বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর লক্ষ্যপূরণে এক দূরদর্শী রূপরেখা
প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা মুখ্যমন্ত্রী, ত্রিপুরা
February 2, 2026
কেন্দ্রীয় বাজেট হলো ভারত সরকারের বার্ষিক সাংবিধানিক আর্থিক প্রতিবেদন যা আসন্ন অর্থবছরের জন্য আনুমানিক রাজস্ব এবং ব্যয়ের রূপরেখা প্রদান করে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ, করনীতি নির্ধারণ, স্বাস্থ্য ও পরিকাঠামোর মতো ক্ষেত্রগুলিতে অর্থ বরাদ্দ, সমাজকল্যাণ ক্ষেত্রের বিকাশ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বাজেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭-১৮ সালে কেন্দ্রীয় (সাধারণ) বাজেটের মধ্যে রেল বাজেটকে অন্তর্ভুক্ত করে ভারত সরকার। এই অন্তর্ভুক্তির উদ্দেশ্য ছিল সরকারি আর্থিক বিষয়গুলিকে একই নিয়মে ফেলা, দক্ষতা উন্নয়ন, উন্নত মাল্টিমডেল পরিবহণ পরিকল্পনা তৈরি করা যাতে একটি একক বাজেটের বিল তৈরি করা যায়।
২০১৪ সালের মে মাসে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ‘সংস্কার, সম্পাদন এবং রূপান্তর' কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতির উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে, যার লক্ষ্য অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং ডিজিটাল ভারত গঠন। বিগত ১২ বছরে সরকারের উদ্যোগগুলিতে ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং সামাজিক কল্যাণ ইত্যাদি অগ্রাধিকার পেয়েছে। ২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার লক্ষ্যে নীতি তৈরি হয়েছে যার ফলে উৎপাদন ক্ষেত্রের উপর জোর, প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনমূলক একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বিকশিত ভারত সংকল্প’ কথাটির মধ্যে নিহিত রয়েছে প্রকৃত ভারত গঠনের লক্ষ্যে সরকারের অঙ্গীকার। এই ভারত হবে সামাজিক ব্যাধি থেকে মুক্ত ভারত, সমাজের সকলের জন্য যেখানে থাকবে সুযোগ সুবিধা এবং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রবৃদ্ধি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উন্নত ভারত।
আর্থিক সংস্কার ও প্রবৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, সামাজিক কল্যাণ ও গরীব কল্যাণ থেকে শুরু করে মহিলা ক্ষমতায়ন, দিব্যাঙ্গদের সশক্তিকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসন, সংস্কৃতি, যুব কল্যাণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আর্থিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ভারত। ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (UPI) ব্যবস্থায় আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি ঘটেছে এবং এক্ষেত্রে ভারতই অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। জি.এস.টি. বাস্তবায়নের ফলে একরকম কর ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। আয়কর সংগ্রহ বেড়েছে বহুগুণ। ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সাথে জনগণকে যুক্ত করার উদ্যোগের ফলে ৫০ কোটিরও বেশি জনধন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এতে সুবিধাভোগীদের কাছে সরাসরি অর্থ পৌঁছেছে।
২০১৪ সাল থেকে ভারতে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে। জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ, বিমান পরিষেবা, পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ডিজিটাল পরিষেবা চালু, বন্দেভারত ট্রেন পরিষেবা চালু সহ রেল পরিষেবা উন্নয়নের জন্য ব্যাপক পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অগ্রাধিকার ক্ষেত্রের মধ্যে আর একটি ক্ষেত্র হলো সামাজিক কল্যাণ এবং গরীব কল্যাণ। রয়েছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় সমাজের সকলের জন্য আবাসন সুনিশ্চিত করার উদ্যোগ। মহিলাদের জন্য স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বচ্ছ ভারত অভিযানে গ্রামীণ এলাকায় ১০০ শতাংশ স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রান্নার ব্যবস্থা করার জন্য দারিদ্র্য সীমার নীচে বসবাসকারী পরিবারগুলি থেকে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে রান্নার গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে উজ্জ্বলা যোজনায়, জল জীবন মিশনে গ্রামীণ এলাকায় ট্যাপের মাধ্যমে পানীয়জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে দরিদ্র সুবিধাভোগীকে ৫ লক্ষ টাকার বার্ষিক স্বাস্থ্য বীমা প্রদান করা হয়েছে।
