যুবশক্তিই জাতির ভবিষ্যৎ: বিবেকানন্দের দর্শন
ড. সুমন আলি
January 12, 2026
আজ ১২ জানুয়ারি, স্বামী বিবেকানন্দের জন্মদিন - জাতীয় যুব দিবস হিসেবে পালিত হয়—এই দিন কেবল স্মরণ নয়, বরং স্বামী বিবেকানন্দের যুবদর্শনকে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন করে মূল্যায়নের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। স্বামী বিবেকানন্দের দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে যুবশক্তি—যা তিনি জাতি গঠনের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। আত্মবিশ্বাস, চরিত্রগঠন, মানবসেবা ও জাতীয় চেতনার সমন্বয়ই তাঁর যুবদর্শনের মূল ভিত্তি। শিকাগো ভাষণের মাধ্যমে তিনি বিশ্বমঞ্চে আত্মমর্যাদাশীল ভারতীয় চিন্তার পরিচয় দেন এবং যুবসমাজকে সহনশীলতা ও মানবিকতার পথে আহ্বান জানান। আজ বেকারত্ব, হতাশা ও মূল্যবোধের সংকটে আক্রান্ত যুবসমাজের কাছে বিবেকানন্দের আদর্শ এক শক্তিশালী পথনির্দেশক। তাঁর মতে, আত্মবিশ্বাসী ও নৈতিক যুবসমাজই পারে জাতির ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।
ভারতের ইতিহাসে এমন কিছু মহাপুরুষ আছেন, যাঁদের চিন্তা ও দর্শন সময়ের সীমা অতিক্রম করে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। স্বামী বিবেকানন্দ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে ছিল যুবসমাজ—কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন, “যুবশক্তিই জাতির প্রকৃত ভবিষ্যৎ”। জাতি গঠনের ক্ষেত্রে যুবসমাজের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা বিবেকানন্দ শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং তাঁর জীবন, বক্তৃতা ও কর্মের মাধ্যমে যুবসমাজকে আত্মবিশ্বাসী, চরিত্রবান ও দায়িত্বশীল নাগরিকে পরিণত করার দিশা দেখিয়েছেন। জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে স্বামী বিবেকানন্দের যুবদর্শন নতুন করে আলোচনার দাবি রাখে। আজ যখন বেকারত্ব, নৈতিক অবক্ষয়, হতাশা, মাদকাসক্তি ও দিশাহীনতার মতো সমস্যায় যুবসমাজ বিপর্যস্ত, তখন বিবেকানন্দের আদর্শ এক শক্তিশালী পথনির্দেশক হিসেবে আমাদের সামনে উপস্থিত।
যুবসমাজ সম্পর্কে স্বামী বিবেকানন্দের দৃষ্টিভঙ্গি:
স্বামী বিবেকানন্দ যুবসমাজকে কখনও দুর্বল বা অপরিণত হিসেবে দেখেননি। বরং তিনি যুবকদের মধ্যে অসীম সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি—
“আমাকে একশো খাঁটি যুবক দাও, আমি ভারতকে বদলে দেব।”
এই কথার মধ্যেই যুবসমাজের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস প্রতিফলিত হয়। বিবেকানন্দ মনে করতেন, যুবসমাজ যদি সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও আত্মবিশ্বাসে গড়ে ওঠে, তবে জাতির পুনর্গঠন অনিবার্য। তিনি পাশ্চাত্যের ভোগবাদী যুবসংস্কৃতির অনুকরণকে সমর্থন করেননি; আবার সংকীর্ণ গোঁড়ামিকেও তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর যুবদর্শন ছিল আত্মমর্যাদা, মানবসেবা ও জাতীয় চেতনার সমন্বয়।
শিকাগো ভাষণ ও স্বামী বিবেকানন্দের যুববার্তা:
১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর, আমেরিকার শিকাগো শহরে অনুষ্ঠিত World’s Parliament of Religions–এ স্বামী বিবেকানন্দের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল একটি ধর্মীয় বক্তব্য ছিল না; এটি ছিল ঔপনিবেশিক মানসিকতার বিরুদ্ধে এক দৃপ্ত আত্মপ্রকাশ, মানবিক ঐক্যের ঘোষণা এবং সর্বোপরি বিশ্ব যুবসমাজের প্রতি এক চিরন্তন আহ্বান। যে সময়ে ভারত রাজনৈতিকভাবে পরাধীন এবং মানসিকভাবে হীনমন্যতায় আক্রান্ত, সেই সময় শিকাগোর মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিবেকানন্দ ভারতীয় সভ্যতা, সংস্কৃতি ও দর্শনের মর্যাদা বিশ্বদরবারে প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর ভাষণের সূচনা— “Sisters and Brothers of America”— এই কয়েকটি শব্দই মুহূর্তের মধ্যে বিশ্ববাসীর মন জয় করে নেয় এবং মানবভ্রাতৃত্বের এক নতুন ইতিহাস রচনা করে।
