাদেশে এমন হাজার হাজার উপাসনা স্থল ছড়িয়ে আছে যেখানে ভক্তদের মধ্যে ধর্ম কোন বিভেদ টানতে পারেনি। এটাই ভারতবর্ষ। The Week এ অতিথি কলামে লিখেছেন জাফর স্যারসউল্লা। গত ৪৩ বছর ধরে প্রতিদিন নিয়মিত নামাজ পড়েন। একজন প্র্যাকটিসিং মুসলমান হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন। ১৫ বছর থেকে নামাজ পড়া শুরু হয়েছে। তিনি লিখেছেন আমি চার্চ এবং মন্দিরে নিয়মিত যাই। আমি বেনারস গেলে সংকর মঠের মন্দিরে অবশ্যই যাব। আমি গোহাটির কামাখ্যা মন্দিরে গিয়েছি। মাদুরাইয়ের মীনাক্ষী মন্দির আমি দর্শন করেছি। কাশ্মীরের ভবানী মন্দিরে গিয়ে আমার এক দারুন অনুভূতি হয়েছে। অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির আমার অন্যতম গন্তব্যস্থল। আমি যে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছি, সেখানে রামায়ণ ও মহাভারতের উর্দু অনুবাদ পড়েছি। বহুদিন পূর্বে আমি জয়পুর গিয়েছিলাম রামায়ণের পার্সি অনুবাদ দেখার জন্য। আমি মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রায়ই বলি, হিন্দুধর্ম ও খ্রিস্টান ধর্ম সম্পর্কে জানতে। তেমনি আমি আমার হিন্দু বন্ধুদের বলি কোরান সম্পর্কে জানতে।

আমাদের ত্রিপুরাতেও ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির , চতুর্দশ দেবতা বাড়ি ইত্যাদি ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলো সব ধর্মের মানুষের তীর্থস্থান। The Week এর প্রচ্ছদ নিবন্ধে নতুন কথা বলা হয়নি। এটাই ভারতবর্ষের চিরন্তন কথা। ভেলোরের সিএমসি হসপিটাল এর সামনের রাস্তাটা গান্ধী রোড। চিকিৎসার জন্য যারা ভেলোর যান তারা গান্ধী রোডের দু'পাশের লজগুলোতেই থাকেন। গান্ধী রোড এক মিনি ভারত । সকালে ঘুম ভাঙ্গে শিব মন্দিরের ঘন্টার ধ্বনি আর মসজিদের আযানের মধ্য দিয়ে। রাস্তায় বেরোলে দেখা যায় খ্রিষ্টান সন্ন্যাসীদের। এক অপূর্ব আবহাওয়া রচিত হয়। ধর্ম শুধুই বিশ্বাস । ধর্মে যুক্তি তর্কের স্থান নেই। মানুষ জীবন যন্ত্রণা ও অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পেতে অলীক ঈশ্বরকে আঁকড়ে ধরেন। মানুষ নিজের প্রয়োজনেই ঈশ্বর তৈরি করেছেন। প্রকৃত ধার্মিক কখনো বিদ্বেষী হয় না। বিভিন্ন ধর্ম ও বিভিন্ন মতের পাশাপাশি সহ অবস্থান চলেছে। ভারতবর্ষে শুধু আস্তিকের দেশ নয়, নাস্তিকেরও দেশ। এখানে বিশ্বাসীরা রয়েছেন । এখানে সংশইরাও রয়েছেন।

বর্তমান সময়ে ফ্যাসিবাদীরা আমাদের দেশে ধর্মীয় মেরুকরণের প্রচেষ্টায় উন্মত্ত। এখানে বিদ্বেষ এবং ঘৃণার মধ্য দিয়ে উগ্র জাতীয়তাবাদী পরিমণ্ডল তৈরি করা হচ্ছে। সংখ্যাগরিষ্ঠের আধিপত্যবাদ। এরফলে বিপন্ন হচ্ছে আমাদের দেশ, জাতি ও সাধারণ মানুষ। কোন ধর্মের অস্তিত্ব সংকটে পড়েনি। ধর্মীয় ব্যাপারীদের ফ্যাসিবাদী রাজনীতির ফলে সংকটে পড়েছে দেশ, জাতি, আমাদের সংস্কৃতি , আমাদের ঐতিহ্য। সংকটে পড়েছে সরল বিশ্বাসী মানুষরা। এই সময় দাঁড়িয়ে The Week এর সাম্প্রতিক সংখ্যাটি অবশ্যই এক বলিষ্ঠ প্রচেষ্টা। ফ্যাসিবাদের ঘৃণা ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে এক বড় জবাব। ভারতবর্ষের প্রকৃত ইতিহাস ও প্রকৃত পরিচয় কে তুলে ধরার এক আন্তরিক প্রচেষ্টা।


You can post your comments below  
নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।  
বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।
 
Free Download Avro Keyboard  
Name *  
Email *  
Address  
Comments *  
 
 
Posted comments
Till now no approved comments is available.