রামকুমারঃউনিশ শতকের বঙ্গ সাহিত্যের ইতিহাসে অভিনব সংযোজন
পান্নালাল রায়
June 14, 2026
মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা কাব্যে' দুর্য্যোধনের প্রতি ভানুমতী বলছেন-
"অধীরা সতত দাসী যে অবধি তুমি
করি যাত্রা পশিয়াছ কুরুক্ষেত্র রণে,
নাহি নিদ্রা নাহি রুচি হে নাথ আহারে।
না পারি দেখিতে চ'খে খাদ্যদ্রব্য যত
কভু যাই দেবালয়ে;কভু রাজোদ্যানে
কভু গৃহ-চূড়ে উঠি দেখি নিরখিয়া
রণস্হল!..."
সমালোচক ও সংশ্লিষ্ট পণ্ডিতদের মতে বাংলা সাহিত্যের এই অনন্য সৃষ্টি মধুসূদনের 'বীরাঙ্গনা কাব্য'। তা প্রকাশিত হয়েছিল ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে।এই তথ্য বাংলা সাহিত্য সংশ্লিষ্ট প্রায় সকলের জানা থাকলেও হয়তো অনেকেরই এটা জানা নেই যে,বাংলার প্রান্তসীমায় বসে তার দশ বছর পর এক অখ্যাত কবি মধুসূদনের কাব্যের উত্তরে রচনা করেছিলেন 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য'।এই কাব্যে ভানুমতীর প্রতি দুর্য্যোধন বলছেন-
"জানি আমি বামাদল ভয়াতুরা অতি
পূর্ব্বাবধি,ততোধিক ভানুমতী তুমি!
যে সময়ে আসি আমি যুদ্ধযাত্রা ক'রে
কুরুক্ষেত্রে,ক্ষত্ররথী সহ একাদশ
অক্ষৌহিণী বলে;নাদিল নাগেন্দ্রবৃন্দ
ভৈরব নিনাদে সঘনে স্বনিল অশ্ব
শিরপা করিয়া হ্রেষারবে রথী যত
সহিত শিঞ্জিনীধ্বনি নাদিল কম্বুজে
আস্ফালিল ভীমবাহু বাহুযোধী যত..."
এই 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্যে'র স্রষ্টা হলেন রামকুমার নন্দী মজুমদার। কিন্তু কে তিনি? ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রান্তীয় বাংলায় যাদের কলমের ডগায় বাংলা সাহিত্যের বিস্ময়কর স্ফূরণ ঘটেছিল তাদের অন্যতম হলেন রামকুমার। উত্তর-পূর্ব ভারতের তদানীন্তন বিশিষ্ট পণ্ডিত পদ্মনাথ ভট্টাচার্য তাঁর সম্পর্কে লিখেছেন,গঙ্গাতীরে জন্ম হয়নি বলে তাঁর পরিচিতির গণ্ডী অনেক সীমিত।শ্রীহট্ট, ত্রিপুরা,ময়মনসিংহ, বড়জোর ঢাকা জেলার লোক ছাড়া তাঁর নাম কেউ শুনেছে কিনা সন্দেহ!কিন্তু গঙ্গাতীরে তাঁর জন্ম হলে দেশজুড়ে সবার কাছে পরিচিত থাকতেন তিনি।শতাব্দীকালেরও বেশি আগে পণ্ডিত পদ্মনাথ রামকুমার সম্পর্কে যা লিখেছিলেন আজও সম্ভবত তা প্রাসঙ্গিক। যাইহোক, ঊনবিংশ শতাব্দীর এই বিশিষ্ট সাহিত্য সেবী রামকুমার একাধারে যেমন ছিলেন সাধক কবি,পাঁচালি-কীর্ত্তন-যাত্রাপালা রচয়িতা,তেমনই নব্য সাহিত্য রচনাতেও সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি।১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য'।আবার রামকুমার রচিত পরমার্থ সঙ্গীত সম্পর্কে সমালোচকরা এমনটাও বলেছেন যে,যতদিন বাংলা ভাষার অস্তিত্ব থাকবে ততদিন কবি রামকুমারের সঙ্গীত রাশির বিলোপ হবে না। ইতিহাসবিদ ত্রিপুরার কৈলাসচন্দ্র সিংহ তাঁকে সাধকশ্রেণীতে স্হান দিয়েছিলেন।এমনকি কৈলাসচন্দ্রের ইচ্ছা ছিল কবি রামকুমারের জীবনচরিত সম্বলিত সংগীতাবলী দ্বারা তাঁর 'সাধক-সঙ্গীতে'র একটি স্বতন্ত্র খণ্ড প্রকাশ করা।কিন্তু কৈলাসচন্দ্র পরলোকগমন করায় তা আর ফলপ্রসূ হয়নি।