বর্ণ বিদ্বেষ,হেনস্হা : উত্তর-পূর্বে ক্ষোভ

পান্নালাল রায়

October 31, 2026

উত্তর পূর্বাঞ্চলের যুবক যুবতীরা বারবার দেশের অন্যান্য অঞ্চলে বর্ণ বিদ্বেষের শিকার হওয়ায় এই অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।সম্প্রতি ত্রিপুরার এক যুবকের সঙ্গে জাতিবিদ্বেষ জনিত এ রকম হেনস্থার সর্বশেষ ঘটনায় ত্রিপুরায় প্রবল ক্ষোভ দেখা দেয়।সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির কঠোর শাস্তির পাশাপাশি এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিরোধের দাবিও উঠছে।জাতি বিদ্বেষে শুধু হেনস্থাই নয়,অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে।বেশ কিছুদিন আগে দেরাদুনে ত্রিপুরার এক ছাত্রেরও মৃত্যু ঘটেছে এ ধরণের ঘটনায়।কিন্তু বারবার উত্তরাঞ্চল তথা দেশের তথাকথিত 'মূল' ভূখণ্ডে কেন এমন ঘটনা ঘটছে? এদিকে বরাক উপত্যকার শ্রীভূমি শহরে দুর্গা পূজার ভাসানের সময় বিহু দলের শিল্পীদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে অসমে উত্তাপের সঞ্চার হয়েছে।দলমত,ভাষাভাষি নির্বিশেষে সকল শ্রেণীর মানুষ এ ধরণের ঘটনার নিন্দায় সোচ্চার হয়েছেন।

সাম্প্রতিক কালে উত্তর পূর্বাঞ্চলের যুবক-যুবতীদের এক বৃহৎ অংশ পড়াশোনা ও জীবিকার জন্য দেশের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে।কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে মাঝে মাঝে তাদের কেউ কেউ জাতি বিদ্বেষ জনিত হেনস্থার শিকার হচ্ছে।আর তাতে স্বাভাবিক ভাবেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।অনেক ক্ষেত্রে সেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলে।উত্তর পূর্বাঞ্চলের মানুষকে ভারতীয় হিসেবে তার পরিচয়কে যেন নতুন ভাবে তুলে ধরতে হচ্ছে!তাকে 'চীনা' বলে মস্করা করা হচ্ছে,কখনও তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হচ্ছে।এ ধরণের যে সব ঘটনা মিডিয়াতে প্রচারিত হয় সেটাই সবার নজরে আসে,ক্ষোভ দেখা দেয়।কিন্তু তার বাইরেও আরও হয়তো অনেক ঘটনা ঘটে যায় যা মিডিয়া কভারেজে আসে না,আমাদেরও নজরে পড়ে না!

সম্প্রতি লেসনজিৎ রিয়াং নামে ত্রিপুরার কাঞ্চনপুর মহকুমার আনন্দবাজার এলাকার এক যুবকের প্রতি বর্ণ বিদ্বেষী ও অশালীন আচরণের ঘটনায় রাজ্য জুড়ে প্রবল ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।আমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হবার পর ত্রিপুরার দলমত জাতি নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ঘটনায় অভিযুক্ত আমির শোকিন নামে দিল্লির এক কন্টেন্ট ক্রিয়টরকে গ্রেপ্তার করে ত্রিপুরায় নিয়ে আসার দাবি জানানো হয়।ত্রিপুরাতে বিভিন্ন থানায় এই কন্টেন্ট ক্রিয়টরের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগও দায়ের হয়।বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তৎপর হয় ত্রিপুরা সরকারও। দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুখ্যমন্ত্রীও রাজ্য পুলিশ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন।ত্রিপুরা থেকে ডিএসপি পর্যায়ের এক অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমকেও দিল্লি পাঠানো হয়। শুধু ত্রিপুরা নয়,গোটা উত্তর পূর্বাঞ্চলেই এ ব্যাপারে ক্ষোভ দেখা দেয়।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজুও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন। দিল্লি থানাতেও সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়।অভিযান চালিয়ে শেষপর্যন্ত দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।ত্রিপুরা পুলিশের শীর্ষস্তরের আধিকারিক জানিয়েছেন,ত্রিপুরা ও দিল্লি পুলিশের যৌথ উদ্যোগেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার পর তাকে ত্রিপুরা পুলিশের হেফাজতে রাজ্যে নিয়ে আসা হবে।

