এডিসি-র ভিলেজ ভোটের আগে দিল্লির ‘বিজেপি-ডিল’-এর বিনিময়ে কী পাবে তিপ্রা মথা?
জয়ন্ত দেবনাথ
August 12, 2026
২০২৪ সালের ২ মার্চ স্বাক্ষরিত কেন্দ্রীয় সরকার, ত্রিপুরা সরকার এবং তিপ্রা মথার মধ্যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়নের দাবিতে তিপ্রা মথার প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন দিল্লিতে একের পর এক বৈঠক ও দর-কষাকষি চালিয়ে যাচ্ছেন। এগার আগষ্ট বিজেপির সর্ব ভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, সাধারণ সম্পাদক বি এল সন্তোষ ও দলের মুখপাত্র তথা উত্তর-পূর্ব রাজ্য গুলির কোর্ডিনেটর সম্বিত পাত্রা- এর উপস্থিতিতে তিপ্রামথার ফাউন্ডার প্রদুত কিশোর দেববর্মন, এম এল এ রঞ্জিত দেববর্মা, মন্ত্রী বৃষকেতু দেববর্মা ও পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া- এর উপস্থিতিতে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তিপ্রামথার ফাউন্ডার প্রদুত কিশোর দেববর্মন বলেছেন তিপ্রাসা ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন না হলে আসন্ন এডিসি-র ভিলেজ
কাউন্সিল ভোটে বিজেপি-র সাথে তিপ্রামথার কোন এলাযেন্স হবেনা। একথা তিপ্রামথার ফাউন্ডার প্রদুত কিশোর দেববর্মন নিজেই বৈঠকের পর তার ফেসবুক লাইভে স্পষ্ট করেছেন। আর বলেছেন আগামী সতের তারিখ তিপ্রামথার সিনিয়র সবাইকে নিয়ে আগরতলাতে বৈঠকের পর দলের পরবর্তী রন কৌশল ঠিক করবেন। এগার আগষ্টের দিল্লির বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে, না হয়নি এই নিয়ে প্রদুত কিশোর দেববর্মন কিছুই স্পষ্ট করেননি। তবে রঞ্জিত দেববর্মা-র মতে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব চান ত্রিপুরার আদিবাসীদের জন্য পজিটিভ কিছু একটা করতে। পাশাপাশি তিপ্রামথার সাথে বিজেপির এলাযেন্স থাকুক এবং আসন্ন এডিসি-র ভিলেজ
কাউন্সিল নির্বাচনে দুই দলের আতাঁত হোক দিল্লির এমন ইচ্ছার কথাও স্বীকার করেছেন রঞ্জিত দেববর্ম। তবে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন না হলে এডিসি-র ভোটে আতাঁত হবেনা এমন কথা বলেছেন রঞ্জিত দেববর্মও। বিজেপি-র দিল্লির নেতৃত্ব এডিসি-র ভোটের আগে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির কোন কোন শর্ত বাস্তবায়ন করা যায় তা বিচার বিশ্লেষণ করে খুব শীঘ্রই একটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা বলেছেন বলে ত্রিপুরাইনফো-কে জানিয়েছেন রঞ্জিত দেববর্মা। কিন্তু এরই মধ্যে ত্রিপুরার উপজাতি বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশের মধ্যে বড় প্রশ্ন উঠেছে তিপ্রামথার সাথে ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে এমন নির্দিষ্ট করে কী রয়েছে, যা এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব?
২০২৪ সালের ২ মার্চের চুক্তিতে ত্রিপুরার আদিবাসী জনগণের ইতিহাস, ভূমির অধিকার, রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভাষা-সহ বিভিন্ন বিষয় সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাবে সমাধানের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, পারস্পরিক ভাবে সম্মত বিষয় গুলি চিহ্নিত করে সেগুলি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য একটি জয়েন্ট ওযার্কিং কমিটি গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রকাশিত নথিতেও চুক্তির এই বিষয় গুলিই উল্লেখ করা হয়েছে।
কিন্ত সমালোচকদের একাংশের মতে, এটি কোনও নির্দিষ্ট ‘ফাইনাল প্যাকেজ’ নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা গুলির সমাধানের জন্য একটি কাঠামো। তাই প্রশ্ন উঠেছে ‘এখনই বাস্তবায়নের মতো নির্দিষ্ট বিষয়টি কোথায়?’