উনিশ শতকের শেষভাগ ছিল ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদ ও পাশ্চাত্য আধিপত্যের যুগ। প্রাচ্যকে তখন অবৈজ্ঞানিক, পশ্চাৎপদ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন বলে চিহ্নিত করা হতো। এই প্রেক্ষাপটে বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ ছিল এক সভ্যতাগত প্রতিবাদ। তিনি নিজেকে কোনো পরাধীন জাতির প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং আত্মমর্যাদাশীল ভারতীয় দর্শনের বাহক হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাঁর ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেন— “সাম্প্রদায়িকতা, সংকীর্ণতা ও ধর্মীয় উন্মাদনা বহুদিন ধরে এই সুন্দর পৃথিবীকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।” এই বক্তব্য কেবল ধর্মীয় সহনশীলতার আহ্বান নয়, বরং যুক্তিবাদ, মানবিকতা ও নৈতিক চেতনার পক্ষে এক শক্তিশালী বার্তা—যা যুবসমাজের জন্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
শিকাগোর মঞ্চে উচ্চারিত বিবেকানন্দের শব্দগুলো আজও বিশ্ব যুবসমাজকে পথ দেখায়—সংঘাতের বদলে সংলাপ, ঘৃণার বদলে সহনশীলতা, হীনমন্যতার বদলে আত্মমর্যাদা। বিশ্বায়নের যুগে যেখানে সাংস্কৃতিক সংঘাত বাড়ছে, সেখানে বিবেকানন্দের দর্শন এক নৈতিক দিশারি।
চরিত্র গঠন: বিবেকানন্দের যুবদর্শনের মূল ভিত্তি:
স্বামী বিবেকানন্দের মতে, প্রকৃত শিক্ষা সেই শিক্ষা যা চরিত্র গঠন করে। তিনি বলতেন— “চরিত্রই মানুষের প্রকৃত সম্পদ।” আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে কেবল ডিগ্রি, চাকরি ও প্রতিযোগিতার উপর জোর দেয়, সেখানে বিবেকানন্দ শিক্ষা ব্যবস্থার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন নৈতিকতা, আত্মসংযম ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার দিকে। যুবসমাজ যদি নৈতিক চরিত্রে দুর্বল হয়, তবে তারা জাতির ভবিষ্যৎকে সংকটে ফেলতে পারে—এই উপলব্ধি থেকেই তিনি যুবকদের চরিত্রবান হওয়ার আহ্বান জানান। চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে তিনি সাহস, আত্মসংযম, সততা ও নিষ্ঠাকে অপরিহার্য গুণ হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। তাঁর মতে, ভীরুতা যুবসমাজের সবচেয়ে বড় শত্রু। তাই তিনি বলতেন— “দুর্বলতা পাপ।”
আত্মবিশ্বাস ও আত্মশক্তিতে বিশ্বাস:
বিবেকানন্দের যুবদর্শনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হল আত্মবিশ্বাস। তিনি যুবসমাজকে নিজের শক্তির উপর আস্থা রাখতে শিখিয়েছেন। তাঁর মতে, মানুষ নিজের ভেতরের শক্তিকে উপলব্ধি করতে পারলেই সে বিশ্ব পরিবর্তনের ক্ষমতা অর্জন করে। আজকের যুবসমাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, তুলনামূলক সাফল্য ও বাহ্যিক স্বীকৃতির ফাঁদে পড়ে আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে। বিবেকানন্দের দর্শন এই সংকট থেকে মুক্তির পথ দেখায়। তিনি যুবসমাজকে বলেছিলেন— “নিজের উপর বিশ্বাস রাখো, তাহলেই তুমি জগৎকে বিশ্বাস করতে পারবে।” এই আত্মবিশ্বাস কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য নয়, জাতীয় পুনর্গঠনের জন্যও অপরিহার্য।
যুবশক্তি ও জাতি গঠন:
