খেলনা যখন খেলনা নয়
নন্দিতা দত্ত
April 1, 2026
কি দারুন ! এটা বন্দুক! আমি তো বুঝতে পারিনি।খেলনা বন্দুক! এতো আসল বন্দুক মনে হচ্ছে। ওমা এই বন্দুক টা কিনে দিতেই হবে,বাচ্চার বায়না য় মা বাবা দিশাহারা।বন্দুক কিনে দেবেননা, কিন্তু বাচ্চাটার বায়না য় অতিষ্ঠ।এরপর ভাবলেন একটা কিনেই দিই। খেলনা তো।
আবার কোন কোন অভিভাবক ভাবেন,এটা টেকনোলজি ,খেলনা স্রেফ।
ভাবনা গুলো ঠিক বা বেঠিক এমন কোন সিদ্ধান্তে আমরা আসতে পারিনা।
যত দিন যাচ্ছে বাচ্চাদের খেলনা বন্দুক পাল্টাচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির হাত ধরে। নতুন নতুন টেকনোলজিতে আসল এবং নকল বন্দুকের পার্থক্য বোঝা যায় না। অনেক পরে দেখেছি ভিডিও গেমে বাচ্চারা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় অনেক বেশি ইন্টারেস্টেড। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার মধ্যে ছোট থেকেই মনের মধ্যে যে হিংসার জন্ম দেয়, অস্বীকার করা যায় না। হিংসায় লুকিয়ে থাকে জয়ের আনন্দ । আমাদের মনের অদম্য জিঘাংসা আমাদের হিংস্র করে তোলে। হিংসা বাড়ে। কয়েক হাজার জনের মধ্য থেকে হয়তো একটি বাচ্চা ছোটবেলায় খেলার ছলে যে বন্দুক দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতো বড় হয়ে তার হাতে( খুব কম সংখ্যক হলেও )খেলনা বন্দুক কখন যেন সত্যিকারের বন্দুকে পরিণত হয়েছে,সে নিজেও টের পায়নি।
যুদ্ধ যুদ্ধ করে সারা পৃথিবীর কিছু দেশ রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেখানে দাঁড়িয়েছে,সেখান থেকে বৌদ্ধিক চিন্তায় কেউ সরে আসছেনা।হাজার লক্ষ জীবনের বিনিময়ে পৃথিবীতে অশান্তি বাড়ছে।
আমাদের ছোট রাজ্যে বন্দুক এখন সদর্পে অনেকের কাছে আছে।তার আস্ফালন পরিবারের ছোট বাচ্চারাও দেখছে।সেই পরিবারের অভিভাবকদের অহংকার বন্দুক। বন্দুক সংস্কৃতি বন্ধ হবার নয়।যত অস্ত্র তত মুনাফা।কোটি টাকার খেলনা বন্দুক। যে কখন খেলনা থেকে বাস্তব হয়ে জীবনকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়েছে বা দিচ্ছে আমরা ভাবিনা।কোন কোন
নিম্নবিত্ত মধ্যবিত্ত উচ্চবিত্ত পরিবারের বাচ্চাদের পারিবারিক ক্ষমতা অনুযায়ী খেলনা বন্দুক কিনে দেওয়ার পর বাচ্চাদের মধ্যেও একধরনের হিংসা জন্ম নেয়।কার বন্দুক বেশি ভালো?সেই সুপ্ত ভাবনা থেকে। বাচ্চারা খেলার ছলে বন্দুক নিয়ে খেলে ,তাই বড়ড হয়ে বন্দুকবাজ হবে,এমন কথা নেই।পরিবেশ পরিস্থিতি যা তার বড় হওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকির মুখে।খেলনা বন্দুক দিয়ে খেলার মধ্যেই তার মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে মনোবিজ্ঞান পড়ান।।বন্দুক সংস্কৃতি নিয়ে কথা বললাম ড.অর্পিতা আচার্যের সাথে ।তার মতে,
