শহর আগরতলা যেন এক মিনি মুম্বাই-

সমর চক্রবর্তী

September 16, 2026

এবার মা-বেটার লড়াইটা সত্যিই অর্থেই শুরু হয়ে গেল বলা যায়।মর্তে এই লড়াইটা আবার যে সে লড়াই নয়।মাতা ও সন্তানের মধ্যে জনপ্রিয়তার

লড়াই।হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা বিশেষতঃ বাঙালী হিন্দুরা এতদিন ধরে লক্ষ্য করে এসেছে এবং দেখেছে-বছরের সেরা তিনটি দিন হল- শারদীয় দুর্গোৎসবের দিনগুলো। অন্ততঃ পঞ্চাশের দশকে জন্ম নেয়া এই ত্রিপুরার প্রবীনেরাও তাই জেনে এসেছে। কিন্তু একবিংশ শতকের এই ২০২৬ ইংরেজিতে এসে দেখা যাচ্ছে-আশ্বিনের একধাপ আগে এই ভরা ভাদ্দরের তীব্র দাবদাহের আবহাওয়াতেও

পার্বতী-নন্দন গণপতি বাপ্পা মোরয়া এখন এই ত্রিপুরার সর্বত্র তার মায়ের জনপ্রিয়তার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করে দিয়েছে।

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে গণপতি বাপ্পার আরাধনা।গত কয়েক বৎসর ধরে ত্রিপুরার বিশেষতঃ আগরতলা,ধর্মনগর,

কৈলাসহর শহরগুলোতে ৬/৭টা করে গনেশ চতুর্থী পুজোর সার্বজনীন রূপ দিয়ে যথেষ্ট ঘটা করে পুজো হয়ে চলেছিল।

কিন্তু এ বছর ২০২৬ সালে

এসে সেই গণপতি বাপ্পার চোখধাঁধানো সার্বজনীন পুজোর আয়োজন ও সংখ্যা দেখে রীতিমতো চক্ষু চড়কগাছ হবার জোগাড়।

১৪ সেপ্টেম্বর থেকে পুজো শুরু হয়েছে।আর ১৫ তারিখ বিকেল থেকে রাত গোটা আগরতলা শহরে জনঢল।শহরের কোথাও তিল ধারণের জায়গা নেই।শুধু মানুষ আর মানুষ।হাজার হাজার দর্শনার্থীর ভীড়।আর পুজো মন্ডপ মানে?একেবারে দুর্গা পুজার মন্ডপকেও ছাড়িয়ে যায়। একদিকে আকাশচুম্বী

পুজা মন্ডপ।তার পাশেই আবার অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও জমকালো সাংস্কৃতিক মঞ্চ।আর অন্যপাশে চলেছে নিরবধি প্রসাদ বিতরণ।

পুজোকে কেন্দ্র করে কত রকমারী খাবার দাবারের দোকান। কিন্তু কি অদ্ভুত দর্শনার্থীদের আচরণ।মোমো- বিরিয়ানির দোকান ফেলে আট থেকে আশি- সব বয়সের মানুষ লাইন দিয়ে

গনেশ পুজোর অন্ন প্রসাদ নিচ্ছেন।একদন্ত সামাজিক সংস্হার পুজোতে প্রসাদ নিতে আগরতলার ওরিয়েন্ট চৌমুহনীর লাইন চলে গেছে একবারে শকুন্তলা রোড পেরিয়ে।অপরদিকে রবীন্দ্র ভবন সংলগ্ন জুয়েলস্ এসোসিয়েশনের প্রসাদ গ্রহণের লাইন চলে গেছে একেবারে জগন্নাথ বাড়ি এলাকায়।আকর্ষণীয় প্যান্ডেল, মূর্তি ও সাংস্কৃতিক মঞ্চ গড়ে দর্শনার্থীদের মন জয় করে নিয়েছে গণপতি সামাজিক সংস্হা ও একদন্ত সামাজিক সংস্হা।

একটা আবেগ-নিষ্ঠা-

বিশ্বাস ও ঈশ্বরের প্রতি আস্হা এবং ভরসার এক অতি বিশ্বস্ত ভালোবাসাই হল এই আধ্যাত্মিক ভারতের বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য।নেট দুনিয়া আর ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগেও মানুষের

