নজরুলের আগমনী সুরে মা দুর্গা : দেবীবন্দনা থেকে মানবতার জয়গান

ড. সুমন আলি

October 10, 2026

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, নদীর চরে কাশফুলের দোলা, ভোরের বাতাসে শিউলির মিষ্টি সুবাস আর দূর থেকে ভেসে আসা ঢাকের আওয়াজ—প্রকৃতির এই অপরূপ সাজ বাঙালির মনে এক চিরন্তন আবেগের জন্ম দেয়। মনে হয়, মা আসছেন। ঘরের মেয়ে উমা ফিরে আসছেন তাঁর পিতৃগৃহে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আনন্দ, ভালোবাসা ও আশার বার্তা নিয়ে আসছে শারদোৎসব। এই আগমনী আবহে যখন গান ও কবিতার সুর মিলেমিশে যায় বাঙালির হৃদয়ের স্পন্দনে, তখন অনিবার্যভাবেই স্মরণে আসেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর আগমনী ও দেবীবন্দনামূলক সংগীতে দেবী দুর্গার আরাধনা কেবল ধর্মীয় ভক্তির প্রকাশ নয়; তা হয়ে ওঠে মাতৃস্নেহ, শক্তির জাগরণ, সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি এবং মানবতার এক অনন্য সংগীতময় অভিব্যক্তি।

উমার আগমন: দেবীর মহিমায় ঘরের মেয়ের আবেগ-

বাংলার দুর্গোৎসবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেবী দুর্গাকে ঘরের মেয়ে উমা হিসেবে কল্পনা করা। পৌরাণিক আখ্যানের মহিষাসুরমর্দিনী, দশভুজা শক্তিরূপিণী দেবী বাঙালির সাংস্কৃতিক কল্পনায় একই সঙ্গে হয়ে ওঠেন স্নেহময়ী কন্যা। কৈলাস থেকে পিতৃগৃহে তাঁর আগমন তাই নিছক দেবীর মর্ত্যে অবতরণ নয়; এটি মেয়ের ঘরে ফেরার আনন্দ, মায়ের প্রতীক্ষার অবসান এবং পারিবারিক সম্পর্কের গভীর আবেগের প্রতীক।

আগমনী গানের ঐতিহ্যে এই মানবিক অনুভূতিই প্রধান হয়ে ওঠে। সেখানে দেবীর ঐশ্বরিক মহিমার পাশাপাশি ধরা পড়ে মায়ের ব্যাকুলতা, মেয়েকে কাছে পাওয়ার আনন্দ এবং কয়েকটি দিনের মিলনের মধ্যে চিরন্তন ভালোবাসাকে অনুভব করার আকুলতা। দেবী যেন দূর আকাশের কোনো অধরা শক্তি নন; তিনি আমাদের ঘরের মানুষ, আমাদের আপনজন।

নজরুলের আগমনী সংগীতের আবেদন বুঝতে হলে এই সাংস্কৃতিক ও আবেগগত পরিসরকে উপলব্ধি করা জরুরি। তাঁর ভক্তিগীতিতে ধর্মীয় অনুভূতি কখনো নিছক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা মানুষের পরিচিত সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা ও হৃদয়ের আকুতির সঙ্গে সংযুক্ত হয়। এই সংযোগই দেবীবন্দনাকে সাধারণ মানুষের কাছে আপন করে তোলে।

বিদ্রোহী কবির ভক্তিসত্তা: নজরুলের সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা-

কাজী নজরুল ইসলামকে আমরা প্রধানত ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে জানি। অন্যায়, শোষণ, পরাধীনতা ও সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর উচ্চারণ বাংলা সাহিত্যকে দিয়েছে প্রতিবাদের দুর্বার শক্তি। কিন্তু নজরুলকে কেবল বিদ্রোহের কবি হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টিশীল ব্যক্তিত্বের পূর্ণ পরিচয় পাওয়া যায় না। তাঁর সাহিত্য ও সংগীতে যেমন বিদ্রোহের আগুন রয়েছে, তেমনই রয়েছে প্রেমের কোমলতা, প্রকৃতির সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এবং ভক্তির নিবিড় অনুভূতি।

