সময়-চোর ভূত
মিনহাজুল হক
October 3, 2026
শ্রীপুর গ্রামে একশো বছরের পুরোনো একটা লাইব্রেরি ছিল। ধুলো পড়া বইয়ের সারি, কাঠের জানালায় বটের ছায়া, আর দেয়ালের পুরোনো ঘড়িটা বহু বছর ধরে থেমে আছে। এই গ্রামেই থাকে ছোট্ট মেয়ে টুপু, ক্লাস পাঁচে পড়ে। বিকেল হলেই সে ছুটে আসে লাইব্রেরিতে, প্রিয় গল্পের বই পড়তে।
একদিন টুপু লাইব্রেরির কোণার তাক থেকে একটি পুরোনো কাঠের বাক্স পেল। বাক্সের ঢাকনার উপর লেখা—“সময়-চোর ভূতের সাতটি চাবি”। হঠাৎ ঠান্ডা বাতাস বয়ে এল, আর বাক্স থেকে ছোট্ট একটি ভূত এসে হাজির হলো। তার নাম টিকটিক। মাথায় পুরোনো ঘড়ির দমের টুপি, গায়ে ছোট্ট কোর্ট, হাতে ছোট্ট ঘড়ির দোলক। টিকটিক বলল, “আমি সময়-চোর ভূত টিকটিক। আমি মানুষের নষ্ট করা সময় চুরি করে জমিয়ে রাখি।”
টুপু অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করল, “তুমি কেন সময় চুরি করো?” টিকটিক হেসে বলল, “যারা সময় নষ্ট করে—খেলার বদলে শুধু গেম, কাজের বদলে অলস ঘুম, আড্ডায় অযথা সময়—তাদের সময় আমি আমার কাছে রেখে দিই। সাতটি চাবির ভেতরে সাতজনের নষ্ট সময় বন্দি হয়ে আছে। এগুলো মুক্ত করতে পারলে গ্রামের ঘড়ি আবার চলবে, নাহলে সময় থেমে যাবে চিরদিন।”
টুপু বলল, “আমি চাবিগুলো ফিরিয়ে আনব।” টিকটিক বলল, “তবে চলো, সাহস থাকলে খুঁজে দেখো।” প্রথম তারা গেল গ্রামের খেলার মাঠে। মাঠ আজ ফাঁকা, বাচ্চারা বই-বল ফেলে মোবাইলে গেম খেলছে। টুপু বলল, “খেলাধুলা শরীর ও মন ভালো রাখে। সময় নষ্ট না করে একটু খেলো।” এক ছেলে বুঝতে পেরে প্রথম চাবিটি টুপুর হাতে তুলে দিল।
এরপর তারা গেল পুকুরপাড়ে। পুকুরের পাশের কাঠের টেবিলে বসে কয়েকজন শুধু অলস আড্ডা দিচ্ছে। টুপু বলল, “কাজ শেষ করে বিশ্রাম ভালো, কিন্তু সারাদিন আড্ডা নয়। সময়ের কাজ সময়ে করো।” কথাটি শুনে একজন পুকুরপাড় থেকে দ্বিতীয় চাবিটি বের করে দিল।
লাইব্রেরির পাশের বাড়িতে টুপু দেখল দাদু চেয়ারে ঘুমিয়ে আছেন, সারাদিন ঘুম আর বিশ্রাম। টুপু আস্তে দাদুকে ডেকে বলল, “দাদু, সকালে হাঁটাহাঁটি করলে শরীর ভালো থাকে। বাগানের গাছগুলোও সময়মতো যত্ন চায়।” দাদু হেসে উঠে তৃতীয় চাবিটি দিলেন।
তারপর চায়ের দোকানে গিয়ে দেখল কিছু ছেলে এখনো মোবাইলে গেম খেলছে, পড়ালেখা ফেলে। টুপু বলল, “একটু গেম ঠিক আছে, কিন্তু পড়াশোনা আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো জরুরি।” ছেলেটি লজ্জা পেয়ে চতুর্থ চাবিটি ফিরিয়ে দিল।
এভাবে টুপু আরও তিনটি চাবি খুঁজে পেল—চায়ের দোকানের বুড়ো মামার কাছ থেকে ৫ম চাবি, যে শুধু গল্পে সময় নষ্ট করত; বসে, গেমের ছেলেটি এখন সময় মেনে পড়াশোনা করায় দোকানে এখন অল্প সময়ের আড্ডা আর বেশি কাজ। গ্রামে প্রাণ ফিরে গ্রামে নতুন আলো ছড়িয়ে পড়ল। টিকটিক ভূত হেসে বলল, “টুপু, তুমি সবাইকে সময়ের মূল্য বোঝালে। আজ থেকে আমি আর সময় চুরি করব না, বরং সময়কে রক্ষা করব।”
কাঁটায় ঘোরে সময় গ্রাম বদলে গেল।
সেদিন থেকে শ্রীপুর গ্রাম বদলে গেল। টুপু এখন পাড়ার পাশাপাশি বন্ধুদের সময়ের হিসাব রাখতে শেখায়। দাদু সকালে বাগান করেন, গেমের ছেলেটি এখন সময় মেনে পড়াশোনা করে, চায়ের দোকানে এখন অল্প সময়ের আড্ডা আর বেশি কাজ। গ্রামে প্রাণ ফিরে এল।
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...