ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা লিপি উপেক্ষিত? সাইনবোর্ডে দেবনাগরীর আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন
শ্রী ননী গোপাল দেবনাথ
March 8, 2026
ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটিতে মনে হয় আর বাংলা লিপি থাকবে না। ইউনিভার্সিটির মেইন রোডের পাশে দুই এক জায়গায় বাংলা লিপি থাকলেও ভিতরে সর্বত্র প্রায় ৯৯% দেবনাগরী হরফ দখল করে নিয়েছে। বাংলা বাদ বলতে গেলেই চলে। ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটির বর্তমান হোডিং ও প্রচার প্রসারে বাংলা লিপি ব্যবহার বাদ দিয়ে গুজরাটি নাগরি লিপির উপর মাত্রা লাগিয়ে দেবনাগরী লিপিতে সবকিছু লেখা হচ্ছে। যা এই রাজ্যের আদি ভাষা ও লিপি তথা মাতৃভাষার প্রতি যথেষ্ট অসন্মান।
আমি ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করবো যদি আপনাদের দেবনাগরীর প্রতি বেশী আবেগ থাকে বা চাপিয়ে দিতে চান তবু সব লেখা প্রথমে বাংলা লিপিতে রাখুন, তারপর দেবনাগরীতে রাখুন এবং সবশেষে অবশ্যই ইংরেজি লিপিতে রাখুন।এই প্রথাটি বিমান বন্দরে খুবই সুন্দর ভাবে দেখা যায়। এই রাজ্যে বা পশ্চিমবঙ্গের বিমান বন্দরের নাম প্রথমে বাংলাতে, তারপর হিন্দি বা দেবনাগরী এবং শেষে ইংরেজিতে আছে। শিক্ষার সর্বোচ্চ ক্ষেত্র ইউনিভার্সিটি বা বিশ্ববিদ্যালয় সঠিক শিক্ষা বা দিক নির্দেশনার পরিচয় বহন করুক এটা বিনম্র চিত্তে আহ্বান করবো বা করছি।
এই ভূ-ভারতে বাংলা ভাষা, বাংলা লিপি ও বাংলা সাহিত্যে থেকে উন্নত এখনও দ্বিতীয় কেউ তা প্রমাণ করতে পারেনি। বাংলা সংস্কৃত ভাষার ঔরসজাত সন্তান। একজন সংস্কৃত শিক্ষক খুব সহসাই বাংলা পড়াতে পারেন কারন সংস্কৃত ব্যাকরণ ও বাংলা ব্যাকরণ প্রায় এক ই। এমনকি ৯০% বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডার সংস্কৃত থেকে নেওয়া। সংস্কৃত ভাষার কোন লিপি নেই। তারপরেও বেশীরভাগ সংস্কৃত প্রাচীন নথি ও পুথি বাংলা লিপিতেই। দেবনাগরী সংস্কৃত ভাষার লিপি না। জার্মান বিজ্ঞানী দেবনাগরী ভাষায় ভারতীয় বেদ পড়াশোনা করেছেন বলে ইংরেজ আমলে সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় চালু করার সময় সংস্কৃত লিপির অভাব দেবনাগরী দিয়ে পূরণ করা হয়। সংস্কৃত ভাষা ভারতের অন্যান্য লিপিতেও লেখা হয় এক এক অঞ্চলের সুবিধার জন্য।
তাই সব জায়গা বা অঞ্চলের মাতৃভাষাকে সন্মান দিয়ে দ্বিতীয় বা তৃতীয় ভাষার প্রচার করা হোক।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্র ভাষা চারটি এবং ভারতের সংবিধান স্বীকৃত ভাষা ২২টি। সুইজারল্যান্ডের কোন অসুবিধা নেই। বরং উন্নতি হয়েছে বা হচ্ছে। কিন্তু ভারতের অসুবিধা হচ্ছে তাই দিন দিন নানান ফন্দিতে দেবনাগরী চাপানোর সুযোগ খুঁজা হচ্ছে। প্রয়োজনে মানুষ দেবনাগরী কেন তামিল মালায়ালাম, স্পেনিশ, জার্মান, চাইনিজ ও রাশিয়ান এবং হিব্রুও শিখবে। যা শ্রেষ্ঠ তা মানুষ এমনিতেই গ্রহণ করবে। জোর করতে হবে না। জোরাজুরি করলে বরং রিয়েকশন বাড়ে। তা জাতির ও মানুষের ক্ষতি হয়।
ধন্যবাদ ও অভিনন্দন
ত্রিপুরা ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষকে আশাকরি পরবর্তী সময়ে এইগুলো সংশোধন করে নেবেন।
আরও পড়ুন...