নজরুলের সংগীতজগতে ইসলামী গান, হামদ-নাত, শ্যামাসংগীত, ভক্তিগীতি, কীর্তনধর্মী রচনা এবং নানা ধারার বাংলা গান পাশাপাশি স্থান পেয়েছে। হিন্দু পৌরাণিক ঐতিহ্য ও দেবদেবীর বন্দনাকে তিনি তাঁর সৃষ্টির পরিসরে গ্রহণ করেছেন স্বতন্ত্র শিল্পীসত্তায়। তাঁর শ্যামাসংগীত ও দেবীবন্দনামূলক রচনায় মাতৃরূপের প্রতি আকুলতা, আত্মসমর্পণ, শক্তির আরাধনা এবং মানুষের অন্তর্জগতের নানা অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।

এই বহুমাত্রিকতাই নজরুলকে অনন্য করে তোলে। তিনি একদিকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কণ্ঠ, অন্যদিকে মায়ের চরণে আশ্রয়প্রার্থী ভক্ত। এই দুই সত্তার মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কারণ, যে কবি মানুষের মুক্তি চান, তিনি মানুষের দুর্বলতা, অসহায়তা, ভালোবাসা এবং আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষাকেও গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তাঁর কাছে শক্তি ও মমতা, প্রতিবাদ ও প্রার্থনা, আত্মমর্যাদা ও আত্মসমর্পণ—সবই মানবজীবনের ভিন্ন ভিন্ন সত্য।

দেবীবন্দনা থেকে শক্তির জাগরণ-

দেবী দুর্গা ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে শক্তি, সাহস এবং অশুভের বিরুদ্ধে শুভের সংগ্রামের প্রতীক। মহিষাসুরের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয় কেবল পৌরাণিক যুদ্ধের কাহিনি নয়; এটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের, অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর এবং অহংকারের বিরুদ্ধে নৈতিক শক্তির প্রতীকী প্রকাশ।

নজরুলের বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে এই প্রতীকী তাৎপর্যের একটি গভীর সংযোগ রয়েছে। তাঁর সাহিত্য বারবার মানুষকে ভয় ও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিয়েছে। দেবী দুর্গার শক্তিরূপ এবং নজরুলের মুক্তিকামী কাব্যচেতনা—উভয়ের মধ্যেই অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার আহ্বান খুঁজে পাওয়া যায়। তবে এই সম্পর্ককে সরাসরি একই আদর্শের সমার্থক না ধরে সাংস্কৃতিক ও ভাবগত সাদৃশ্য হিসেবে দেখাই যথাযথ।

আজকের পৃথিবীতেও এই শক্তির বার্তা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নারী নির্যাতন, লিঙ্গবৈষম্য, সামাজিক অবিচার, অর্থনৈতিক শোষণ এবং দুর্বল মানুষের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমাজকে সচেতন হতে হবে। দেবী দুর্গার আরাধনা তখনই গভীর সামাজিক অর্থ লাভ করে, যখন শক্তির বন্দনা বাস্তব জীবনে নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা এবং সমান অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধায় রূপান্তরিত হয়।

মাকে শক্তিরূপে পূজা করা আর বাস্তবের নারীকে অবহেলা করা—এই দুই অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। দুর্গোৎসবের প্রকৃত শিক্ষা তাই কেবল দেবীর সামনে প্রণাম জানানো নয়; বরং প্রত্যেক নারীর মর্যাদা রক্ষা করা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। নজরুলের মুক্তিকামী চেতনা আমাদের এই আত্মসমালোচনার পথেই আহ্বান জানায়।

শরতের সুরে বাংলার মিলিত সংস্কৃতি-

বাংলার দুর্গোৎসব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত, শিল্প, লোকাচার এবং সামাজিক মিলনের এক বৃহৎ সাংস্কৃতিক পরিসর। আগমনী গান এই পরিসরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। শরতের আগমনে প্রকৃতি যেমন নতুন রূপে সেজে ওঠে, তেমনই মানুষের মনেও জেগে ওঠে স্মৃতি, আবেগ ও প্রত্যাশার নতুন তরঙ্গ।