রামকুমার নন্দী মজুমদার পরমার্থ সঙ্গীত,প্রাচীন ও আধুনিক কাব্য,বেশ ক'টি যাত্রাপালা,পাঁচালি,হোলি গানের সংকলন,প্রহসন,নাটক,প্রবন্ধ, মালিনীর উপাখ্যান নামে উপন্যাস ইত্যাদি রচনা করেছেন। তাঁর যাবতীয় সাহিত্য কীর্তি নিয়ে আলোচনা সহ তাঁর উদ্যমী জীবনকে দুই মলাটে অক্ষরবন্দি করা দুরূহ হলেও আগরতলার অক্ষর পাবলিকেশানস থেকে প্রকাশিত 'রামকুমার চরিত এবং রামকুমার নন্দী মজুমদারের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকৃতি বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য' গ্রন্হে আমরা তার একটা আভাস পেয়ে যাই। গ্রন্হটির সম্পাদনা করেছেন অমলেন্দু ভট্টাচার্য ও রামপ্রসাদ বিশ্বাস। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল উমেশচন্দ্র দেবের লেখা 'রামকুমার-চরিত'।কলকাতার বাগবাজারে বিশ্বকোষ প্রেসে তা মুদ্রিত হয়েছিল।প্রকাশক ছিলেন শিলচরের সরস্বতী লাইব্রেরির বৈদ্যনাথ দে।শতবর্ষেরও বেশি আগে যদি প্রান্তীয় বাংলার কোনও সাহিত্য সেবীর জীবন চরিত প্রকাশিত হয় তবে তাঁর সম্পর্কে বর্তমান যুগের পাঠকদেরও প্রবল কৌতুহল থাকা স্বাভাবিক। অমলেন্দু ভট্টাচার্য ও রমাপ্রসাদ বিশ্বাস সুসম্পাদিত এই গ্রন্হটি এই কৌতুহল কিছুটা মেটাতে সহায়তা করবে।গ্রন্হটির এক নাতিদীর্ঘ চমৎকার ভূমিকা প্রসঙ্গে ভারতের সুপ্রাচীন চরিত সাহিত্য রচনার ধারা এবং মধ্যযুগে প্রভু চৈতন্যের দিব্য জীবনকাহিনী রচনার মাধ্যমে বাংলা ভাষায় জীবনচরিত রচনার সূত্রপাত থেকে বিংশ শতাব্দীতে বরাক-সুরমা উপত্যকার বিভিন্ন জীবনচরিত রচনা প্রসঙ্গের অবতারণা করা হয়েছে।'রামকুমার-চরিত' লেখক সাহিত্যানুরাগী উমেশচন্দ্র দেব ছিলেন রামকুমারের রচনার মুগ্ধ পাঠক।আলোচ্য গ্রন্হটির ভূমিকা প্রসঙ্গে জানা যায়,উমেশচন্দ্র তাঁর গ্রন্হের উপাদান সংগ্রহ করেছিলেন রামকুমারের লেখা আত্মচরিত থেকে।জীবনী রচনার বিভিন্ন পর্যায়ে কবির সঙ্গে তাঁর পত্রালাপ হয়েছিল। 'রামকুমার-চরিত'-এর ভূমিকা লিখেছিলেন পদ্মনাথ ভট্টাচার্য।
'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য' মাইকেল মধুসূদন দত্তের 'বীরাঙ্গনা' পত্রকাব্যের এগারোটি পত্রের উত্তর। শ্রীরামপুর,আলফ্রেড যন্ত্রে মুদ্রিত 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য' প্রকাশিত হয়েছিল ১২৭৯ বঙ্গাব্দে অর্থাৎ ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে।ঊনবিংশ শতাব্দীতে বাংলার প্রান্তসীমা শিলচরে বসে রামকুমার কি ভাবে বঙ্গদেশের নবজাগরণের ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন এই প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজার চেষ্টা হয়েছে ভূমিকাতে।সম্পাদকদ্বয় ধারণা করেছেন কলকাতার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগের সূত্রে বাংলার উনিশ শতকের চিন্তা-চেতনা কাছাড়েও বিস্তৃত হয়েছিল।গ্রন্হটির ভূমিকায় সম্পাদকদ্বয় স্পষ্ট ভাবেই বলেছেন, এখন অব্দি রামকুমার নন্দী মজুমদারের সাহিত্য কর্মের সামগ্রিক মূল্যায়ন হয়নি।
