বহুরূপী সংগ্রাম
অনুরাগ বর্দ্ধন, দশম শ্রেণি
October 18, 2026
বিংশ শতাব্দীর কুড়ির দশকে, ব্রিটিশ শাসনের অধীনে বাংলার কোচবিহারের রায় রাজ্য ছিল ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক কেন্দ্র। মহারাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় ছিলেন এই রাজবংশের এক সাহসী বিপ্লবী। তিনি ব্রিটিশদের এক উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিকে বন্দি করে এক গোপনীয় বন্দিশালায় রেখেছিলেন, যে কারণে ব্রিটিশরা এই রাজবংশের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা করতে ভয় পেত।
১৯১৮ সালে মহারাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় ও মহারানি শ্যামলী দেবীর পুত্র রাজকুমার জিতেন্দ্র রায়ের জন্ম হয়। মাত্র তেরো-চোদ্দো বছর হতেই, তিনি বিপ্লবী বই পড়া শুরু করেন। লেনিনের চিন্তা তাঁকে শ্রেণিবৈষম্য ও শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করত, আর গৌতম বুদ্ধের শিক্ষা তাঁকে দয়া ও সংযমের পথ দেখাত।
কিন্তু শত্রু লুকিয়ে ছিল নিজের রাজপ্রাসাদেই। মহারানি শ্যামলী দেবী ক্ষমতা ও অর্থের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন। পুরুষপ্রধান সমাজে নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করতে চাইলেও, সেই আকাঙ্ক্ষা তাঁকে ব্রিটিশদের সঙ্গে গোপন ষড়যন্ত্রে জড়িত করে। ব্রিটিশরা তাঁকে প্রতিশ্রুতি দেয় যে মহারাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায়কে হত্যা করতে পারলে, রাজকুমার জিতেন্দ্র মহারাজের মুকুট ধারণের যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত তিনি রাজ্য শাসন করবেন, এবং পাবেন বিশেষ করের ছাড়।
একদিন মহারাজা গোপনীয় বন্দিশালায় গেলে মহারানি সেই জায়গার খবর ব্রিটিশদের দিয়ে দেন। ব্রিটিশ বাহিনী হামলা চালিয়ে মহারাজাকে হত্যা করে, ব্রিটিশ প্রতিনিধিকে বাঁচিয়ে নিয়ে যায়। তখন রাজকুমার জিতেন্দ্র রায়ের বয়স মাত্র সতেরো বছর।
মহারানি শাসনভার গ্রহণ করে প্রজাদের বোঝান যে ব্রিটিশদের সঙ্গে সহযোগিতা ছাড়া রাজ্য রক্ষা করা সম্ভব নয়। দুই বছর পর, পুরোনো অস্ত্র খুঁজতে গিয়ে রাজকুমার জিতেন্দ্র রায় মায়ের সঙ্গে ব্রিটিশদের চিঠিপত্র খুঁজে পান। সব জেনেও তিনি সংযত থাকেন। তারপর মহারাজা হওয়ার দাবি জানান এবং সিংহাসনে বসে ব্রিটিশদের দুর্বল করার পরিকল্পনা করেন।
একদিন তিনি ছাব্বিশজন ব্রিটিশ কর্ম-কর্তাকে ভোজের আমন্ত্রণ জানান। মহারানি শ্যামলী দেবীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভোজের আগে জিতেন্দ্র খাবার পরিবেশনের কথা বলে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ব্রিটিশ কর্ম-কর্তা ও কয়েকজন বিশ্বাসঘাতক নিহত হন। মহারাজ তাঁর নিজের জন্মদাত্রী মাকে মারার আগে ভেবেছিলেন ঠিকই, কিন্তু তখন গৌতম বুদ্ধের শিক্ষার কথা মনে করে ভাবলেন যে, আসক্তিকে স্বাধীনতার সংগ্রামের উপর রাখা যাবে না।
শ্যামলীর সংগ্রাম ছিল ক্ষমতার জন্য, জিতেন্দ্রর সংগ্রাম ছিল পরাধীনতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য।
সকলের সংগ্রাম আলাদা আলাদা। (ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির)
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...