এখানে উল্লেখ করা যায় যে,বেশ কিছুদিন আগে এঞ্জেল চাকমা নামে ত্রিপুরার এক ছাত্র উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে নিগ্রহের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতে তার মৃত্যু ঘটে।সেই ঘটনাতেও ত্রিপুরা তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব সহ বিভিন্ন সংগঠন ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছিল। ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এরপর নড়েচড়ে বসে উত্তরাখণ্ডের পুলিশ।অভিযুক্তদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে দেরাদুন পুলিশ। এমনকি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এই ঘটনায় দেরাদুন পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিয়ে জাতিবিদ্বেষের অভিযোগ সমূহ বিস্তৃত তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছিল।দেরাদুনের সিনিয়র পুলিশ সুপার অবশ্য এমন দাবি করেছিলেন যে,এঞ্জেলের মৃত্যুর সঙ্গে জাতিগত বিদ্বেষ মূলক ঘটনার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। এঞ্জেল চাকমা খুনের তীব্র প্রতিবাদ ও সংশ্লিষ্ট দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আগরতলা সহ বিভিন্ন জায়গায় মোমবাতির মিছিল হয়।ত্রিপুরা হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশনও এঞ্জেল হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা করে সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতীদের উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি সুনিশ্চিত করার জন্য উত্তরাখণ্ড সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানিয়েছিল।এঞ্জেল হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচারের দাবিতে রাজধানী দিল্লিতেও উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিল।সব মিলিয়ে এঞ্জেলের ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছিল উত্তর পূর্ব।

তবে এঞ্জেলের ঘটনাই প্রথম কিম্বা লেসনজিতের ঘটনা হয়তো বা শেষও নয়।দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরাঞ্চল সহ দেশের নানা অংশে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছাত্র-যুবকদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটে আসছে।বর্ণ বিদ্বেষ,জাতিগত কটূক্তি,সামাজিক হেনস্হা, কখনও বা শারীরিক নিগ্রহের শিকার হচ্ছে তারা।চেহারা,ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে তাদের সঙ্গে মস্করা করা হচ্ছে,অপমান করা হচ্ছে।সাম্প্রতিক ঘটনাটির আগে গত এক/দেড় দশকে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছাত্র যুবকদের সঙ্গে এমন বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে যার কিছু উল্লেখ করা যেতে পারে। ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে অরুণাচল প্রদেশের ১৯ বছরের এক কলেজ ছাত্র নিডো তানিয়াম দক্ষিণ দিল্লির লাজপত নগরে এ রকম হেনস্থা ও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হয়ে শেষপর্যন্ত প্রাণ হারায়।২০১২ সালে বেঙ্গালুরুর এক হোস্টেলে মণিপুরের ১৯ বছর বয়সী এক ছাত্রের আহত অবস্থায় মৃত্যু ঘটে।অবশ্য এই ঘটনার কারণ বর্ণবিদ্বেষ কিনা তা নিশ্চিত নয়।২০১৭ সালে বেঙ্গালুরুতে উত্তর পূবের এক ছাত্র জাতিগত কটূক্তি ও শারীরিক হামলার শিকার হয় বলে সংবাদ।২০২৩ সালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাসের কাছে উত্তর পূবের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ত্রিপুরার এঞ্জেল চাকমার ঘটনার কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দিল্লির মালব্য নগরে অরুণাচল প্রদেশের তিন ছাত্রী তাদের প্রতি জাতিবিদ্বেষ প্রসূত মন্তব্য ও হেনস্থার অভিযোগ তোলে।চলতি বছরের মার্চ মাসে দিল্লির মালব্য নগরে মণিপুরের এক মহিলা আইনজীবী জাতিগত কটূক্তি ও হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ। হয়তো উল্লিখিত ঘটনা সমূহ জলে ভাসমান বরফখণ্ডের দৃশ্যমান অংশ মাত্র।সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ রকম অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণ করে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনলেও এ ধরণের সব বিচ্ছিন্ন ঘটনাই যে নথিভুক্ত হয়ে থাকে তার কি নিশ্চয়তা আছে!

