এক জোড়া জুতো
অনুরাগ বর্দ্ধন
January 15, 2026
অভীক বর্মনের বাবা বিমল বর্মন ছিলেন এক সময়ের অলিম্পিয়ান। ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে তিনি ভারতের হয়ে দৌড়বিদ হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন। পদক জিততে না পারায় দেশে ফিরে তাঁর নাম খুব কম মানুষই মনে রেখেছিল। ভারতের বহু অলিম্পিয়ানের মতোই বিমলবাবুর জীবনও হয়ে উঠেছিল সংগ্রামের। সংসার চালাতে তিনি কলকাতার রাস্তায় ফল বিক্রি করতেন। কিন্তু দারিদ্র্য কখনও তাঁর স্বপ্ন কেড়ে নিতে পারেনি। তাঁর একটাই ইচ্ছে ছিল—ছেলে অভীক একদিন বড় অ্যাথলিট হবে, এমন অ্যাথলিট, যাকে দেশ মনে রাখবে। ছোট থেকেই অভীকের দৌড়ানোর প্রতি আগ্রহ ছিল। বাবার চোখে সে ছিল অসম্পূর্ণ এক স্বপ্নের পূর্ণতা।
অভীকের ১৬তম জন্মদিনে বিমলবাবু তাকে উপহার দেন এক জোড়া ধাতব স্পাইক জুতো। সেই জুতো কিনতে তিনি প্রায় এক বছর ধরে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়েছিলেন। অভীকের কাছে সেই জুতো-জোড়া শুধু জুতো ছিল না, ছিল বাবার স্বপ্নের ভার। কিন্তু সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এক বছর পর, অভীকের বয়স যখন মাত্র ১৭, তখন হঠাৎ হৃদ্রোগে বিমল বর্মনের মৃত্যু হয়। পরিবার ভেঙে পড়ে। তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী। কোনও রকমে সরকারি সাহায্যে খাবারের ব্যবস্থা টুকু চলতে থাকে।
তবুও অভীক তার বাবার স্বপ্ন ছাড়েনি। পুরোনো সেই স্পাইক জুতো পায়ে দিয়েই সে প্রতিদিন অনুশীলন চালিয়ে যায়। একের পর এক রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। জুতো ক্ষয় পেয়ে গেলেও মনোবল ভাঙেনি। অবশেষে কঠোর পরিশ্রম ফল দেয়। ২৪ বছর বয়সে, ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পায় অভীক। এবার সে পায় এক বড় জুতোর স্পনসর। সেই সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ২০০ মিটার দৌড়ে সে জিতে নেয় সোনার পদক। দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার নাম—যে সম্মান তার বাবা কোনদিন পাননি।
আজ, ১৫ বছর পরে, অভীক বর্মন ভারতের অন্যতম পরিচিত ক্রীড়াবিদ। নিজের স্পোর্টস ব্র্যান্ড আছে, আয় শত কোটিরও বেশি। আলিবাগে তার বিশাল বাড়ি। কিন্তু সেই বাড়ির এক ঘরে আজও রাখা আছে স্মৃতির ভাণ্ডার। কাঁচের ফ্রেমে সাজানো রয়েছে এক জোড়া পুরোনো স্পাইক জুতো—যেখান থেকে শুরু হয়েছিল সবকিছু। বাবার স্বপ্ন আজ সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছেছে, কিন্তু শিকড় সে ভুলে যায়নি।
নবম শ্রেণি, ভবনস্ ত্রিপুরা বিদ্যামন্দির
(The editor of tripurainfo.com warmly invites students and aspiring writers to share their thoughts, ideas, and creativity through articles. Understanding that every great writer starts somewhere, tripurainfo.com is committed to providing a platform where young minds can express themselves without fear of judgment.
This initiative is not about perfection but about encouragement, growth, and giving voice to new perspectives. We believe that by supporting young talents today, we are shaping the storytellers, journalists, and thought leaders of tomorrow.
So, if you have a story to tell or an idea to share, don’t hesitate—send in your articles. Let your words inspire others, and let tripurainfo.com be the stage where your voice is heard!)
আরও পড়ুন...