উমেশচন্দ্র দেবের রামকুমার জীবনচরিত এবং রামকুমারের শ্রেষ্ঠ সাহিত্য কর্ম 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য' দুই মলাটে পুনর্মুদ্রিত করে আলোচ্য গ্রন্হটির মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে পাঠকদের কাছে। এই ভাবে ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর অধুনা দুষ্প্রাপ্য সাহিত্য কর্ম একবিংশ শতাব্দীর পাঠকদের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় পাওনা।মোট সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত রামকুমার জীবনচরিত।প্রথম অধ্যায়ে রয়েছে কবির শৈশব ও শিক্ষা,দ্বিতীয় অধ্যায়ে চাকরী,তৃতীয় অধ্যায়ে প্রাচীন সাহিত্য,চতুর্থ অধ্যায়ে নব্য সাহিত্য,পঞ্চম অধ্যায়ে সঙ্গীত ও সাধনা,ষষ্ঠ অধ্যায়ে সামাজিক জীবন এবং সপ্তম অধ্যায়ে রয়েছে কবির পারিবারিক জীবন। ১৮৩১ সালে শ্রীহট্টের পাটলী গ্রামে এক আর্থিক অসচ্ছল পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশবকালেই তিনি সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। ছোটবেলাতেই তিনি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে বসে মহাভারত পাঠ শুনতেন।বালক বয়সেই রামকুমার 'দাতাকর্ণ' নামে এক যাত্রাপালা রচনা করে ফেলেন।গ্রামে তা মঞ্চস্হও হয়।খুব অল্প বয়সেই তাঁর সাহিত্য প্রতিভার স্ফূরণ ঘটেছিল।যৌবনে কর্মসংস্থানের জন্য তিনি যখন শিলচর চলে আসেন তখন সবে মাত্র শিলচর ব্রিটিশ অধিকৃত কাছাড়ের জেলা সদর হিসেবে গড়ে উঠছে।শিলচরে সরকারি চাকরিতে যোগদানের পর তিনি নিজের কর্মকুশলতা ও একাগ্রতার জন্য একদিন কাছাড়ের ডেপুটি কমিশনার মেজর স্টুয়ার্টের আস্হাভাজন হয়ে উঠলেন। চাকরিরত অবস্থাতেই ইংরেজি শিক্ষা করতে লাগলেন তিনি।চাকরিতেও তাঁর ক্রমেই উন্নতি ঘটতে থাকে।রামকুমারের জীবনচরিতে তাঁর সাহিত্য সাধনার বিষয়ে বিস্তৃত আলোকপাত করা হয়েছে।সাহিত্য ক্ষেত্রে তিনি প্রাচীন ও নব্য উভয় সাহিত্যেই লব্ধপ্রতিষ্ঠ ছিলেন।কথিত আছে কবি রামকুমার নন্দী ১০ বছর বয়সে গান রচনা শুরু করেন। তিনি সখী-সংবাদ ও কবির গান রচনায় সিদ্ধহস্ত ছিলেন। বিশ বছর বয়সে রামকুমার 'শ্রীমতীর কলঙ্কভঞ্জন' পাঁচালি রচনা করেন।এর কয়েকটি লাইন-
" যৌবন-রতনে ভরি কিশোরীর দেহ-তরি
তাহে তোমায় কর্ণধার করে।
জানিয়া অতি সুজন পরিহরি পরিজন
পাড়ি দিল প্রেমের সাগরে।।"
রামকুমার এ রকম আরও ক'টি পাঁচালী রচনা করেন। পাঁচালি ছাড়াও তিনি ১১টি যাত্রা পালা রচনা করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে নিমাই সন্ন্যাস,সীতার বনবাস,কংসবধ ইত্যাদি।কবি রামকুমার উৎকৃষ্ট পাঁচালী ও যাত্রাকার হিসেবে বিশেষ খ্যাতি লাভ করেছিলেন। তাঁর রচনায় শ্রীহট্টের অনেক লৌকিক ভাব,ধারণা, রীতিনীতি, গ্রামীণ সৌন্দর্য ইত্যাদিতে মানুষ মুগ্ধ হয়েছিল।নব্য ধারায় তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি সম্পর্কে 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্যে'র কথা উল্লেখ করা যায়।মাইকেল মধুসূদনের 'বীরাঙ্গনা পত্রকাব্য' প্রকাশিত হলে রামকুমার এই কাব্যের উত্তর রচনায় এগিয়ে আসেন। সংশ্লিষ্ট সমালোচকদের মতে এই উত্তরকাব্য রচনায় মাইকেলের অনুকরণে রামকুমার বিস্ময়কর দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তদানীন্তন পত্র পত্রিকায় প্রশংসিত হয়েছিল এই পত্রোত্তর কাব্য। পৌরাণিক বিবরণ অনুসারে শোণিতপুরে(তেজপুর) ছিল বাণ রাজার রাজধানী।