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে উত্তর পূর্বাঞ্চলের এক বিরাট সংখ্যক ছাত্রছাত্রী উচ্চ শিক্ষা এবং উন্নত জীবিকার আশায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাড়ি দেয়।উত্তর ভারত সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের অনেক যুবক যুবতী বর্তমানে কর্মরতও আছেন। কিন্তু তাদের চেহারা ও ভাষার কারণে তারা যদি বর্ণ বিদ্বেষের শিকার হন,'বিদেশী' বলে তাদের কটূক্তি করা হয়, তা হলে এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের আর কি হতে পারে!কখনও চেহারার কারণে তাদের 'চীনা' বলে অভিহিত করা হচ্ছে,কখনও ভাষা নিয়ে বিদ্রূপ। আবার কোথাও বাংলা ভাষাভাষিদের 'বাংলাদেশী' বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।কেন এমনটা হবে?দেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের সম মর্যাদা ও আইনের সমান সুরক্ষার নিশ্চয়তা রয়েছে।তা হলে দেশের বিভিন্ন অংশে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছাত্র-যুবকরা কেন বারবার বিরূপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছে?কেন নিজ দেশের মধ্যেই তাকে জোরের সঙ্গে বারবার 'ভারতীয়' বলে পরিচয় দিতে হচ্ছে।তবে শুধুমাত্র আইন-প্রশাসনের মাধ্যমে এ রকম সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।তার জন্য চাই উত্তর পূর্বাঞ্চলের ইতিহাস আর বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি,সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে সচেতনতা,তার প্রচার প্রসার। বিভিন্ন রাজ্যের বিদ্যালয় স্তরের শিক্ষাক্রমে উত্তর পূর্বাঞ্চল নিয়ে বিশেষ আলোকপাত প্রয়োজন। তবে দেশের যে কোনও অঞ্চলে বর্ণ বিদ্বেষী ঘটনায় অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার বিষয়টিও জরুরি।ভবিষ্যতে যাতে এধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে তা নিশ্চিত করতে হবে।

এবার আসা যাক শ্রীভূমি(করিমগঞ্জ) শহরের ঘটনায়।দুর্গা পূজার পর ভাসানের সময় বিহু দলের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছে অসম।মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে 'বিহু অসমের আত্মা' এই মন্তব্য করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার কথা জানান।রাজ্য পুলিশের ডিজি-কে তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন।কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বলেন, বিহু শিল্পীদের উপর হামলা মানে অসমীয়া সংস্কৃতির উপর হামলা।খোদ শ্রীভূমির বাসিন্দা অসমের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেছেন, বিহু অসমের স্বাভিমানের প্রতীক।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সংশ্লিষ্ট দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সংস্হা সংগঠনের পক্ষ থেকেও এর তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।

শ্রীভূমি সহ বরাক উপত্যকার সুশীল সমাজও ঘটনার নিন্দায় সোচ্চার হয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্ত কয়েকজনকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে।কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটল? শুধু অসম কেন,আমাদের গোটা দেশেরই সংস্কৃতির অঙ্গ বিহু।গুয়াহাটিতে যেমন, শিলচর, আগরতলাতেও তেমনই নানা মিশ্র সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বিহুর উজ্জ্বল উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।বিভিন্ন পূজা পার্বণে বিহু নাচ-গানের রেকর্ড বাজতে শোনা যায়।বিহু নাচ গান এই অঞ্চলের নানা ভাষাভাষি মানুষের কাছে খুবই প্রিয়।এ রকম অবস্হায় বিহু শিল্পীদের উপর হামলার অন্তরালে কি?উঠছে নানা প্রশ্ন।এমন কি যে ক্লাব থেকে ভাসানের জন্য বিহু শিল্পীদের আমন্ত্রণ করে আনা হয়েছিল তারাও ঘটনার নিন্দা করছে।অসমের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল জানিয়েছেন ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও পক্ষের উস্কানি ছিল কিনা তা পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।সব মিলিয়ে ঘটনার গভীরে গিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।এদিকে ঘটনা সম্পর্কে শ্রীভূমির পুলিশ কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে স্পষ্টীকরণ দিয়ে বলেছে এটি বিহুর দলকে লক্ষ্য করে হামলা তথা সাম্প্রদায়িক সংঘাতের কোনও বিষয় নয়।মদ্যপদের মারামারির ঘটনা এটি।কিন্তু ততক্ষণে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা অসম।ঝড় বয়ে চলেছে সামাজিক মাধ্যমে।ব্রহ্মপুত্র ও বরাক-দুই উপত্যকার মধ্যে বিভাজনের উনুনে তা দিতে শুরু করেছে কোনও কোনও মহল!

স্পর্শকাতর নানা ইস্যুতে সকল ভাষাভাষি আর সংস্কৃতির মানুষের ঐক্যের উপর আঘাত হানার যে কোনও চেষ্টা অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে হবে।কখনও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ছাত্র-যুবরা বর্ণবিদ্বেষের শিকার হচ্ছে,কখনও আবার উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যেই ভাষা-সংস্কৃতি নিয়ে অসহিষ্ণুতার এক বাতাবরণ তৈরির অপচেষ্টা হচ্ছে। আমাদের এই দেশে যে নানা ধর্ম আর বর্ণের মানুষের বসবাস, আর সবার ভাষা- সংস্কৃতি নিয়েই যে আমাদের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের মহান সংস্কৃতি, এই উপলব্ধির ঘাটতি মেটাতে সকল অংশের মানুষকেই আজ আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।তা হলেই হয়তো এ ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ সম্ভব হবে!

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.