নজরুলের দেবীবন্দনামূলক সংগীত এই ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর সংগীতে ভারতীয় পুরাণ, বাংলার লোকজ আবেগ এবং ধ্রুপদি সংগীতের নানা উপাদান নতুন শিল্পরূপ পেয়েছে। তাঁর সৃষ্টির গুরুত্ব কেবল বিষয় নির্বাচনে নয়, বরং ভিন্ন সাংস্কৃতিক উপাদানকে নিজের সৃজনশীল শক্তিতে রূপান্তরিত করার ক্ষমতায়।

নজরুলের জীবন ও সাহিত্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, সংস্কৃতির জগৎ কোনো একক পরিচয়ের সীমানায় আবদ্ধ নয়। একজন মুসলিম কবি যখন শ্যামাসংগীত রচনা করেন, দেবীর বন্দনায় কণ্ঠ দেন কিংবা হিন্দু পুরাণের অনুষঙ্গকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করেন, তখন তা কেবল ব্যক্তিগত সৃষ্টির পরিচয় বহন করে না; বাংলার দীর্ঘকালীন সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের ঐতিহ্যকেও উন্মোচিত করে। একইভাবে তাঁর ইসলামী সংগীতও বাংলা ভাষার সাংস্কৃতিক ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

এখানে নজরুলের তাৎপর্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়কে অন্যটির ঊর্ধ্বে প্রতিষ্ঠা করা নয়। বরং তাঁর সৃষ্টির বৈচিত্র্য দেখায়, ভিন্ন ধর্মীয় ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও একটি অভিন্ন ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অংশ হওয়া সম্ভব। এই উদারতা দুর্বলতা নয়; এটি সৃজনশীল আত্মবিশ্বাসের পরিচয়।

নজরুলের মানবতাবাদ: বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষের মর্যাদা-

নজরুলের মানবতাবাদ তাঁর সাহিত্যদর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি কিংবা সামাজিক অবস্থানের কারণে মানুষের মর্যাদা খর্ব করার প্রবণতার বিরুদ্ধে তাঁর রচনা বারবার প্রতিবাদ জানিয়েছে। মানুষের পরিচয়ের আগে মানুষ হিসেবে তার মূল্যকে স্বীকার করার যে দৃষ্টিভঙ্গি, তা নজরুলের সাহিত্যকে আজও সমকালীন করে রেখেছে।

দুর্গোৎসবের আবহে এই মানবতাবাদ বিশেষ তাৎপর্য লাভ করে। উৎসব তখনই সর্বজনীন হয়ে ওঠে, যখন তার আনন্দ সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছায়। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মানুষ, শ্রমজীবী পরিবার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং অসহায় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া উৎসবের সামাজিক পূর্ণতা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। আলোকসজ্জা, মণ্ডপসজ্জা ও আড়ম্বরের পাশাপাশি তাই প্রয়োজন সহমর্মিতা, সামাজিক দায়িত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার।

নজরুলের জীবন ও সৃষ্টির দিকে তাকালে বোঝা যায়, ধর্মীয় অনুভূতি এবং মানবিক মূল্যবোধ পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং মানুষের প্রতি ভালোবাসা, অন্যের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান—এই গুণগুলিই ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে গভীরতর করে।

বর্তমান সময়ে যখন নানা কারণে সমাজে অবিশ্বাস ও বিভাজনের পরিবেশ তৈরি হয়, তখন নজরুলের সৃষ্টিকে নতুনভাবে পাঠ করা জরুরি। তাঁর সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায়, নিজের ঐতিহ্যকে ভালোবাসার অর্থ অন্যের ঐতিহ্যকে অস্বীকার করা নয়। নিজের বিশ্বাসে স্থির থেকেও অন্যের বিশ্বাসের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা যায়। এই উপলব্ধিই বহুত্ববাদী সমাজের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।

আগমনী থেকে বিজয়া: আনন্দের মধ্যেও বিচ্ছেদের সুর-

দুর্গোৎসবের আবেগ কেবল আগমনের আনন্দে সীমাবদ্ধ নয়। কয়েক দিনের মিলনের পর আসে বিদায়ের মুহূর্ত। বিজয়ার বিষাদে মিশে থাকে আবার ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি। উমার বিদায় তাই বিচ্ছেদের বেদনা হলেও তার মধ্যে পরবর্তী আগমনের আশ্বাস রয়েছে।