"বাচ্চাদের হাতে বন্দুক তরোয়াল ইত্যাদি খেলনা কিনে দেওয়াকে আমরা সাধারণত একটা নিষ্পাপ সাধারণ কাজ বলেই মনে করি । কেউ কেউ এমনও বলেন যে এতে তাদের কল্পনাশক্তি বিকাশ হয়, মানসিক ভাবে সাহসী ও শক্তিশালী করে তোলে, ক্ষমতাবান হতে শেখার প্রাথমিক পাঠ দেয় ।
আবার ভিন্ন মতে, ছোট বয়সে অস্ত্র নিয়ে খেলা শিশুর মধ্যে ক্রোধপরায়ণতা, প্রতিহিংসালোভ, সমাজ বিরোধী মনোভাব গড়ে ওঠার ইন্ধন জোগায় ।
সবটাই নির্ভর করে পারিপার্শ্বিক, সামাজিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি ও শিক্ষার ওপর কারণ এর থেকেই শিশু খেলনাটিকে কীভাবে ব্যবহার করবে তার শিক্ষা পায় ।
প্লে থেরাপিতে অনেক সময় মনোবিদরা শিশুর খেলনা অস্ত্র ব্যবহারের রকমসকম দেখে তার আবেগীয় সমস্যার প্রকৃতিটি বুঝতে পারেন আবার এ ধরনের খেলনা অস্ত্র ব্যবহার করেই তার আবেগের বিমোচনেও সাহায্য করেন ।
আসলে খেলাটি অগোছালো ও অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক, নাকি নিয়ন্ত্রিত ও কল্পনাশক্তিনির্ভর (imaginative), তার ওপরই এর প্রভাব নির্ভর করে। যে পরিবারে সে বড় হচ্ছে, সেই পরিবারের মানুষদের ক্রোধ ও প্রতিহিংসার প্রকাশের ধরণ নেতিবাচক হলে শিশুর কাছে খেলনা আর খেলনা থাকে না, হয়ে ওঠে আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রকাশের মাধ্যম। যে সমাজ ও রাষ্ট্র যুদ্ধ, হত্যা, ঘৃণায় পরিপূর্ণ সে সমাজে বড় হওয়া শিশুও খেলনাকে আর খেলনা ভাবে না, ভাবে প্রতিশোধের সাংকেতিক প্রতিভূ, ক্রমশ একদিন যা তার কাছে ঘৃণা উদ্গারের মাধ্যম হয়ে ওঠে ।
জেন্ডার শিক্ষায় ছেলে বাচ্চাদের হাতে ছোট থেকে এ ধরণের খেলনা ব্যবহারের একটি ফল হিসেবে আমরা দেখি পরিণত বয়সে পুরুষদের মধ্যে আক্রমণাত্মক মনোভাব একটি প্রতিরক্ষামূলক আচরণ হয়ে ওঠে যা মেয়েদের তুলনায় অনেক বেশি ।
অভিভাবকদের অনুরোধ, তারা যেন শিশুদের খেলনা এবং বাস্তব অস্ত্রের মধ্যে পার্থক্য বুঝতে শেখান, এবং নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বোঝান।
এ ছাড়া, শিশুদের খেলার ধরন পর্যবেক্ষণ করুন এবং খেলা যদি অতিরিক্ত আক্রমণাত্মক বা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, তাহলে হস্তক্ষেপ করুন।
বরং তাদের এমন খেলাধুলায় উৎসাহিত করুন যা সহমর্মিতা (empathy) এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ (emotional management) শেখায়।
আজকালকাল যেসব ভিডিও গেম বেরোচ্ছে তা তো আবার এককাঠি সরেস । একই রকম ভাবে এরাও শিশুকে আত্মকেন্দ্রিক, ধৈর্যহীন, জয়লিপ্সু করে তুলছে, নেতিবাচক আবেগে ভরপুর করে তুলছে । যে আবেগহীন পৃথিবীতে আমরা তাদের হাতেখড়ি দিয়ে তৈরি করছি সে পৃথিবীতে বন্দুকের সীমানায় একদিন হয়তো সে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের মতো স্রষ্টাকেই নির্দ্বিধায় হত্যা করে এগিয়ে যাবে বিজয়ের রক্তাক্ত পথে।"
লক্ষ কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি?কত লোকের রুটির জোগান!