জাতীয় সুরক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সারা দেশে সন্ত্রাসবাদী হামলা ও নকশালদের হিংসাত্মক ঘটনা হ্রাস করে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরে আর্টিকেল ৩৭০ বিলুপ্ত করার মতো বলিষ্ঠ নীতিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তিন তালাক নিষিদ্ধ করা, ওয়ান র্যাঙ্ক ওয়ান পেনশন (OROP) বাস্তবায়ন, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভর ভারত নীতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের প্রভাব অনেকটাই বেড়েছে। সরকার সংস্কৃতি ক্ষেত্রেও তার কর্মোদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিকশিত ভারত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উত্তর পূর্বাঞ্চল এক অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। ফলে উত্তর পূর্বাঞ্চল তার সমস্যাদীর্ণ এক অঞ্চলের ভাবমূর্তি মুছে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। বিগত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে এই অঞ্চলে প্রভূত উন্নতিসাধন হয়েছে। সন্ত্রাস কবলিত ও পরিকাঠামোর দিক থেকে পিছিয়ে থাকা অঞ্চল থেকে এক প্রগতি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও সমৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এই উত্তর পূর্বাঞ্চল।
সমাজের সকল অংশের মানুষের উন্নয়নের জন্য অবিরাম প্রচেষ্টার অঙ্গ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী শ্রীমতী নির্মলা সীতারমন আজ ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশ করেন এবং এই বাজেটে প্রবৃদ্ধি, স্থায়িত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের লক্ষ্যে ভারতের আর্থিক অগ্রাধিকার প্রকাশ পেয়েছে।
এবছরের বাজেট হচ্ছে যুবশক্তি চালিত বাজেট এবং তিন প্রকার কর্তব্য দ্বারা অনুপ্রেরিত যথা - (i) প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ঘটনাবলির দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে আর্থিক প্রবৃদ্ধির হার বাড়ানো ও তা বজায় রাখা (ii) জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা, তাদের ক্ষমতায়িত করা এবং সমৃদ্ধির পথে ভারতের প্রচেষ্টায় সামিল হওয়া এবং (iii) সবকা সাথ, সবকা বিকাশ নিশ্চিত করা। এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, প্রত্যেকটি পরিবার, সমাজ ও অঞ্চলে যেন সম্পদ, সুযোগ সুবিধা ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। বাজেটে এই তিন প্রকার কর্তব্য পালনে যে সহযোগী ইকো সিস্টেমের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে কাঠামোগত সংস্কারকে ধরে রাখা, শক্তিশালী আর্থিক ক্ষেত্র এবং এ.আই. সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ। প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন, পরিকাঠামো উন্নয়ন, প্রত্যেক পরিবারের আয় বৃদ্ধি এই বাজেটের মূল লক্ষ্য। প্রত্যেকটি পরিবারের উপার্জন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
ভারত সরকারের এবারের সাধারণ বাজেটের প্রধান স্তম্ভ ও ঘোষণাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা, মূলধনী ব্যয়, আয়কর সংস্কার, রেলপথ ও পরিবহণ, স্বাস্থ্য ও ওষুধ, প্রযুক্তি ও শিল্প, উত্তর পূর্ব ভারতের জন্য বিশেষ ঘোষণা, বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়ন, পরিবেশ বান্ধব পরিবহণ, শিল্প করিডোর, স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, পর্যটন ও কর্মসংস্থান, নারী ক্ষমতায়ন এবং কৃষি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্র। আর্থিক লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজকোষ ঘাটতি (ফিসকেল ডেফিসিট) জি.ডি.পি-র ৪.৩ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। মূলধনী ব্যয়ে পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য রেকর্ড ১২.২ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রেলপথ ও পরিবহণ ক্ষেত্রে বারাণসী-শিলিগুড়ি সহ দেশে ৭টি নতুন হাইস্পিড রেল করিডোর নির্মাণের ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য ও ওষুধ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো ক্যান্সারের ১৭টি জীবনদায়ী ক্যান্সার ওষুধে শূন্য শতাংশ শুল্ক এবং ৭টি বিরল রোগের ওষুধের উপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রযুক্তি ও শিল্প ক্ষেত্রে সেমি কন্ডাক্টর খাতের জন্য ৪০ হাজার কোটি টাকা এবং বায়োফার্মা সেক্টরের উন্নয়নে বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পের অধীনে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
