ওষুধ: আশীর্বাদ যখন, অভ্যাস কেন?
অর্কনীল রায়, একাদশ শ্রেণী
September 28, 2026
মানুষের জীবনে অসুস্থতা অনিবার্য। কখনও সামান্য, কখনও গুরুতর—বিভিন্ন রোগ ও শারীরিক সমস্যার সঙ্গে মানুষকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়। এই লড়াইয়ে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে এক অসাধারণ শক্তি—ওষুধ। একসময়ের দুরারোগ্য বহু রোগ আজ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়েছে ওষুধের কল্যাণে। অসংখ্য মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে, কমেছে যন্ত্রণা, ফিরে এসেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তাই ওষুধ নিঃসন্দেহে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক মহান আশীর্বাদ।
কিন্তু প্রশ্ন হল—আশীর্বাদ যখন, অভ্যাস কেন?
বর্তমান সমাজে সামান্য শারীরিক অস্বস্তিতেই ওষুধ গ্রহণের প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। মাথা একটু ধরলেই ব্যথার ওষুধ, সামান্য অম্বল হলেই গ্যাসের ওষুধ, একটু সর্দি-কাশি হলেই নানা ধরনের ওষুধ—যেন শরীরের প্রতিটি সংকেতের একমাত্র উত্তর একটি বড়ি। অনেকের কাছে ওষুধ আর চিকিৎসার অংশমাত্র নয়; তা হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন জীবনের তাৎক্ষণিক সমাধান।
সমস্যাটা এখানেই।
শরীরের প্রতিটি অস্বস্তি যে ওষুধের মাধ্যমে দূর করতে হবে, এমন নয়। অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত পরিশ্রম, মানসিক চাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত জল না খাওয়া কিংবা দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের কারণেও সাময়িক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। তখন শরীরকে একটু বিশ্রাম দেওয়া, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা কিংবা প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই বেশি যুক্তিসঙ্গত। উপসর্গ দেখা দিলেই ওষুধ খেয়ে তাকে চেপে দেওয়া সবসময় সমস্যার সমাধান নয়।
আরও উদ্বেগের বিষয় হল নিজে নিজে চিকিৎসা করার প্রবণতা। পুরোনো প্রেসক্রিপশন দেখে একই ওষুধ আবার শুরু করা, পরিবারের কারও ওষুধ নিজের জন্য ব্যবহার করা, বন্ধুর পরামর্শে কোনো ওষুধ গ্রহণ করা কিংবা ইন্টারনেটে পড়ে নিজের রোগ নিজেই নির্ধারণ করে ফেলা—এসব এখন অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। অথচ একই উপসর্গের পেছনে সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। একজনের জন্য কার্যকর কোনো ওষুধ অন্য ব্যক্তির জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে।
বিশেষত অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে এই অসচেতনতা আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়; সাধারণ ভাইরাল সর্দি-কাশির মতো সব অসুস্থতার জন্য এগুলি কার্যকর নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা, নিজের ইচ্ছায় তা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা অন্যের প্রেসক্রিপশন অনুসরণ করা অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যাকে তীব্র করতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে কিছু সংক্রমণের চিকিৎসা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে ওষুধের অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করতে গিয়ে যেন আমরা উল্টো আরেকটি ভুল না করি—প্রয়োজনীয় ওষুধকে অস্বীকার করা। ওষুধ না খাওয়াই সচেতনতার পরিচয় নয়। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হাঁপানি, সংক্রমণ এবং বহু দীর্ঘমেয়াদি রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কখনও কখনও একটি নির্দিষ্ট ওষুধ নিয়মিত গ্রহণ করাই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রধান উপায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নির্ধারিত ওষুধ বন্ধ করে দেওয়াও ঠিক নয়।
অর্থাৎ, আসল বিষয়টি ওষুধ খাওয়া বা না খাওয়া নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ওষুধ গ্রহণ করা।
(ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির)
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...