তাবলে কেউ বন্দুক বানাবে না? তাহলে কিভাবে বাচ্চাদের সামনে থেকে বন্দুক কে অদৃশ্য করে দেওয়া যাবে?গলির দোকান থেকে মল থরে থরে সাজানো খেলনা বন্দুকে আকৃষ্ট হয় বাচ্চারা। বন্দুক কি নেহাত খেলনা?
প্রশ্ন করেছিলাম মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড.হিল্লোল মুখোপাধ্যায় কে।,তিনি বললেন ,একজন মনোবিজ্ঞানীর দৃষ্টিতে বললে, বাচ্চাদের খেলনা বন্দুক দেওয়ার পেছনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোনো সচেতনভাবে হিংসা শেখানোর উদ্দেশ্য থাকে না, এটা বেশিরভাগ সময় সামাজিক প্রভাব, মিডিয়া, বা হয়তো খেলনা মানেই মজা এই সরল ধারণা থেকে আসে।
তবে এটাও সত্যি যে খেলাধুলার মাধ্যমে বাচ্চারা পৃথিবীকে বোঝে, তাই বারবার আক্রমণাত্মক খেলায় যুক্ত থাকলে কিছু ক্ষেত্রে তাদের চিন্তা ও আচরণে প্রতিযোগিতা, ক্ষমতা বা আক্রমণাত্মক প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে, যদিও এটা সরাসরি তাদের হিংস্র মানুষ বানিয়ে দেয় এমন না। আসল বিষয়টা হলো, বাচ্চা কী শিখছে, কীভাবে শিখছে, আর তার আশেপাশের বড়রা তাকে কীভাবে গাইড করছেন সেটাই আসল। যদি আমরা বিকল্পভাবে সহযোগিতা, সহানুভূতি ও সৃজনশীলতার খেলায় উৎসাহ দিই, তাহলে তার মানসিক বিকাশ আরও সুষম হয়। তাই খেলনা নয়, বরং খেলনার ব্যবহার এবং তার সাথে যুক্ত বার্তাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ।
অন্যভাবে খেলনা বন্দুক যে ভাবে আঘাত আনে বা ক্ষতিকর সে বিষয়টা কতটা ভাবি?
অনেক পুরোনো তথ্য থেকে জেনেছি,প্রক্ষেপণযোগ্য (অর্থাৎ গুলি বা ছোট বস্তু ছোড়া যায় এমন) খেলনা বন্দুক ছোট শিশুদের জন্য একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির উৎস। এই ধরনের খেলনা বাইরে থেকে নিরীহ মনে হলেও, এর ব্যবহারের ফলে শারীরিক আঘাতের ঘটনা ঘটতে পারে। এই কারণেই গবেষণাটিতে খেলনা বন্দুকের প্রকৃত ঝুঁকি এবং এগুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ বা বিধিনিষেধ কতটা প্রয়োজন—তা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। মার্কিন ভোক্তা পণ্য সুরক্ষা কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের খেলনা বন্দুক তুলনামূলকভাবে কম সংখ্যক আঘাতের কারণ হলেও, যে আঘাতগুলো ঘটে সেগুলোর শিকার বেশিরভাগই অল্পবয়সী ছেলে শিশু।
গবেষণায় দেখা যায় যে, এই সমস্যার সামগ্রিক মাত্রা বাস্তব আগ্নেয়াস্ত্রের তুলনায় অনেক কম, কিন্তু তা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষণীয় নয়। বিশেষ করে মুখমণ্ডল ও চোখে আঘাতের প্রবণতা বেশি হওয়ায় এর ঝুঁকি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে আনুমানিক ৮১৮টি আঘাতের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল, যার মধ্যে ২.৯% ক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এছাড়া এসব আঘাতের কারণে শত শত দিনের স্কুল ও কাজের ক্ষতি এবং হাজার হাজার দিনের দৈনন্দিন কার্যকলাপে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। গবেষণাটি আরও দেখায় যে, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং তা খেলনার মূল্য, বিক্রয় বা ব্যবহারিক আনন্দের উপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে না। তাই শিশুদের সুরক্ষার জন্য এই ধরনের খেলনার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা যুক্তিযুক্ত বলে বিবেচিত হয়।"(তথ্য ইন্টারনেট)