উপজাতি বুদ্ধিজীবীদের একাংশের মূল প্রশ্ন-
প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মন যে চুক্তির বাস্তবায়নের কথা বলে দিল্লিতে দর-কষাকষি করছেন, সেই চুক্তির ঠিক কোন কোন বিষয় ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত এবং এখনই বাস্তবায়নযোগ্য তা একেবারেই স্পষ্ট নয়।
তাদের বক্তব্য, ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা এডিসি-কে সরাসরি কেন্দ্রীয় অর্থ দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট বিধান নেই। একইভাবে, বহুল আলোচিত ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল, ২০১৯-এর বাস্তবায়নের কথাও এই ২০২৪ সালের ত্রিপাক্ষিক চুক্তিতে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, ১২৫তম সংবিধান সংশোধনী বিল, ২০১৯ রাজ্যসভায় ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ পেশ করা হয়েছিল এবং এর লক্ষ্য ছিল ষষ্ঠ তফসিল ও ফিনান্স কমিশন-সংক্রান্ত কিছু বিধানে পরিবর্তন আনা। বিলটি স্ট্যান্ডিং কমিটির কাছেও পাঠানো হয়েছিল। কিন্ত তারপর বিলটি ঠান্ডা ঘরে চলে গেছে।
অন্যদিকে, বর্তমান ষষ্ঠ তফসিলের আওতায় যে ভূমির অধিকার ও ক্ষমতা রয়েছে, তার বাইরে আরও বড় ধরনের সাংবিধানিক ভূমি-অধিকার দিতে হলে শুধুমাত্র প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত যথেষ্ট হবে না, এক্ষেত্রেও প্রয়োজনে সাংবিধানিক সংশোধনের প্রশ্ন উঠতে পারে।
তাই ‘সাংবিধানিক সমাধান’ বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, কোন কোন ক্ষমতা বাড়ানো হবে এবং তার জন্য কী ধরনের আইন বা সাংবিধানিক পরিবর্তন প্রয়োজন, এখন সেটিই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞ, জাতি উপজাতি বুদ্ধিজীবীদের একটি অংশ ও সমালোচকরা। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন
শিক্ষা, ভাষা ও ককবরক লিপিই কি ‘সাংবিধানিক সমাধান’?
চুক্তির আলোচনায় শিক্ষা, ভাষা, সংস্কৃতি এবং ককবরক ভাষার লিপি নিয়ে বিভিন্ন দাবি সামনে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, শুধু শিক্ষা ও ভাষার অধিকার কিংবা রোমান হরফে ককবরক লেখার ব্যবস্থা করলেই কি ত্রিপুরার আদিবাসী সমাজের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে?
উপজাতি বুদ্ধিজীবীদের একাংশের মতে, আদিবাসী সমাজের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য ভূমির নিরাপত্তার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, যোগাযোগ, কৃষি, পর্যটন, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং স্থায়ী জীবিকার মতো বিষয় গুলিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
তাদের বক্তব্য, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই গোটা সমস্যার একমাত্র সমাধান নয়।
দুই দফা ক্ষমতায় থেকেও এডিসি-র উন্নয়নে দৃশ্যমান সাফল্য কোথায়?
সমালোচনার আরেকটি বড় দিক সরাসরি তিপ্রা মথার নিয়ন্ত্রণাধীন এডিসি-র কার্যকলাপকে ঘিরে।
সমালোচকদের দাবি, তিপ্রা মথা দু’বার এডিসি-র ক্ষমতায় এলেও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এখনও পর্যন্ত এমন কোনও বড় ও দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। কর্মসংস্থান, পানীয় জল, রাস্তাঘাটের মত মৌলিক সমস্যা গুলির এখন পর্যন্ত সমাধান সম্ভব হয়নি।
বরং এডিসি-র বিভিন্ন সম্পত্তি ও সম্পদ লিজ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
ডম্বুর হ্রদ ২৫ বছরের জন্য লিজ প্রদান নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ডম্বুর হ্রদের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণের সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক অবস্থান স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, এডিসি-র ভূমিকা মূলত ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত হলেও হ্রদের সম্পূর্ণ মালিকানা এডিসি-র হাতে রয়েছে কি না, তা সরকারি নথির ভিত্তিতে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এডিসি-র অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ৪২ বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত ডম্বুর হ্রদ, যা একদিকে ডম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং অন্যদিকে শত শত মৎস্যজীবী পরিবারের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস, ২০২২ সালে ২৫ বছরের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের একটি সংস্থার কাছে লিজ দেওয়া হয়।
এখানেই প্রশ্ন উঠেছে কীভাবে এবং কোন ক্ষমতাবলে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলসম্পদ ২৫ বছরের জন্য লিজ দেওয়া হল?
এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত বিস্তারিত ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। রাজনৈতিক স্বার্থের কারণে রাজ্যের বিজেপি সরকারের নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সমালোচকরা।
অভিযোগ অনুযায়ী, শুরুতে বিশাখাপত্তনমের ওই সংস্থা হ্রদের উপর নির্ভরশীল মৎস্যজীবীদের প্রত্যেককে মাসে ৯,০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু পরে সেই মাসিক অর্থ প্রদান বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে মৎস্যজীবীদের মাছ ধরতে দেওয়া হলেও অত্যন্ত কম দামে লিজগ্রহীতা সংস্থার কাছে মাছ বিক্রি করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
ফলে মাছ বিক্রি করে যে অর্থ মৎস্যজীবী পরিবার গুলি পাচ্ছেন, তা দিয়ে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।
তবে এই অভিযোগ গুলির সত্যতা নির্ধারণের জন্য মূল লিজ চুক্তি, টেন্ডার নথি, অর্থপ্রদানের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট মৎস্যজীবীদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসা জরুরি।
খুমলুং পার্ক, এডিসি-র মালিকানাধীন তিনটি পেট্রোল পাম্প ও সিনেমা হলও লিজ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শুধুমাত্র তাই নয়, এডিসি-র আরও বেশ কিছু সম্পত্তি লিজ দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এডিসি-র অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র খুমলুং পার্ক, পার্ক সংলগ্ন কয়েকটি কটেজ ও অন্যান্য সম্পত্তি বাইরের এক ব্যবসায়ী শিবম জিন্দালের কাছে লিজ দেওয়া হয়েছে।
এমনকি জম্পুই পাহাড়ে লাভজনক একটি গেস্ট হাউসও নামমাত্র অর্থে লিজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে যে, এই সমস্ত সম্পত্তি লিজ দিয়ে এডিসি-র প্রকৃত আর্থিক লাভ কত হয়েছে? স্থানীয় জনগণ কতটা উপকৃত হয়েছে? এবং লিজের শর্তগুলি কি এডিসি-র স্বার্থের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করেছে কিনা?