রাজা বাণের কন্যা উষা গোপনে শ্রীকৃষ্ণের পৌত্র অনিরুদ্ধকে বিবাহ করেছিলেন। এই বিবাহের সংবাদ জেনে ক্রুদ্ধ হন বাণ রাজা এবং অনিরুদ্ধকে বন্দী করেন। শ্রীকৃষ্ণ তখন শোণিতপুরে এসে বাণ রাজাকে যুদ্ধে পরাস্ত করে উষাকে নিয়ে দ্বারকায় প্রত্যাবর্তন করেন। পুরাণের এই কাহিনি নিয়ে রামকুমার রচনা করেছেন 'উষোদ্বাহ কাব্য'।উচ্চ প্রশংসিত হয়েছিল তাঁর এই কাব্যটিও।রামকুমার সঙ্গীত রচনা করতেন এবং সঙ্গীতের সাধনা করতেন। তাঁর জীবনচরিতে বলা হয়েছে লোকরঞ্জনের জন্য তিনি নিজ রচনায় নানা রসের অবতারণা করলেও পরমার্থ সঙ্গীত রচনাতেই তিনি অধিক মনোযোগী ছিলেন। তাঁর জীবনের নানা অধ্যায়ে নানা কাজে প্রতিফলিত হয়েছিল প্রবল ধর্মানুরাগ।তিনি যেমন পরমার্থ সঙ্গীত রচনা করেছেন তেমনই তাঁর জীবনযাপনও ছিলেন সাধকোচিত।জীবনচরিতে কবির সামাজিক জীবন সম্পর্কে বলা হয়েছে তিনি অত্যন্ত অনাড়ম্বর ভাবে জীবনযাত্রা নির্বাহ করতেন।কবির পারিবারিক জীবন সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে যে তিনি পেনশন নিয়ে বাড়িতে আসার পরও নিয়মিত সঙ্গীত ও সাহিত্য চর্চা করতেন। সে সময়ে সাধক কবি রামকুমার অনেক উৎকৃষ্ট পরমার্থ সঙ্গীত রচনা করেছিলেন।
এবার 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য' প্রসঙ্গে আসা যাক। এটি হচ্ছে মাইকেল মধুসূদনের 'বীরাঙ্গনা' পত্রকাব্যের এগারোটি পত্রের উত্তর। প্রথম সর্গে রয়েছে শকুন্তলার প্রতি দুষ্মন্ত,দ্বিতীয় সর্গে তারার প্রতি সোম এবং এই ভাবে পর্যায়ক্রমে রুক্ষিণী দেবীর প্রতি শ্রীকৃষ্ণ,কেকয়ীর প্রতি দশরথ,শূর্পণখার প্রতি লক্ষ্মণ,দ্রৌপদীর প্রতি অর্জুন, ভানুমতীর প্রতি দুর্য্যোধন,দুঃশলা দেবীর প্রতি জয়দ্রথ,জাহ্ণবীর প্রতি শান্তনু,উর্ব্বশীর প্রতি পুরুরবা ও একাদশ সর্গে রয়েছে জনার প্রতি নীলধ্বজ।পত্রোত্তর কাব্যটির নমুনা হিসেবে উল্লেখ করা যায় দ্রৌপদীর প্রতি অর্জ্জুনের পত্র।অর্জ্জুন অস্ত্র শিক্ষার্থে স্বর্গে থাকা কালে দ্রৌপদী তাঁকে যে পত্র লিখেছিলেন,অর্জ্জুন তার উত্তরে লিখছেন-
"উত্তরিব কি কহিয়া প্রাণেশি। তোমারে,
লিখিতে মনের কথা অসমর্থ আজি;
না কর বিশ্বাস যদি রসবতি! তুমি,
যে সুখে নিবসি স্বর্গে তোমার বিহনে।
বলিতে কি?স্মিতমুখি!ত্রিপিষ্টপধাম
সুখের আধার বটে,কিন্তু কোন কালে,
নাহি দেন সুখ দেবি! ত্রিদিব আমারে।..."
রামকুমারের 'বীরাঙ্গনা পত্রোত্তর কাব্য' সম্পর্কে অধ্যাপক ভূদেব চৌধুরী বলেছেন, এটি উনিশ শতকের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এক অভিনব আবিষ্কার। কিন্তু কাব্যটি রচিত হয়েছিল সেদিনের অখণ্ড বাংলার সীমানার বাইরে কাছাড়ের শিলচরে।বাংলার মূল ভূখণ্ড থেকে দূরে হলেও অঞ্চলটি সেদিন বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার ভূগোলে এক স্বতন্ত্র ভূমিকা অর্জন করেছিল।রামকুমারের সাহিত্য কর্ম তারই উজ্জ্বল স্বাক্ষর। এ ব্যাপারে আরও চর্চা,আলোচনা ও গবেষণায় বঙ্গ সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাসে নব অধ্যায় সংযোজিত হতে পারে।
আরও পড়ুন...