তবে ১৯৮০–৮১ সালের সেই চিত্রকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, পরিস্থিতি একদিকে যেমন কিছু ক্ষেত্রে উন্নত হয়েছে, অন্যদিকে নতুন কিছু জটিলতাও তৈরি হয়েছে। আধুনিক সময়ে খেলনা বন্দুকের ধরন অনেক পরিবর্তিত হয়েছে; এখন বাজারে পাওয়া যায় নানা ধরনের গান, এয়ার গান, এয়ারসফট বা জেল ব্লাস্টারের মতো খেলনা, যেগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বাস্তব বন্দুকের মতো আচরণ করতে সক্ষম। এর ফলে আঘাতের প্রকৃতিও কিছুটা বদলেছে। যদিও দীর্ঘমেয়াদে আঘাতের হার কিছুটা কমেছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তবুও যে আঘাতগুলো ঘটে সেগুলোর অনেক ক্ষেত্রে তীব্রতা বেড়েছে এবং কখনও কখনও গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
বর্তমান সময়েও শিশুদের মধ্যে চোখ ও মুখে আঘাতের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে রয়ে গেছে, যা দেখায় যে সমস্যার মূল ধরন পুরোপুরি পরিবর্তিত হয়নি। একই সঙ্গে, এখন অনেক ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বা দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে, যা আগের তুলনায় ঝুঁকির গুরুত্বকে নতুনভাবে সামনে আনে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, এখন নিরাপত্তা মানদণ্ড, সতর্কবার্তা এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে, যার ফলে সামগ্রিকভাবে দুর্ঘটনার হার কিছুটা কমানো সম্ভব হয়েছে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, গত কয়েক দশকে খেলনা বন্দুকের ঝুঁকি পুরোপুরি কমে যায়নি; বরং এর প্রকৃতি পরিবর্তিত হয়েছে। একদিকে নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতার ফলে আঘাতের সংখ্যা কিছুটা কমলেও, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত উন্নতির কারণে আঘাতের তীব্রতা বেড়েছে। তাই আজকের প্রেক্ষাপটেও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের খেলনার ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
শিশু চিকিৎসক ডাঃ গোপা চ্যাটার্জির ভাবনা একটু অন্যরকম। তিনি বলেন,বাচ্চাদের হাতে খেলনা বন্দুক তুলে দেওয়া, কিংবা তাদের যুদ্ধের পোশাকে সাজানো—এসবকে অনেকেই কেবল নিরীহ খেলা হিসেবে দেখলেও, গভীরে তা মানুষের আদিম হিংস্র প্রবৃত্তিকে অজান্তেই টিকিয়ে রাখার এক সূক্ষ্ম সামাজিক প্রক্রিয়া হিসেবে কাজ করতে পারে। তাই এই প্রবণতার পরিবর্তনে শুধু ব্যক্তিগত নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্তরেও কিছু সচেতন পদক্ষেপ জরুরি। যেমন, শিক্ষাব্যবস্থায় রিভাইসড কারিকুলামের মাধ্যমে সহমর্মিতা, মানবিকতা ও শান্তির মূল্যবোধকে জোর দেওয়া যেতে পারে; যুদ্ধাহত সৈনিকদের সেবায় সাধারণ মানুষকে যুক্ত করা বা কিশোর-কিশোরীদের অল্প সময়ের জন্য হাসপাতালে কাজের অভিজ্ঞতা দেওয়া তাদের বাস্তব জীবনের কষ্ট ও মানবিকতার সঙ্গে পরিচয় করাবে। একইসঙ্গে খেলনা বন্দুকের দাম বাড়িয়ে নিরুৎসাহিত করা এবং বিজ্ঞানসম্মত, সৃজনশীল খেলনার প্রসার ঘটানো শিশুদের ইতিবাচক মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। পরিবারে অভিভাবকদের কাজের সময় এমনভাবে নির্ধারণ করা দরকার, যাতে তারা সন্তানদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাতে পারেন, কারণ পারিবারিক বন্ধনই শিশুদের মানসিক গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশকে শান্ত ও সংবেদনশীল করে তুলতে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা, স্কুলে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং নিয়মিত যুদ্ধবিমুখ জনসচেতনতা গড়ে তোলা—এসব উদ্যোগ মিলেই একটি সহানুভূতিশীল, শান্তিপ্রিয় প্রজন্ম গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে।
মনোবিজ্ঞান আর শিশু চিকিৎসক যেভাবে ভাবছেন,তার পরের প্রজন্মের সমাজবিজ্ঞানের ছাত্রী অন্তর্লীনা ভট্টাচার্য ভাবেন-
"একজন অবিভাবক তার অপূর্ণ অ্যাম্বিশন বাচ্চাদের ওপর চাপিয়ে দেন, সেখানে বন্দুক পাওয়ার অথবা ক্ষমতা symbolise করে। একজনৎঅবিভাবক হতেই পারেন মধ্যবিত্ত কিন্তু তার aspiration টা ঠিক মধ্যবিত্ত নাও হতে পারে, সেটা পরিপূর্ণ করার মাধ্যম হিসেবে নিজেদের সন্তান কে দেখে। সেই 'unrealistic burden' টা বাচ্চাদের বয়ে নিয়ে যেতে হয়। বন্দুক সেই ক্ষেত্রে একটা নিছক খেলনা কখনোই না, ঠিক যেমন মেয়েদের রান্না বাটি দেওয়া হয় তাদের জেন্ডার রোল internalise করানোর জন্য তেমনি। ছেলে বাচ্চারা বন্দুক নিয়ে বড় হয় যখন তারা মনে করে হিংস্র হওয়াটা একটা স্বাভাবিক ব্যাপার এবং এটাই তার masculinity ফলানোর জন্য ঠিক ও স্বাভাবিক। তাই একটা নিছক খেলনা তাদের সাইকোলজি হয়ে দাঁড়ায় এবং সমাজে চলতে থাকা misogyny-র কারণ ও।"
বন্দুক নিয়ে এম কথা বলছি তার কারন আমাদের দেশ ও বিশ্বে নানা প্রান্তের খবরে যখন উঠে আসে নাবালকের বন্দুকের ছোঁড়া গুলিতে আহত বা নিহতের খবর,তখন ভয় গ্রাস করে।কোন পথে চলেছি আমরা! খেলনা বন্দুক তখন আর বাচ্চার খেলনা নয় তা জ্যান্ত হয় কিশোরের হাতে।কে রুখবে এ সংস্কৃতি?
তাইতো ক্লাস সেভেনে পড়ুয়া মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেটি( নাম লিখলাম না কিশোর বল)অনায়াসেই বলে এখন তো ছোট আমি তাই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলি মুখে ঢিসুম ঢিসুম বলে।বড় হলে নিজে বন্দুক কিনবো।আর সত্যিকারের বন্দুক।একটা গুলিতেই শেষ।এখন বন্দুকের গুলি প্লাস্টিকের ।তখন কিন্তু ---বলেই চোখ নাচায়।
তাকিয়ে ভাবি সরল কিশোরের চোখে এত হিংসার আগুন জ্বলছে কেন?
আরও পড়ুন...