সমালোচকদের প্রশ্ন, যে এডিসি ইতিমধ্যেই একাধিক সম্পত্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তারা যদি বৃহত্তর প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক ক্ষমতা পায়, তাহলে সেই ক্ষমতা কতটা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবে?
সমালোচকদের আরও অভিযোগ, এডিসি-র অধীনে থাকা বিভিন্ন সম্পত্তি পরিচালনার ক্ষেত্রে যদি স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থাকে, তাহলে দিল্লির কাছে আরও বৃহত্তর শাসনক্ষমতা দাবি করার আগে বর্তমান ক্ষমতার ব্যবহারের হিসাবও জনগণের সামনে রাখা উচিত।
এই বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রশ্ন।
ষষ্ঠ তফসিলের অধীনে এডিসি-র প্রশাসন যথেষ্ট স্বায়ত্তশাসন ভোগ করে। কিন্তু এডিসি ভারতের সংবিধানের বাইরে কোনও পৃথক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নয়। অর্থাৎ, ষষ্ঠ তফসিল নিজেই ভারতীয় সংবিধানের অংশ এবং এডিসি-র ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা সেই সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত।
ফলে কোনও এডিসি রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও ধরনের সমন্বয় বা অনুমোদন ছাড়াই রাজ্যের সম্পত্তি, ভূমি বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ নিয়ে ইচ্ছামতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে কি না, তা প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক বিধান, আইন, নিয়ম, নোটিফিকেশন এবং ক্ষমতা অর্পণের নথি দেখে নির্ধারণ করতে হবে।
একজন প্রবীণ আইন বিশেষজ্ঞের বক্তব্য অনুযায়ী, ষষ্ঠ তফসিল কোনও পৃথক সংবিধান নয়, এটি ভারতের সংবিধানেরই একটি অংশ। তাই এডিসি-র স্বায়ত্তশাসনের অর্থ এই নয় যে তারা সব বিষয়ে রাজ্য সরকারের সাংবিধানিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তাঁর মতে, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি ও সম্পদের ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে কোন কোন ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অনুমোদন বা সম্মতি প্রয়োজন, তা নথি ও আইনি বিধান অনুযায়ী খতিয়ে দেখা দরকার। অন্যথায় কোনও সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
তাহলে ‘সাংবিধানিক সমাধান’ বলতে কী?
এই পরিস্থিতিতে এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন—তিপ্রাসা চুক্তির ‘বাস্তবায়ন’ বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে?
সমালোচকদের মতে, কেন্দ্রীয় সরকার ও তিপ্রা মথার উচিত প্রকাশ্যে এসব স্পষ্ট করা। ত্রিপুরার উপজাতিদের উন্নয়নের নামে কোনও বিশেষ প্যাকেজ ঘোষনা করা হলে কারোর কোনও ধরনের আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্ত পাশাপাশি এডিসি-র বাইরে অনুন্নত অউপজাতি এলাকাবাসীর উন্নয়নের কথাও মাথায় রেখেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।বিশেষত, তিন দশকের সন্ত্রাসবাদীদের আক্রমণের কারনে ঘর বাড়ী ফেলে জীবন জীবিকা বাঁচাতে এডিসি-র বিভিন্ন এলাকা থেকে পালিয়ে আসা অউপজাতি মানুষের পুনর্বাসনের কথা অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।অন্যথা ভোটের স্বার্থে দলের একতরফা সিদ্ধান্তের ফল বুমেরাং হতে পারে।
এগার আগষ্ট দিল্লির বৈঠকের নির্যাস টানলে এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে আসন্ন এডিসি-র ভিলেজ
কাউন্সিল ভোটের লক্ষ্যে বিজেপির সাথে তিপ্রামথার নির্বাচনী সমঝোতা শুধুমাত্র সমযের অপেক্ষা। কিন্ত সবার নজর কিসের বিনিময়ে বিজেপি তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করতে চাইছেন? এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তরই এখন ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বেশি প্রত্যাশিত। ( লেখক একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও ত্রিপুরাইনফো-র সম্পাদক)
আরও পড়ুন...