ভারত সরকারের এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর পূর্ব ভারতের জন্য বিশেষ ঘোষণায় উত্তর পূর্বাঞ্চলকে পূর্বোদয় পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, যা ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্ব ভারতের বিকাশকে ত্বরান্বিত করবে এবং বিকশিত ভারত ২০৪৭ গঠনে বিশেষ ভূমিকা নেবে। বাজেটে প্রস্তাব রাখা হয়েছে বৌদ্ধ সার্কিট উন্নয়নে উত্তর পূর্ব ভারতের সংস্কৃতি ও পর্যটন বিকাশে অরুণাচল প্রদেশ, সিকিম, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম এবং ত্রিপুরা রাজ্যকে যুক্ত করে একটি সুসংগঠিত বৌদ্ধ সার্কিট তৈরি করা হবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলে দূষণহীন যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় বাজেটে উত্তর পূর্বাঞ্চলের জন্য ৪ হাজার ই-বাস প্রদানের ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের বাজেটে
স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে আসামের তেজপুরে অবস্থিত মানসিক স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে রিজিওনাল অ্যাপেক্স ইন্সটিটিউটে উন্নীত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তাছাড়া ৩টি নতুন জাতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান এবং ৭টি বর্তমান প্রতিষ্ঠানের উন্নীতকরণ করা হবে। ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি তৈরির স্কিমে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। ৩টি ক্যামিকেল পার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মেগা টেক্সটাইল পার্ক গড়ে তোলা হবে।
ত্রিপুরার অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশে এই বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। বৌদ্ধ সার্কিট প্রকল্পে ত্রিপুরাকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে পিলাক বা বেণুবন বিহারের মতো ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে পর্যটকদের ভিড় বাড়বে, এতে স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। সরকার ১০ হাজার ট্যুরিস্ট গাইডকে প্রশিক্ষিত করার ঘোষণা করেছে, যার বড় সুবিধা পাবে ত্রিপুরা
নারী ক্ষমতায়নকেও এবারের বাজেটে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বাজেটে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির মহিলাদের উৎপাদিত পণ্য বিপণনের জন্য বিশেষ ‘শি মার্ট’ (SHE Mart) গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড করিডোরের প্রভাব ত্রিপুরার সাথে ভারতের মূল ভূখন্ডের রেল যোগাযোগকে আরও সহজ ও দ্রুততর করবে। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে কৃষি ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে ‘ভারত বিস্তার (Bharat- VISTAAR) নামক একটি বহুভাষী এ.আই. টুলের ঘোষণা করা হয়েছে যার মাধ্যমে ত্রিপুরার কৃষকরা স্থানীয় ভাষায় আবহাওয়া ও চাষাবাদ সংক্রান্ত পরামর্শ পাবেন।
কেন্দ্রীয় বাজেটে ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নতির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত নতুন পণ্য পরিবহণ করিডোর ডানকুনি ও সুরাটকে যুক্ত করবে। ৫টি আঞ্চলিক মেডিক্যাল হাব তৈরি করা হবে। পাশাপাশি আয়ুর্বেদ চিকিৎসাভিত্তিক সর্বভারতীয় স্তরে তিনটি প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলা হবে। 2026-27 অর্থবর্ষে ষোড়শ ফিনান্স কমিশনে সুপারিশ অনুযায়ী রাজ্যগুলিকে ১.৪ লক্ষ কোটি টাকা রাজ্যগুলিকে প্রদান করা হবে। ৫০০টি জলাশয় ও অমৃত সরোবরের সুসংহত উন্নয়নের জন্য নতুন করে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ক্রীড়াক্ষেত্রে সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য খেলো ইন্ডিয়া মিশনের মারফৎ উদ্যোগ নেওয়া হবে। নতুন ইনকাম টেক্স আইন চালু করা হবে।
ভারত সরকারের ২০২৬-২৭ সালের বাজেটটি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং আঞ্চলিক সুষম উন্নয়নের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করেছে। ত্রিপুরার মতো উত্তর পূর্বের রাজ্যগুলির জন্য পর্যটন এবং ডিজিটাল কৃষি পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা প্রদান করবে। উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে শুরু করে বিশ্বমানের পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, গ্রামীণ এলাকার সশক্তিকরণ থেকে অত্যাধুনিক এ.আই. প্রযুক্তি গ্রহণ, আধুনিক খেলাধুলা থেকে শুরু করে পবিত্র ধর্মীয় স্থান, সবকিছুই রয়েছে এই বাজেটে, যা নাকি আমাদের যুবা, মহিলা ও গ্রামের কৃষকদের, ছোট ও বড় শহরবাসীদের আশা আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হবে তাদের আত্মনির্ভর করে ভারতকে আন্তর্জাতিক স্তরে এক সক্ষম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলবে। এক কথায় ২০৪৭-এর মধ্যে বিকশিত ভারত গঠনের লক্ষ্যে এই বাজেট হচ্ছে একটি দূরদর্শী রূপরেখা।
আরও পড়ুন...