আস্হা ও বিশ্বাস এই পুজো উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে ভগবানের প্রতি যেন দিন দিনই বেড়ে চলেছে।আর বারো মাসে তেরো পার্বণের মাঝে বাঙালীদের হৃদয়ে যে কখন মারাঠী সংস্কৃতির শ্রেষ্ঠ আরাধ্য দেবতা-গণপতি বাপ্পা মোরয়াও এখন ত্রিপুরার মানুষের হৃদয়ে পরম আরাধ্য দেবতা রূপে স্হান করে নিয়েছে।

শহর আগরতলায় এ বছর গনেশ চতুর্থী পুজোকে কেন্দ্র করে যে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন ও সেইসাথে শহরজুড়ে যে জনঢল গনেশ পুজোতেই দেখা গেছে-তাতে আশ্বিনের শারদোৎসব

যে এবার কোন জনপ্লাবনের দিকে এগিয়ে আসছে- বলা মুশকিল।তবে এ বছর ত্রিপুরার আগরতলা শহর ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যে হারে সার্বজনীন গনেশ পুজোর হার বেড়েছে,তা আগামী বছর যে তার সংখ্যা ও আড়ম্বর কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে বলা মুশকিল।তবে এটি ঘটনা-এ বছর শহর আগরতলায় বলা যায় হঠাৎ করেই গনেশ পুজোর সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বজনীন পুজো ছাড়াও বহু বাঙালী বাড়িঘরে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে প্রচুর গনেশ পুজো হচ্ছে।যা ত্রিপুরায় এক নতুন রেকর্ড ও ইতিহাস।

ভারতের মহারাষ্ট্রের মুম্বাই ও পুনে শহরে সবচেয়ে বেশি জাঁকজমক ভাবে গনেশ পুজো হয়।আড়ম্বড়ের দিক থেকে মুম্বাই শহর এগিয়ে থাকলেও সামাজিক ও সার্বজনীন রূপ দেবার ঐতিহাসিক সূচনাটি হয়েছিল এই পুনে শহর থেকেই।লোকমান্য বালগঙ্গাধর তিলক ১৮৯৩ সালে এই পুজাকে সার্বজনীন রূপ দেন।শুধুমাত্র মুম্বাই শহরেই সার্বজনীন গনেশ পুজা হয় ১৫ হাজারের উপর।পুনে শহরে সার্বজনীন পুজো হয় ৫ হাজারের উপর।এছাড়া নাগপুর,থানে,নাসিক এবং গ্রামীন এলাকা নিয়ে শুধু সার্বজনীন পুজোই হয় কয়েক লক্ষ।আর বাড়িঘরের পুজোকে ধরলে পরে গোটা মহারাষ্ট্রে এই গনেশ পুজোর সংখ্যা প্রায় কোটি ছাড়িয়ে যাবে।

এই পুজোর রেশ এখন মুম্বাই থেকে আছড়ে পড়েছে এবার শহর আগরতলাতেও।আশা করা হচ্ছে এই বছরেই পুজোর বহরের যে ট্রেলার দেখা গেছে- তা আগামী বছর থেকে এই পুজো যে ধীরে ধীরে অন্য বড় জনপ্রিয় পুজোকেও টেক্কা দিতে চলেছে- তা হলফ করে বলা যায়‌।তবে এই মুহূর্তে শহর আগরতলায় গণপতি বাপ্পার যে ট্রেন্ড দেখা গেল, তাতে মনে হচ্ছে-এই মুহূর্তে

শহর আগরতলা যেন এক ছোটখাটো মিনি মুম্বাই।

আরও পড়ুন...


Post Your Comments Below

নিচে আপনি আপনার মন্তব্য বাংলাতেও লিখতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ
আপনার মন্তব্য বা কমেন্ট ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই লিখতে পারেন। বাংলায় কোন মন্তব্য লিখতে হলে কোন ইউনিকোড বাংলা ফন্টেই লিখতে হবে যেমন আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড (Avro Keyboard)। আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ডের সাহায্যে মাক্রোসফট্ ওয়ার্ডে (Microsoft Word) টাইপ করে সেখান থেকে কপি করে কমেন্ট বা মন্তব্য বক্সে পেস্ট করতে পারেন। আপনার কম্পিউটারে আমার বাংলা কিংবা অভ্রো কী-বোর্ড বাংলা সফ্টওয়ার না থাকলে নিম্নে দেয়া লিঙ্কে (Link) ক্লিক করে ফ্রিতে ডাওনলোড করে নিতে পারেন।

Free Download Avro Keyboard

Fields with * are mandatory





Posted comments

Till now no approved comments is available.