আগমনী ও বিজয়ার এই আবেগময় বৃত্ত মানবজীবনেরও প্রতিচ্ছবি। জীবনে আগমন ও প্রস্থান, মিলন ও বিচ্ছেদ, আনন্দ ও বিষাদ পাশাপাশি চলে। মানুষ প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে আনন্দিত হয়, আবার বিচ্ছেদের মুহূর্তে তার মূল্য আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করে। বাংলা আগমনী গানের ঐতিহ্য এই সাধারণ মানবিক সত্যকে দেবী উমার কাহিনির মাধ্যমে চিরন্তন করে তুলেছে।

নজরুলের ভক্তিগীতি ও মানবিক অনুভূতিনির্ভর সংগীতের আলোকে এই আবেগকে বুঝলে দেখা যায়, দেবীবন্দনা মানুষের অন্তর্জগতের সঙ্গেও নিবিড়ভাবে যুক্ত। প্রার্থনা, আকুলতা, ভালোবাসা ও আশ্রয়ের আকাঙ্ক্ষা কোনো একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের একচেটিয়া অনুভূতি নয়; এগুলি মানুষের সর্বজনীন অভিজ্ঞতা।

আজকের সমাজে নজরুলের প্রাসঙ্গিকতা-

একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নজরুলকে স্মরণ করার অর্থ শুধু তাঁর গান শোনা কিংবা তাঁর সাহিত্যকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রদ্ধা জানানো নয়। তাঁর সৃষ্টির মানবিক মূল্যবোধকে ব্যক্তিগত জীবন ও সামাজিক আচরণে প্রতিফলিত করাও জরুরি।

দুর্গোৎসবের আনন্দের সঙ্গে যদি আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সংকল্প যুক্ত করতে পারি, নারীর প্রতি সম্মানকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করতে পারি, ভিন্ন ধর্মের মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্য বজায় রাখতে পারি এবং সামাজিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতন হতে পারি, তবেই উৎসবের তাৎপর্য আরও গভীর হবে।

নজরুলের আগমনী সুর আমাদের এই উপলব্ধির দিকে নিয়ে যেতে পারে। মা দুর্গার আগমন যেমন নতুন আশার প্রতীক, তেমনই নজরুলের মানবতাবাদী চেতনা হতে পারে সমাজের নৈতিক পুনর্জাগরণের অনুপ্রেরণা। দেবীর শক্তি আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখাক, তাঁর মাতৃরূপ আমাদের স্নেহ ও সহমর্মিতার শিক্ষা দিক, আর নজরুলের সংগীত আমাদের ভিন্নতার মধ্যে মিল খুঁজে নিতে সাহায্য করুক।

সর্বোপরি, শরতের আকাশে যখন কাশফুল দোলে, শিউলির সুবাসে ভরে ওঠে সকাল এবং আগমনী সুরে মুখরিত হয় বাংলার জনপদ, তখন মা দুর্গার আগমন আমাদের সামনে আনন্দ, শক্তি ও ভালোবাসার এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠে। কাজী নজরুল ইসলামের আগমনী ও দেবীবন্দনামূলক সংগীত এই সাংস্কৃতিক আবেগকে আরও সমৃদ্ধ করে। তাঁর সৃষ্টির বহুমাত্রিকতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ভক্তি মানুষের হৃদয়কে কোমল করতে পারে, শক্তির আরাধনা অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর প্রেরণা দিতে পারে, আর সংস্কৃতি মানুষে মানুষে দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারে।

নজরুলের প্রকৃত প্রাসঙ্গিকতা তাই শুধু তাঁর গানের সুরে নয়, সেই সুরের অন্তর্নিহিত মানবিক আহ্বানে। মা দুর্গার বন্দনা যদি আমাদের মানুষের মর্যাদা রক্ষা করতে শেখায়, শক্তির আরাধনা যদি আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী করে এবং উৎসব যদি আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধায় আবদ্ধ করে, তবে আগমনী সুর সত্যিই মানবতার জয়গানে পরিণত হবে।

মা দুর্গার আগমন হোক শক্তি, সম্প্রীতি ও আশার বার্তা; আর নজরুলের সৃষ্টির আলোয় বাঙালির শারদোৎসব হয়ে উঠুক ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে মানবিক মিলনের এক উজ্জ্বল উৎসব।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.