স্বামী বিবেকানন্দ জাতি গঠনের প্রশ্নে যুবসমাজকে কেন্দ্রীয় শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের আগেও সমাজের নৈতিক ও বৌদ্ধিক স্বাধীনতা জরুরি। যুবসমাজ যদি সচেতন, দায়িত্ববান ও মানবিক হয়, তবে রাষ্ট্র আপনাতেই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। তিনি যুবকদের কেবল আত্মোন্নতিতেই সীমাবদ্ধ থাকতে বলেননি; বরং দরিদ্র, নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে যুবজীবনের অন্যতম কর্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তাঁর বিখ্যাত উক্তি— “দরিদ্র নারায়ণ সেবা”—এই দর্শনেরই প্রতিফলন।
যুবসমাজ ও সমাজসেবা:
বিবেকানন্দের যুবদর্শনে সমাজসেবার গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বিশ্বাস করতেন, যুবসমাজ যদি সমাজের দুর্বল অংশের পাশে দাঁড়ায়, তবে সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর প্রতিষ্ঠিত রামকৃষ্ণ মিশন আজও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবসেবার মাধ্যমে সেই আদর্শকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। আজকের যুবসমাজের কাছে বিবেকানন্দের এই বার্তা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। আত্মকেন্দ্রিকতা ও ভোগবাদ থেকে বেরিয়ে এসে সমাজের জন্য কাজ করাই যুবশক্তির প্রকৃত পরিচয়।
যুবদর্শন ও জাতীয় চেতনা:
স্বামী বিবেকানন্দ সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর জাতীয় চেতনা ছিল মানবতাবাদী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। তিনি যুবসমাজকে ধর্ম, ভাষা ও অঞ্চলের ঊর্ধ্বে উঠে জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ যখন সমাজে বিভাজন ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে, তখন বিবেকানন্দের এই দর্শন যুবসমাজকে ঐক্যের পথে পরিচালিত করতে পারে। যুবসমাজ যদি বিভেদমূলক রাজনীতির হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তবে জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারে তলিয়ে যাবে—এই সতর্কবার্তা বিবেকানন্দ বহু আগেই দিয়েছিলেন।
ভারতীয় দার্শনিকদের দৃষ্টিতে যুবশক্তি:
মহাত্মা গান্ধী: গান্ধীর মতে, যুবসমাজের নৈতিক শক্তিই জাতির প্রকৃত শক্তি। তিনি বলেছিলেন—“The future depends on what we do in the present.” গান্ধীর সত্য ও অহিংসার দর্শন বিবেকানন্দের চরিত্র ও সাহসের দর্শনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ যুবসমাজকে সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তার প্রতীক হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর মতে— “যে শিক্ষা মনকে মুক্ত করে না, সে শিক্ষা পূর্ণ নয়।”
এই ধারণা বিবেকানন্দের “মানুষ গড়ার শিক্ষা”-র সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
ড. বি. আর. আম্বেদকর: আম্বেদকর যুবসমাজকে যুক্তিবাদী ও অধিকার সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে— “Educated youth must become the conscience of society.” এখানে বিবেকানন্দের আত্মশক্তি ও আম্বেদকরের সামাজিক ন্যায়ের দর্শন মিলিত হয়।
ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম ও যুবদর্শন: ড. এ. পি. জে. আবদুল কালাম যুবসমাজকে জাতির ভবিষ্যৎ রূপকার হিসেবে দেখেছিলেন। তাঁর ভাষায়— “Dreams of youth transform into the destiny of a nation.” এই বক্তব্য বিবেকানন্দের যুবশক্তি দর্শনের আধুনিক প্রতিধ্বনি।
পাশ্চাত্য দার্শনিকদের ভাবনায় যুবসমাজ:
অ্যারিস্টটল: অ্যারিস্টটল বলেছিলেন— “The character of citizens shapes the destiny of the state.” এই বক্তব্য বিবেকানন্দের চরিত্রকেন্দ্রিক জাতি গঠনের ধারণার প্রতিধ্বনি।
