"নবচন্দনা"র এক অনন্য ও অনবদ্য অনুষ্ঠানে "পদ্মশ্রী" নরেশ চন্দ্র দেববর্মা
সমর চক্রবর্তী
August 24, 2026
ককবরক ভাষাকে মৌখিক রূপ থেকে একটি সমৃদ্ধ লিখিত রূপ দিতে জীবনের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় যিনি সাহিত্য ক্ষেত্রে উৎসর্গ করেছেন,তিনি ত্রিপুরার কৃতি সন্তান "পদ্মশ্রী" নরেশ চন্দ্র দেববর্মা।যার হাত ধরে ৩০ এর অধিক গ্রন্থ রচিত হয়েছে- যা আদিবাসী সাহিত্য ও ককবরক ভাষাকে সমৃদ্ধ করেছে।
ত্রিপুরার জনজাতি ও মাতৃভাষার প্রসারে তার আজীবন সাধনা, সমগ্র ত্রিপুরার জন্য এক গৌরবের বিষয়।সাহিত্য ও শিক্ষায় তার অনন্য অবদানের জন্য ভাষাবিদ ও সাহিত্যিক নরেশ চন্দ্র দেববর্মাকে ভারত সরকার এ বছর ২০২৬ সালে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার- পদ্মশ্রী সম্মানে তাকে সম্মানিত ও ভূষিত করা হয়।
আর এ রকম একজন রাজ্যের কৃতি সন্তানের হাতে একগুচ্ছ পুস্তক রাশি তুলে দেবার সৌভাগ্য ও গৌরব অর্জন করার আজ(২৩ আগস্ট,২৬)আমার এক বিরল সুযোগ ঘটে।এই অভূতপূর্ব সুযোগ যিনি আমাকে করে দিয়েছেন,তিনিও এ রাজ্যের প্রকাশনা জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র যার নিরলস প্রচেষ্টা,ত্যাগ-তিতিক্ষায় যার নিরবধি প্রয়াস এখনো এই প্রকাশনা ও সাহিত্য সৃষ্টির জগতে বহমান- তিনি বন্ধুবর কবি-লেখক-সম্পাদক ও প্রকাশক শ্রী পূর্ণেন্দু গুপ্ত।
আজ সন্ধ্যায় আগরতলা রামনগরে অবস্হিত রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্হা "নবচন্দনা" প্রকাশনী গৃহে সাহিত্য- সংস্কৃতির নক্ষত্র সমাবেশে এক চাঁদের হাট বসেছিল।এই হাটে অবগাহন করার সুযোগ ঘটেছিল রাজ্যের প্রথিতযশা লেখক ও সাহিত্যিক বন্ধুবর পান্নালাল রায় ও তার সহধর্মিনী বসুমিত্রার হাত ধরে।
উপলক্ষ্য-নবচন্দনা প্রকাশনীর উদ্যোগে রাজ্যের কৃতি সন্তান ও রাজ্যের সাহিত্য-গৌরব পদ্মশ্রী নরেশ চন্দ্র দেববর্মাকে সম্বর্ধনা জ্ঞাপন ও একঝাঁক কবি- লেখক ও সাংস্কৃতিক শিল্পীদের দ্বারা সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানটিকে চির ভাস্বর ও উজ্জ্বল করে রাখা।
নবচন্দনা প্রকাশনীর আরেক কর্ণধার বাচিক শিল্পী ও কবি লেখক ডঃপূর্বিতা গুপ্ত গোটা অনুষ্ঠানের মূল সূচনার সূত্রটি বেঁধে দিয়েছিলেন আগেই।ফলে এই অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল অনন্য ও অনবদ্য।পদ্মশ্রী নরেশ চন্দ্র দেববর্মার পাশেই বসেছিলেন রাজ্যের দুই প্রথিতযশা সাহিত্যিক শ্রী পান্নালাল রায় ও ডঃ আশীষ কুমার বৈদ্য।এই তিন তারকা সাহিত্যিককে ঘিরে এই নবচন্দনা প্রকাশনী গৃহের অনুষ্ঠানে আগরতলার বিশিষ্ট কবি- লেখক ও সাংস্কৃতিক শিল্পীদের উপস্থিতি ও উপস্হাপনা ছিল নজরকাড়া।অনেকেই আলোচনা করেছেন।অনেকে কবিতা পাঠ করেছেন।আবার ছোট্ট নৃত্য শিল্পী প্রাচী ঘোষ দস্তিদারও অপূর্ব নৃত্যশৈলী উপস্হাপনা করে মুগ্ধ করেছেন বড়দেরকে।
২৩ আগস্টের একটি মনোরম ও রিদ্ধ সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে নবচন্দনা প্রকাশনীর প্রাণপুরুষ পূর্ণেন্দু গুপ্ত তার শিল্প ও সাহিত্য সাধনার দিকটিকে আবারো এক অনন্য পরিচয় ও অন্যমাত্রা দিয়েছেন একটি অনাড়ম্বর ও ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে।
অনুষ্ঠানে কবি জহরলাল দাস,বিথিকা দেব,স্বপন মজুমদার সহ আরো অনেকে কবিতা পাঠ ও সংগীত পরিবেশন করেছেন।দীর্ঘ দিন পরে কোন প্রকাশনা সংস্হার উদ্যোগে এত প্রাণবন্ত অনুষ্ঠান উপভোগ করার সৌভাগ্য হল বলা যায়।আর যে অনুষ্ঠানে পদ্মশ্রী প্রাপক নরেশ চন্দ্র দেব বর্মার মতো কৃতি সাহিত্যিকের উপস্হিতি থাকে- সে অনুষ্ঠান আর অনুষ্ঠান থাকে না।সেটি হয়ে উঠে এক বিরল প্রতিভাধরদের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র রাশির হাট।
এই অনুষ্ঠান থেকে সবচেয়ে বড় যে প্রাপ্তি যোগ ঘটল তাহল-অকপট নরেশ চন্দ্র দেববর্মাকে কাছ থেকে দেখা ও তার স্বভাবসুলভ সহজ সরল বিনয়ী বক্তব্য অনুধাবন করার অপার সুযোগ।তিনি সবশেষে তার জীবনের নানান ঘাত প্রতিঘাত এর দিক সেই সাথে নিরলসভাবে ককবরক সাহিত্য সাধনার কথাগুলো অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে তুলে ধরলেন।যা উপস্হিত সকল গুণীজনদের মুগ্ধ করে তোলে।
এই অভূতপূর্ব ও অনন্য অনুষ্ঠানটিকে সামনে থেকে সঞ্চালনা ও পেছন থেকে যারা প্রেরণা ও সহযোগিতা করে এর সফল পূর্ণতা দিয়েছেন তারা হলেন-রামপ্রসাদ দাস,সুমিতা সেনগুপ্ত ও আমাদের মিস্টি দিদিমনি পুষ্পিতা গুপ্ত।
আরও পড়ুন...