ছবিমুড়া : প্রকৃতির রানি
অর্কনীল রায়
March 29, 2025
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি অপূর্ব প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থান রয়েছে, যা গোমতী নদীর তীরে অবস্থিত। এটি পাহাড়, নদী, বন এবং পুরনো শৈল্পিক খোদাই নিয়ে এক অনন্য জায়গা, যেখানে প্রকৃতি ও ইতিহাস হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে আছে।
স্থানটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা দেব-দেবীর বিশাল মূর্তি। এগুলো শত শত বছর পুরনো এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় মূর্তিগুলোর মধ্যে একটি প্রায় ৩০ ফুট উঁচু, যা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শিলা খোদাই শিল্পকলা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই এলাকার পরিবেশ একেবারেই শান্ত ও নির্মল। চারপাশে ঘন সবুজ বন, নদীর মৃদু স্রোত, পাহাড়ের উঁচু নিচু পথ, আর বাতাসে ভেসে আসা বুনো ফুলের গন্ধ মুগ্ধ করে দেয়। নদীপথে নৌকা ভ্রমণের মাধ্যমে এই অঞ্চলের প্রকৃত সৌন্দর্য আরও কাছ থেকে অনুভব করা যায়। নৌকা এগিয়ে গেলে পাহাড়ের খোদাই করা মূর্তিগুলি আরও স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে, যা দেখলে বিস্ময়ে মন ভরে যায়।
এখানে রয়েছে কয়েকটি রহস্যময় গুহা, যেগুলোর সাথে স্থানীয় জনসাধারণের নানা গল্প জড়িয়ে আছে। কেউ বলেন, অতীতে সাধুরা এখানে ধ্যান করতেন, আবার কেউ বলেন, এটি ছিল পুরনো সভ্যতার অংশ। কিছু গুহার ভেতরে লিপি খোদাই করা রয়েছে, যা অতীতের ঐতিহ্যের নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই শিলাটি হচ্ছে দেবী চন্দির বা দেবী দূর্গার Iকিন্তু সেখানকার লোকেরা এই শিলাটি দেবী বনদেবী বা বনবিবির বলে মনে করেন । এছাড়া তারা এই ও মনে করে যে বনবিবি তাদের এই অপুর্ব স্থানটিকে রক্ষা করে রেখেছে ।
ছবিমুড়ার পাহাড়ি অঞ্চল শুধু খোদাই করা দেব-দেবীর বিশাল মূর্তির জন্য বিখ্যাত নয়, এখানে বেশ কয়েকটি রহস্যময় গুহাও রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে স্থানীয় ইতিহাস ও কিংবদন্তি জড়িয়ে আছে। এই গুহাগুলো প্রকৃতিগতভাবে গঠিত হলেও মনে করা হয়, অতীতের কোনো এক সময়ে এগুলো মানুষের ধ্যানস্থল কিংবা আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
গুহার মধ্যে প্রবেশ করলে একধরনের শীতল অনুভূতি হয়। কিছু কিছু গুহার দেয়ালে অদ্ভুত চিহ্ন ও খোদাই করা অক্ষর দেখা যায়, যেগুলোর অর্থ এখনও পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক মনে করেন, এগুলো অনেক পুরনো সভ্যতার চিহ্ন বহন করে এবং হয়তো এখানকার অধিবাসীরা একসময় এগুলোর মাধ্যমে যোগাযোগ করত বা ধর্মীয় আচার পালন করত।
এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ পাহাড়ে ট্রেকিং। কিছু পথ কষ্টকর হলেও উপরে উঠে চারপাশের মনোরম দৃশ্য দেখে সমস্ত ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে সবুজ বনভূমি, আঁকাবাঁকা নদী, দূরের পাহাড় আর নীল আকাশের মিলন দেখে মনে হয়, যেন এক স্বপ্নের জগতে প্রবেশ করা হয়েছে।
সন্ধ্যার সময় নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখা এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সূর্য ধীরে ধীরে দিগন্তে মিলিয়ে যায়, আকাশ লালচে-কমলা রঙে ছেয়ে যায়, যার প্রতিফলন পড়ে শান্ত নদীর জলে। পাখিরা ফিরে যায় নীড়ে, বাতাসে ভেসে আসে এক মিষ্টি স্নিগ্ধতা।
স্থানটির প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক হলেও এখনও অনেকের কাছে এটি অজানা। এখানকার সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য সচেতনতা খুব জরুরি। যারা প্রকৃতি ও ইতিহাস ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ ভ্রমণস্থান। এই জায়গা শুধু ভ্রমণের জন্য নয়, বরং প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সংযোগ, যা মনে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকে।
শিক্ষার্থী
নবম শ্রেণি
ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির
আগরতলা, ত্রিপুরা
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...