জন স্টুয়ার্ট মিল: মিল যুবসমাজের স্বাধীন চিন্তাকে গণতন্ত্রের প্রাণ বলে মনে করতেন। বিবেকানন্দও স্বাধীন চিন্তার পক্ষে ছিলেন, তবে তা যেন সামাজিক দায়িত্ববোধের সঙ্গে যুক্ত থাকে—এই সতর্কতা দিয়েছেন।
কার্ল মার্কস: মার্কস যুবসমাজকে সামাজিক পরিবর্তনের চালিকাশক্তি হিসেবে দেখেছিলেন। যদিও দর্শনগত পার্থক্য আছে, তবুও শোষিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নে মানবিক সাযুজ্য লক্ষণীয়।
সংবিধান ও বিচারব্যবস্থার দৃষ্টিতে যুবসমাজ: ভারতের সংবিধান যুবসমাজকে গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি হিসেবে বিবেচনা করে। Article 51A নাগরিকদের মৌলিক কর্তব্যের মাধ্যমে যুবসমাজকে দায়িত্ববান নাগরিকে পরিণত করার আহ্বান জানায়। Unni Krishnan v. State of A.P. (1993) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে— “Education is not merely for employment but for creating responsible citizens.” এই বক্তব্য বিবেকানন্দের শিক্ষাদর্শনের সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আধুনিক সংকট ও বিবেকানন্দের প্রাসঙ্গিকতা:
আজকের যুগে যুবসমাজ নানা সংকটে আক্রান্ত— বেকারত্ব, মানসিক চাপ, মূল্যবোধের অবক্ষয়, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ইত্যাদি সমস্যা যুবজীবনকে জটিল করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে বিবেকানন্দের দর্শন এক শক্তিশালী দিশারি। তিনি যুবসমাজকে শিখিয়েছিলেন—সংগ্রামই জীবনের স্বাভাবিক পথ। হতাশা নয়, সাহস ও কর্মই সমস্যার সমাধান। তাঁর মতে, যুবজীবনের শক্তি সঠিক পথে পরিচালিত হলে তা জাতির ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে।
যুবসমাজের প্রতি রাষ্ট্র ও শিক্ষাব্যবস্থার দায়িত্ব:
বিবেকানন্দ কেবল যুবসমাজকেই দায়িত্ববান হতে বলেননি; তিনি রাষ্ট্র ও সমাজকেও যুববান্ধব হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। শিক্ষাব্যবস্থা যদি চরিত্র গঠন ও মানবিক মূল্যবোধে ব্যর্থ হয়, তবে যুবসমাজ দিশাহীন হয়ে পড়বে। আজ প্রয়োজন এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যা বিবেকানন্দের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যুবসমাজকে কেবল দক্ষ কর্মী নয়, বরং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
সর্বোপরি, স্বামী বিবেকানন্দের দর্শন আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—
যুবশক্তিই জাতির প্রকৃত ভবিষ্যৎ। যুবসমাজ যদি আত্মবিশ্বাসী, চরিত্রবান ও মানবিক হয়, তবে জাতির অগ্রগতি অনিবার্য। আজকের বিশ্বায়িত ও সংকটপূর্ণ সময়ে যুবসমাজের সামনে পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি জাতিকে নতুন দিশা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। বিবেকানন্দ, গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ, আম্বেদকর থেকে শুরু করে আধুনিক বিচারব্যবস্থা—সকলেই একস্বরেই বলেছেন, যুবশক্তির সঠিক বিকাশ ছাড়া জাতির অগ্রগতি অসম্ভব। জাতীয় যুব দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিন নয়; এটি আত্মসমালোচনা ও আত্মনির্মাণের এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। আজকের যুবসমাজ যদি বিবেকানন্দের আদর্শকে জীবনের পথে গ্রহণ করে, তবে ভারত কেবল অর্থনৈতিক শক্তিতেই নয়, নৈতিক ও মানবিক শক্তিতেও বিশ্বনেতৃত্বে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। সেই ভবিষ্যতের পথ নির্মাণের দায়িত্ব যুবসমাজের হাতেই—কারণ শেষ পর্যন্ত সত্য একটাই— যুবশক্তিই জাতির ভবিষ্যৎ।
আরও পড়ুন...